শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জাতিসংঘ কি করে সেটাই দেখার বিষয়

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর কয়েক দশক ধরে নিয়মানুগ নির্যাতন চালিয়ে আসছে দেশটি। ইয়াংহি লি পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকা পরিদর্শন শেষে ২০ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সেখানকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুর্বিষহ বলে বর্ণনা করেছেন। মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী ইয়াংগুনে এক সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, গত অক্টোবরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে চলমান এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য দেশটিতে ১২ দিনের সফর শেষে লি বলেন, দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযানের ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা অস্বীকার করছে। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। ওই দমন অভিযানের ফলে গত তিন মাসে প্রায় ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান প্রেিতবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযান চালানোর সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবাধিকার রক্ষার কোনো তোয়াক্কা করেনি বলে তিনি জানান। তাদের অমানবিক অত্যাচারে বাধ্য হয়ে অসহায় রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত রোহিঙ্গা গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। আর এখন তা উঠে আসলো জাতিসংঘের দূতের কণ্ঠেও।
সাম্প্রতিক নির্যাতনে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। রোহিঙ্গাদের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। আরো দুঃখের বিষয় হলো, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে বিদেশী সাংবাদিক, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের ওইসব অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসংঘ তো এখন জানলো রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় এবং অপরাধীদের শাস্তির বিধানে জাতিসংঘ কি করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ