শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র করমজলের সাঁকোগুলো ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস: সুন্দরবন পূূর্ব বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে প্রতিদিন পর্যটকদের কাছ থেকে অর্জিত হচ্ছে প্রচুর অর্থ। কিন্তু বনের মধ্যে পর্যটকদের প্রবেশের কাঠের সাঁকোগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। এখন সেগুলো অনেকটাই মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সুন্দরবন পূূর্ব বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জ করমজলের সংরক্ষিত এলাকায় বনের মধ্যে প্রবেশে কাঠের তৈরি সাঁকোগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এখন নড়বড়ে এবং দুর্বল হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সাঁকোগুলোর কয়েকটি স্থানের কাঠ খুলে পড়েছে। কয়েকটি স্থানে সংযোগে যেনতেনভাবে বাঁশ দেওয়া হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মেরামত না করে গাছপালা ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকরা অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পের গেট দিয়ে বনের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে ঢুকতেই নড়বড়ে এবং ভাঙা, দুর্বল কাঠের তৈরি সাঁকো। হাঁটলেই দুলছে। দর্শনার্থীদেরকে সুন্দরবনের দৃশ্য দেখার আগে চলার পথ দেখে সতর্ক চলাচল করতে হচ্ছে। একটু অন্যমনস্ক হলেই ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কাঠের সাঁকো দিয়ে বনের মধ্যে কিছুদূর যেতে দেখাগেলো ভাঙা সাঁকোর ফাঁকার মধ্যে পড়ে গেছেন একজন শিক্ষিকা। তাকে উদ্ধারে ব্যস্ত সহকর্মীরা। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে তাদের সকল আনন্দ বেদনায় পরিণত হল। তাকে নিয়ে শুরু হলো দৌড়াদৌড়ি। কিছুদূর যেতে বনের মধ্যে থেকে নদীর লেকের দিকে যাওয়া একটি কাঠের সাঁকো ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। দীর্ঘদিন যাবত এটি ভেঙে পড়ে আছে। দর্শনার্থীরা যাতে চলাচল করতে না পারে সে জন্য তার ওপর গাছের ডালপালা ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সানোয়ার হোসেন নামের একজন পর্যটক জানান, গত কয়েক মাস আগে এসেছিলাম বন্ধুবান্ধবসহ। তখন যে অবস্থা দেখেছি, বর্তমানে অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। ঘোরাফেরার কাঠের সেই পাটাতনগুলোর অবস্থা আরো করুণ হয়েছে। কোন সংস্কার নেই। ক্রমেই চলাচলের জায়গা কমে আসছে।
সুন্দরবন ভ্রমণে আসা খানজাহান আলী বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবেশ পথের কাঠের সাঁকোগুলোর এ অবস্থা বিরাজ করলেও কোন প্রতিকার নেই। পর্যটক এবং দর্শনাথীরা সুন্দরবনের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে সুন্দরবনে আসেন। কিন্তু বনের মধ্যের কাঠের তৈরি পাটাতনের পথ করুণ অবস্থায় রয়েছে।
সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (পূর্ব) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে কাঠের পাটাতনের সাঁকোগুলো নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছরই এগুলো মেরামত করা প্রয়োজন। কিন্তু এই খাতে সরকারি বরাদ্দ থাকে না।
এগুলোকে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ