মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মুক্ত মতামত বন্ধ হলে মানুষ বাঁচবে কিভাবে?

জিবলু রহমান : [পাঁচ]
জাতীয় সম্প্রচার আইন-২০১৬ খসড়া প্রচার করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় খসড়া আইন সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের মতামত চেয়েছে। এই আইনের বড় দিক হলো, ‘জাতীয় সম্প্রচার কমিশন’ গঠন। এই কমিশন খুব শক্তিশালী হবে। অনেকটা সাংবিধানিক নানা সংস্থার মতো। কমিশনের গঠন প্রক্রিয়াও আইনে বলা হয়েছে। আইনে কমিশনকে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এই আইনে ‘লাইসেন্সের শর্তাবলি’ অংশটি নিয়ে একজন অভিজ্ঞ আমলা আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বলেছেন, ‘আইনে বা সংবিধানে যত কথাই লেখা থাকুক না কেন বাস্তব অর্থে বাংলাদেশে একমাত্র সরকারই স্বাধীন। সরকার ছাড়া অন্য কারও প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা নেই।’ (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ৪ মে ২০১৬)
সম্প্রচার নীতিমালার পটভূমিতে বলা হয়েছে- সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের চিন্তা ও বিবেক, বাক এবং সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এরপরই এই নীতিমালায় কী কী পুচার করতে হবে তার একটি বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে গেল না? গণমাধ্যম যদি স্বাধীন হয় তবে গণমাধ্যম কী প্রচার করবে আর কী করবে না, তা তো গণমাধ্যমের ব্যাপার; কিন্তু সরকার যদি নির্ধারণ করে দেয় কী প্রচার হবে, তা কি আর স্বাধীনতা থাকল? পৃথিবীর সব সরকার মিথ্যা বলে এবং পৃথিবীর সব সরকার জনগণের কাছে তথ্য লুকাতে চায়। গণমাধ্যমের কাজ সেই মিথ্যার জায়গায় সত্য প্রতিষ্ঠা করা আর লুক্কায়িত তথ্য টেনে বের করে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়া। সব সরকারই তাই মুক্তপ্রান্ত কথা বলা আর সমালোচনাকে ভয় পায়। (সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ২৭ মে ২০১৬)
কথাটার মধ্যে অতিশয়োক্তি আছে বলে মনে হয় না। কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা পাঁচ বছর পর্যন্ত লাইসেন্স পাবেন না। আজকাল নানা রাজনৈতিক কারণে কারাদদণ্ডে অনেকে দণ্ডে দণ্ডিত হচ্ছেন। সবাই জানেন, অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রিমান্ড, বিচার, কারাদণ্ড সবই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হয়ে থাকে (সবার বিরুদ্ধে নয়)। সরকার বদল হলে ‘আসামিও’ বদল হয়ে যায়। ঋণখেলাপি বা শেয়ারবাজার লুট করাও আজকাল নানা ব্যাখ্যা ও আইনের মারপ্যাঁচে জায়েজ হয়ে যায়। ব্যাংকের টাকা ঋণের নামে লুট করে অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে সাধুবাবা হয়ে গেছেন। কাজেই এসব শর্ত রাজনৈতিক বিরোধীদের ঠেকানোর অস্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
কমিশন যদি রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া উপযুক্ত ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেয়, তাহলে বুঝতে হবে কমিশন প্রকৃতই স্বাধীন। লাইসেন্স বাতিল করারও অগাধ ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করা যাবে না। কেন? এই বিধান পরিবর্তন করা উচিত। ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখার এই প্রবণতা অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা স্বৈরাচারী ও একনায়ক হয়ে উঠেছেন বা উঠতে পারেন। ক্ষমতাধর ব্যক্তি যেমন ক্ষমতা দেখাতে পারেন, তেমনি তাঁকে আইনের কাছেও নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, সব প্রতিষ্ঠানের আইনে তেমন বিধান থাকা জরুরি। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
কমিশন প্রদত্ত আদেশ-নির্দেশ লঙ্ঘন করলে তাঁকে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড, অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিশন কি বিচারিক আদালতের ক্ষমতা রাখে? আদালতের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কি জেল-জরিমানা দিতে পারবে? এ ব্যাপারে সংবিধানের কিছু নির্দেশনা নিশ্চয় রয়েছে। একই তথ্য মন্ত্রণালয় ৪০ বছর ধরে ‘প্রেস কাউন্সিলকে কোনো দণ্ড দেওয়ার অধিকার দেয়নি, কারণ প্রেস কাউন্সিলের বিচারিক ক্ষমতা নেই বলে।
জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন রুখতেই সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। ৫ আগষ্ট ২০১৪ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। এক প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সম্প্রচার নীতিমালাসহ সব কালো আইন বাতিল করবে। এছাড়া বিএনপি জোটের চলমান আন্দোলনে এই ইস্যুটি প্রাধান্য পাবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে এম কে আনোয়ার বলেন, কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষকে রক্ষা আর অবৈধ শাসনকে স্থায়ী করতে সরকার সম্প্রচার নীতিমালার নামে এই কালাকানুন করেছে। এতে জনগণের সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে কথা বলছি। পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা আন্দোলন করছেন। আমরা এ আন্দোলনের সঙ্গে আছি।
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এটি আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশনসহ কয়েকটি মিডিয়া বন্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে করা হচ্ছে। আমার দেশ সহ কয়েকটি মিডিয়া বন্ধ ও মাহমুদুর রহমানকে কারাবন্দি করে সরকার ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন করেছে। আর এবার অবৈধ ক্ষমতা স্থায়ী করতে পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি অতীতে ছিল, এবারো সাংবাদিকদের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেবে বিএনপি।
লিখিত বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র জড়িত। সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন জড়িত। মানুষের অধিকার জড়িত। মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জড়িত। এর সঙ্গে আপনাদের মহান সাংবাদিকতার পেশা জড়িত। এই পেশায় নিয়োজিত কর্মী হিসাবে আপনাদের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন জড়িত। নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে মেয়াদ প্রলম্বিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রিসভা জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে। এর নাম ‘সম্প্রচার নীতিমালা’ করা হলেও উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে এটি মূলত ‘সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও দলন নীতিমালা’।” তিনি বলেন, “সম্প্রচার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম, সরকারের বাইরের সব রাজনৈতিক-সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের বক্তব্য ও সংবাদ এবং গণবিচ্ছিন্ন শাসকদের অপকর্ম ও ব্যর্থতার সমালোচনা বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই যে এই কালাকানুন তৈরি হয়েছে তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। এই জঘন্য কালাকানুন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রেখে সম্প্রচার মাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সম্পূর্ণভাবে শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং হীন উদ্দেশ্যে প্রণীত এই কালাকানুন অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাই।”
বিএনপির নেতা বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকরা ইতিমধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের উদ্দেশ্যে প্রণীত এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর হয়েছেন। প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমরা সব সমাজশক্তিকে আরো সোচ্চার হবার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “এই তথাকথিত নীতিমালায় একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বারা গঠিত একটি সার্চ কমিটি ওই কমিশন গঠন করবে। তার অর্থ হচ্ছে, ওই কমিশন হবে সম্পূর্ণভাবে সরকারের পছন্দের ও আজ্ঞাবহ একটি কমিশন। যে কমিশনকে বিধি প্রণয়নসহ সম্প্রচার-মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সীমাহীন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। এটা মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণ ও সরকারের আজ্ঞাবহ প্রোপাগান্ডা মেশিনারিতে পরিণত করার এক বিপজ্জনক অস্ত্র হিসাবে কাজ করবে।”
তিনি আরো বলেন, “ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, ওই কমিশন গঠনের আগ পর্যন্ত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কমিশনের সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী থাকবে এবং তারা তা প্রয়োগ করতে পারবে। তার অর্থ হচ্ছে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যমগুলোও সরাসরি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতে মতপ্রকাশ, সংবাদ প্রচার ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। নতুন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানসমূহকে লাইসেন্স দেয়ার কর্তৃত্বই কেবল নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান এখন সম্প্রচারে রয়েছে তাদেরকে আবারো নতুন করে লাইসেন্স নেয়ার বিধান করে সরকার ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চিত করে ফেলেছে। আজ্ঞাবহ ও ক্রীড়ানক না হলে যে তাদেরকে লাইসেন্স দেয়া হবে না, তা বলাই বাহুল্য।”
ড. মঈন খান বলেন, “অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না বলে বিধিনিষেধ আরোপ করে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, প্রেস কনফারেন্স সরাসরি কিংবা ধারণ করে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তথাকথিত নীতিমালায় আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে উৎসাহ প্রদান করতে বা সহানুভূতি সৃষ্টি করতে পারে এমন অনুষ্ঠান ও বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা এবং আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা আইন অমান্য করার পক্ষে সহানুভূতি সৃষ্টি করে এমন কিছু দেখানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো সরকারের পছন্দের নয় এমন রাজনৈতিক কর্মকা-, জনগণের আন্দোলন, পেশাজীবীদের সংগ্রাম ও মানুষের অধিকারের পক্ষে মতামতকে নিয়ন্ত্রণ করার কালাকানুন হিসাবেই জারি করা হয়েছে এবং এসবের ভয়াবহ ও যথেচ্ছ অপব্যবহারের আশংকা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিভিন্ন বাহিনীকে সরকার ভয়ংকরভাবে অপব্যবহার করছে। এসব বাহিনীর একশ্রেণীর সদস্য জনবিচ্ছিন্ন সরকারের আশকারা পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুমসহ গুরুতর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এই সময়ে তথাকথিত নীতিমালায় তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য প্রদান নিষিদ্ধ করে এসব জঘন্য অপরাধকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে জনগণের জান-মাল-সম্পদের নিরাপত্তা আরো বিপন্ন হবে এবং জনগণের কাছে বিভিন্ন বাহিনীর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা মোটেও থাকবে না।”
আওয়ামী লীগ মুখে যাই বলুক তারা মানুষের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কখনো বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ড. মইন খান বলেন, “স্বাধীনতার পর তারা ১৯৭৩ সালের প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে সংবাদ-মাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করেছে। একের পর এক সংবাদ-মাধ্যমের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করেছে। দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিকদের কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। ১৯৭৪ সালের কুখ্যাত বিশেষ ক্ষমতা আইনে তারা সাংবাদিকদের হেনস্থা করেছে। এরপর গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েমের পটভূমিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে চারটি রেখে দেশের সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করেছে। হাজার হাজার সাংবাদিককে পেশাচ্যুত ও বেকার করেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দৈনিক বাংলা, টাইমস, বিচিত্রাসহ বহু পত্রিকা বন্ধ করেছে। সাংবাদিকরা বেকার হয়েছে।
এবারেও দৈনিক আমার দেশসহ অনেক পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জেলে ভরা হয়েছে। সাগর-রুনিসহ বহু সাংবাদিক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। সঠিক তদন্ত ও বিচার হয়নি। বহু সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছেন। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি জোর করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংবাদ ও টকশোগুলো নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রিত অবস্থার মধ্যেও সরকার প্রধান নিজেই টকশোর সামান্য সমালোচনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। সম্প্রতি একজন মন্ত্রী প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন যে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা অচিরেই কেড়ে নেয়া হবে। তার আলামত হিসেবেই সম্প্রচার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের এই তথাকথিত নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হলো বলে আমরা মনে করি।”
তিনি বলেন, “এই তথাকথিত নীতিমালায় বিকল্প মিডিয়া হিসেবে গড়ে ওঠা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ওয়েবসাইটগুলো নিয়ন্ত্রণেরও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
আবদুল মঈন খান বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার পথ ধরেই অতীতে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বিএনপি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মত প্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা-বিরোধী আওয়ামী কালাকানুনগুলো বাতিল করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। কাজেই গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকারের পক্ষে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আজ গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাংবাদিকতা ও অবাধে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার সংগ্রাম একাকার হয়ে গেছে। এই সংগ্রামে দেশবাসীসহ আমরা আপনাদের অর্থাৎ সাংবাদিক সমাজেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আশা করি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনবিচ্ছিন্ন সরকার দিশেহারা হয়ে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার যে অপচেষ্টা শুরু করেছে তা ব্যর্থ হবে। মানুষের অধিকার ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
[চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ