শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্টেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ড সফরটা মোটেও ভালো হলোনা বাংলাদেশের। হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সফর শুরু করা বাংলাদেশ সফরটা শেষ করেছে হোয়াইটওয়াশ দিয়েই। সফরের প্রথমে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। এর পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও টাইগাররা হয় হোয়াইটওয়াশ। আর শেষ পর্যন্ত ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজেও হোয়াইওয়াশ দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৭ উইকেটে হারার পর গতকাল দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরেছে ৯ উইকেটে। শেষ টেস্টে জয়ের জন্য মাত্র ১০৯ রানে টার্গেট দিতে পারে তামিম বাহিনী। ফলে ক্রাইস্টচার্চে ১০৯ রানের সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ফলে শেষ টেস্টে একদিন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পরও একদিন আগেই টেস্টে রেজাল্ট হয়েছে। বাংলাদেশ খেলতে পারেনি পুরো ৫ দিন। জয়ের জন্য মাত্র ১০৯ রানে টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দর্দুান্ত শুরু করেছিল দুই ওপেনার টম ল্যাথাম ও জিত রাভাল। দলটির টার্গেট ছিল ১০ উইকেটে ম্যাচ জেতার। তবে দলীয় ৫৬ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাব্বীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার রাভাল। তিনি বিদায় নেন ৩৩ রানে। তবে আর কোন উইকেট পতন হতে দেয়নি ল্যাথাম ও গ্র্যান্ডহোম। দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন এই দুই ব্যাসম্যান। নাজমুলের ওভারে পর পর দুটি ছয় মেরে জয় নিশ্চিত করেন গ্র্যাান্ডহোম। ল্যাথাম সর্বোচ্চ ৪১ রানে আর গ্র্যান্ডহোম ১৫ বলে অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রানে। ৮ উইকেট নিয়ে এই টেস্টে ম্যাচসেরা হন টিম সাউদি। গতকাল চতুর্থ দিনের বল মাঠে গড়ায় আধা ঘণ্টা দেরিতে। ৫৬ রানে হেনরি নিকলস ও টিম সাউদি ৪ রানে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন। তবে সাকিব আল হাসান তার দিনের তৃতীয় ওভারে সাউদিকে ফিরিয়ে দেন। ১৭ রানে থামে তার ইনিংস। এটি সাকিবের চতুর্থ উইকেট। মিরাজ ৯৮ রানে নিকলসকে বোল্ড করেন। ২৬ রানে রান আউট হন নেইল ওয়াগনার। সাকিব ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৩৫৪ রানে অলআউট করেন। ক্রাইস্টচার্চে টস হেরে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ২৮৯ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৩৫৪ রানে অলআউট হয়ে লিড নেয় ৬৫ রানে। ৬৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আর টাইগররা ১৭৩ রানে অলআউট হয়ে নিউজিল্যান্ডের জয়ের পথটা অনেক সহজ হয়ে যায়। ক্রাইস্টচার্চে বাট করতে নেমে দলীয় ১৭ রানে প্রথম উইকেটের পতন দিয়ে বাজে শুরু বাংলাদেশের। এরপর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ১৭৩ রানেই একে একে বিদায় নিয়েছে সবাই। গতকাল শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। তামিম ক্রাইস্টচার্চে নেতৃত্বে কিছুটা ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। ক্রাইস্টচার্চে দুই ইনিংসে তার রান ৫ ও ৮। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ এ ওপেনার। এবারও টিম সাউদির শিকার তিনি। দলীয় ১৭ রানেই অধিনায়কের বিদায় হয়। এরপর তিনজন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছেন। যাদের কেউই বড় জুটি গড়তে পারেননি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বড় ভরসা ছিলেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ৪১ রানের জুটি গড়েন তারা। সৌম্য ব্যক্তিগত ৩৬ রানে কলিন ডি গ্রান্ডহোমের শিকার হন। একই ওভারে জিত রাভালের কাছে জীবন পাাওয়া সাকিব আল হাসান ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি। ৮ রানে সাউদির দ্বিতীয় শিকার হন সাকিব। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে সাকিবের জুটি ছিল ১৫ রানের। আর মাহমুদউল্লাহও আউট হন ৩৮ রানে। বিদায়ের আগে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১৯ রানের একটি জুটি গড়েন। ক্রিজে নেমে ১১ বল খেলে রানের খাতা না খুলেই ওয়াগনারের কাছে উইকেট হারান সাব্বির। নুরুল হাসান সোহান কোনও রান করতে পারেননি। তবে নাজমুল করেছেন মাত্র ১২ রান। এরপর নামা মেহেদী হাসানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ২২ বলে ৪ রান করে বোল্টের শর্ট বলে ল্যাথামের তালুবন্দী হন মেহেদী। টপ অর্ডাররা না পারলেও শেষ দিকে জুটি গড়ে পুঁজি বাড়াতে চেস্টা করেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বী ও তাসকিন আহমেদ। এই জুটিতে আসে সর্বোচ্চ ৫১ রান। যদিও ৩৩ রানে ব্যাট করতে থাকা তাসকিনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন বোল্ট। শেষ দিকে রুবেল ৭ রানে বিদায় নিলে রাব্বী অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। কিউইদের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন ওয়াগনার, বোল্ট ও সাউদি। একটি উইকেট নিয়েছেন গ্র্যান্ডহোম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯/১০
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.৪ ওভারে ৩৫৪/১০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫২.৫ ওভারে ১৭৩ (তামিম ৮, সৌম্য ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৮, সাকিব ৮, শান্ত ১২, সাব্বির ০, নুরুল ০, মিরাজ ৪, তাসকিন ৩৩, রাব্বি ২৫*, রুবেল ৭; বোল্ট ৩/৫২, সাউদি ৩/৪৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/২৭, ওয়াগনার ৩/৪৪)।
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৮.৪ ওভারে ১১১/১ (লক্ষ্য ১০৯) (রাভাল ৩৩, ল্যাথাম ৪১*, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩৩*; তাসকিন ০/২১, মিরাজ ০/২৭, কামরুল ১/২১, সাকিব ০/২৮, শান্ত ০/১৩)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ