মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আগৈলঝাড়ায় তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার যাচাই বাছাই শুরু

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা : মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র সভাপতিত্বে  মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই কার্যক্রম গত শনিবার সকালে শুরু হয়েছে। স্থানীয় এমপি’র উপস্থিতিতে যাচাই বাছাই কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা। উপজেলা পরিষদ হল রুমে সকালে যাচাই বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আইয়ুব মিয়া, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক হাওলাদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধি আ. রইচ সেরনিয়াবাত, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মো. লিয়াকত আলী হাওলাদার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিনিধি মো. আবু তাহের মিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্যই এই যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ জানান, যে সকল বীর সেনা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন অথচ দীর্ঘ দিনেও তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে না পেরে সরকারি নির্দেশে অন-লাইনে আবেদন করেছেন তাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হবে।
এছাড়াও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণকারী নামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। এর মধ্যে অনলাইনে আবেদনকারী ২৪৯জন এবং বিশেষভাবে আবেদনকারী ৪৯ জনসহ ২৯৮জন তালিকাভুক্ত আবেদনকারীসহ অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র পর্যায়ক্রমে যাচাই বাছাই করা হবে। সূত্র মতে, উপজেলায় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত ১৪ জনের বিরুদ্ধে সম্মানী ভাতা বন্ধ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইয়ুব মিয়াসহ ৪১জন মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। তাদের অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন- চৌদ্দমেধা গ্রামের জগদীশ মন্ডল, বড় বাশাইল গ্রামের রাবেয়া বেগম, বসুন্ডা গ্রামের আ. আজিজ মোল্লা, পশ্চিম সুজনকাঠি (মোল্লাপাড়া) গ্রামের আইউব আলী মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের নাসিমা বেগম, বাগধা গ্রামের আ. রহমান মিয়া, নগরবাড়ি গ্রামের জিএম আবু বকর সিদ্দিক, পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের আমিরুন্নেছা বেগম, তালুকদার আ. আজিজ, মমতাজ বেগম, কালুপাড়া গ্রামের আ. সরদার, মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের আ. খালেক সরদার, ফুল্লশ্রী গ্রামের দাস সঞ্জয় কুমার।
এদিকে স্থানীয় এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র উপস্থিতিতে যাচাই বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার প্রকৃতবীর মুক্তিযোদ্ধারা। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতোমধ্যেই একটি চক্র বাছাই কমিটির সদস্যদের নামে বেশ কিছু লোক জনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে। ওই চক্রটি যাচাই বাছাই কমিটির সদস্যদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ