বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারত সফরে যাওয়ার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী -মুমিনুল

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েলিংটন টেস্টে খেলতে নেমে পাঁজরের ইনজুরিতে পড়ে আগেভাগে দেশে ফিরতে হয়েছে মুমিনুলকে। গত ২২ জানুয়ারি মুশফিকের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মুমিনুল। গতকাল বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরিকে দেখিয়েছেন চোটের বর্তমান অবস্থা। যদিও আগামী সপ্তাহে ফিটনেসের সার্টিফিকেট পেলেই মিলেবে ভারত যাওয়ার টিকিট। অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে প্রায় দেড় মাসের সফরে ছিলেন মুমিনুল হক। সিডনিতে ৯ দিনের ক্যাম্প শেষে নিউজিল্যান্ডে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। যদিও খেলেছেন মাত্র একটি টেস্ট। তাও আবার ইনজুরিতে পড়ে আগেভাগে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের সাথে এ নিয়ে কথা বলেছেন মুমিনুল। নিজের ইনজুরি নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘এখন আগের চেয়ে ব্যথা কিছুটা কম। আশা করি যাওয়ার আগেই ঠিক হয়ে যাবে। যাওয়ার আগে ফিটনেস টেস্ট দেব। যদি ওখানে পাস করি, ইনশাল্লাহ ভারতে যাব।’ নিউজিল্যান্ডে ছিল পেসারদের রাজত্ব। কিন্তু ভারতে থাকবে স্পিনারদের আধিপত্য। এছাড়াও ভারতের কন্ডিশন নিউজিল্যান্ডের মতো নয়। এ নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘ওভাবে এখনও চিন্তা করিনি। আমরাতো পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাব। স্পিন, পেস দুটোই থাকবে। ব্যক্তিগতভাবে এখন অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে। নিউজিল্যান্ড সফরে যা পারিনি চেষ্টা করব ভারত সফরে সেসব করে দেখাতে। চেষ্টা করব বড় ইনিংস খেলতে।’ নিউজিল্যান্ড সফরে দল ব্যর্থ হলেও মুমিনুল নিজের জন্য এই সিরিজটাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন, ‘পুরো সিরিজে হয়তো ফল ভালো হয়নি। তারপরও আমার কাছে মনে হয় অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমি যা শিখেছি, আমি তার পুরো জীবনের অর্ধেক বেশি সময় শিখেছি। এগুলো আমার পরবর্তী ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অনেক বেশি কাজে দেবে। ’ নিউজিল্যান্ডের সফর শেষে নিজেকে আরও পরিণত মনে হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন তিনি। শুধু টেস্ট খেলবেন এমনটা ভেবেই নিউজিল্যান্ড গিয়েছিলেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশ যখন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছিল তখন দলের সঙ্গে থেকেই অনুশীলন করেছেন। এখন ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ ১২ জানুয়ারি শুরু হলেও মুমিনুল নিজেকে প্রস্তুত করতে পুরো সফরেই দলের সঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। এজনই তিনি বোর্ড, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রথমে বোর্ড, টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ হাথুরুসিংহেকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। আমি সফরে অনেকদিন আগেই গিয়েছি। পুরো একমাস সময় পেয়েছি। এটা আমার খুব কাজে লেগেছে। ওখানে অনুশীলন করাটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য উপকারী হবে। ’ নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে মুমিনুল রান করেছেন ৮৭। পাঁজরের ব্যথা না ভোগালে হয়তো ইনিংগুলোকে আরও লম্বা করতে পারতেন মুমিনুল। তবু তিনি সন্তুষ্ট। মুমিনুল বলেন, ‘পুরো এক মাস ওখানে কন্ডিশনে ক্যাম্পের মতো অনুশীলন করেছি। ওই জিনিসটা অনেক কাজে দিয়েছে। এর কারণে আমার কাছে ব্যাটিং করা খুব সহজ ছিল। দেশের বাইরে আমার টেস্ট সেঞ্চুরি নেই। চেষ্টা করব ভারত ও শ্রীলংকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার।’ সীমিত ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে প্রায় নির্বাসিত মুমিনুল এখনই ফেরার কথা ভাবছেন না। তার চিন্তা টেস্টে আরও ধারাবাহিক হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ফেরা। নিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু ভাবছি না। আপাতত টেস্ট নিয়ে চিন্তা করছি। টেস্টে আরও ভালো মতো খেলে ও ভালো কিছু করে ওখানে সুযোগ করে নিতে চাই। ’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ