বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পৃথিবী কি ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাবে?

বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন পপুলিজম বা লোকরঞ্জনবাদ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এই আলোচনার মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বে লোকরঞ্জনবাদ উত্থানের বিষয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনসাধারণের আবেগ-অনুভূতি কিংবা ভয়কে পুঁজি করে গড়ে ওঠা সরকার বা রাজনীতি সমর্থনের মধ্যে হিটলারের মতো স্বৈরাচারীর উত্থানের ঝুঁকি থাকে। স্পেনের পত্রিকা এল পাইসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পোপ এমন সময় এ কথা বললেন, যখন পপুলিস্ট নেতা হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণে বেশ উচ্চকণ্ঠেই মার্কিন জাতীয়তাবাদের কথা উচ্চাণ করেছেন। তাঁর ওই বক্তব্য উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটায় কিনা তেমন আশঙ্কা অনেকেই প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই যেন এখন বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের শপথের পরদিনই জার্মানিতে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী নেতারা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সেখানে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা মারিন লো পেন বলেছেন, পশ্চিমাদের ভবিষ্যৎ নীতি হবে দেশপ্রেম। তিনি আরো বলেছেন- চলতি বছর ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে যে নির্বাচন হবে, সেখানে জনগণ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। এই তিন দেশেই জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় আসবে।  লো পেন ২০১৭ সালকে ‘ইউরোপীয়দের জাগরণবর্ষ’  হিসেবে অভিহিত করেন। বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের অভিবাসন বিরোধী ফ্রিডম পার্টির প্রধান ও কট্টর মুসলিম বিরোধী হিসেবে পরিচিত নেতা গিয়ার্ট ভিল্ডার্স বলেন, ‘গতকাল নতুন এক আমেরিকা, আজ নতুন এক ইউরোপ ... রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের জোয়াল কাঁধ থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ইউরোপের মানুষ জেগে উঠেছে’। এমন বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদী বক্তব্য পৃথিবীকে কোনদিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের উদ্বোধনী বক্তব্য ইসরাইলকে আরো বেপরোয়া হতে উৎসাহ যুগিয়েছে। ইসরাইলী কর্মকর্তারা ২২ জানুয়ারি পূর্ব জেরুসালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ৫৬৬টি বাড়ি তৈরির অনুমতি দিয়েছেন। জেরুসালেমের ডেপুটি মেয়র মেইর তুরজেমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নিয়ম-নীতি বদলে গেছে। বারাক ওবামার আমলের মতো আমাদের হাত বাঁধা নেই। আমরা এখন বসতি নির্মাণ করতে পারছি।’ ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টের দপ্তর ইসরাইলের এই উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে একে জাতিসংঘ প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পপুলিজমের যে উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে বিশ্বের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মুসলমানদের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে লোকরঞ্জনবাদের উত্থান বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, এটি আতঙ্কের। তার মতে, ১৯৩৩ সালে জার্মানিতে পপুলিজমের উত্থানের বিষয়টি সর্বনাশের এক বড় উদাহরণ। পোপ আরো বলেন, ‘ওই সময় জার্মানি ভেঙ্গ পড়েছিল। তখন মানুষ একজন নেতা খুঁজছিল। অ্যাডলফ হিটলার নামের এক তরুণ তখন বলেছিল- আমি পারবো, আমি পারবো। জার্মানরা সেই হিটলারকে ভোট দিল। সে কিন্তু ক্ষমতা দখল করেনি, জনগণই তাকে ভোট দিয়েছিল এবং সে তার সেই জনগণকেই ধ্বংস করে দেয়।’ পোপ ফ্রান্সিস তো ইতিহাসের সত্যের আলোকে তাঁর উপলব্ধির কথা বর্ণনা করলেন। এখন দেখার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনীতিবিদ ও এলিটরা পোপের মূল্যায়নকে কতটা উপলব্ধি করেন এবং সম্মান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ