সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ট্রাম্পের বিজয়ে ইউরোপে মাথাচাড়া দিচ্ছে চরম ডানপন্থী দলগুলো

২৩ জানুয়ারি, দ্য গার্ডিয়ান : ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চরম দক্ষিণপন্থী দলের প্রার্থী ম্যারিন লি পেন সারা ইউরোপের ভোটরদেরকে জেগে ওঠার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ভোটারদের অনুসরণ করার আহবান জানিয়েছেন। জার্মানিতে ইউরোপের দক্ষিণপন্থী লোকরঞ্জনবাদী দলগুলোর নেতাদের এক নজিরবিহীন সমাবেশে লি পেন বলেন, ব্রেক্সিটের মধ্য দিয়ে ‘ইউরোপের সব ঘুটির পতনের’ অপ্রতিরোধ্য তরঙ্গাভিঘাতের সূচনা হবে।
কয়েক শ’ স্রোতার উপস্থিতিতে তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা হলো ‘দ্বিতীয় অভ্যুত্থান’।
তিনি বলেন, “ইউরোপ সম্পর্কে তার (ট্রাম্পের) অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দমননীতি সমর্থন করেন না।” স্রোতাদের হর্ষোৎফুল্ল অভিনন্দনের মধ্যে তিনি আরও বলেন, “২০১৬ সাল ছিলো অ্যাংলো-স্যাক্সনদের জেগে ওঠার বছর। আর আমি নিশ্চিত ২০১৭ হবে সেই বছর যখন ইউরোপীয় মহাদেশের জনগণের জাগরণ ঘটবে।”
গত শনিবার জার্মানির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের শহর কোবল্যাঞ্জ-এ “ইউরোপের জন্য স্বাধীনতা” স্লোগান নিয়ে ওই সমাবেশের আয়োজন করেন দেশটির অলটারনেটিভ ফার ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) পার্টির মারকাস প্রেটজেল।
সমাবেশে লি পেন জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি (মার্কেল) জার্মানির জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লাখো উদ্বাস্তুকে সেদেশে আশ্রয় দিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছেন। এর আগে গত সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঠিক একই ভাষায় মার্কেলের সমালোচনা করেন।
জার্মানিতে ওই সমবেশের লক্ষ্য ছিলো লি পেন-এর ফ্রন্ট ন্যাশনাল, জার্মানির এএফডি, ইতালির নর্দার্ন লিগএবং নেদারল্যান্ডস-এর ফ্রিডম পার্টির মতো ইউরোপের চরম ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো।
আগে চরম ডানপন্থী দলগুলো গোটা মহাদেশেই প্রকাশ্যে সমাবেশের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতো। তখন কেবল স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী নীতির মাধ্যমে তাদের মধ্যকার যোগাযোগ সীমিত ছিলো। হঠাৎ কখনও একাধিক দেশের ডানপন্থী নেতাদের মিটিং হলেও তা গোপনে করা হতো অথবা খুব সামান্যই প্রচার পেতো। এবারই প্রথম গত শনিবার এএফডি নেতা ফ্রকি পেট্রি এবং লি পেন জনসমক্ষে উপস্থিত হন।
মাত্র চার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এএফডি পার্টি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জার্মানির নির্বাচনে ১৪ শতাংশ ভোট পাবে বলে আশা করছে এবং এর ফলে দলটি প্রথমবারের মতো বুন্ডেস্টাগ বা পার্লামেন্টে প্রবেশ করবে। দলটির নিজস্ব স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা লক্ষ্যভেদী উস্কানির এক কৌশল প্রয়োগ করছে। এই কৌশল অনুযায়ী পার্টির একজন নেতা আগে থেকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনও বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও বিরূপ মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনাম হবেন। এরপর প্রথমে পার্টির নেতৃত্ব ওই মন্তব্যের নিন্দা করবেন কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেটা মেনে নেবেন এবং ওই মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখবেন।
এদিকে লি পেন তার দলের সাবেক নেতা এবং তার বাবা জিন ম্যারি লি পেন-এর চরমপন্থী অবস্থানের থেকে দৃশ্যত দূরত্ব বজায় রাখছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার এই অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই পাল্টে গেছে এবং ইউরোপের অন্যান্য চরম ডান নেতাদের প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে সেটি হলো ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া।
শনিবারের চরম ডান নেতাদের সমাবেশের খবর সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে জার্মানির মূল ধারার গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হয় এই বলে যে, “গণমাধ্যম এর আগে প্রতিবেদন করার সময় সাংবাদিকতার মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি হলো খবর প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা। তবে ঘটনা যাই হোক, চরমপন্থীদের এই সমাবেশ যে অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপের রাজনীতিতে বড় ধরনের অভিঘাত সৃষ্টি করতে পারে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ