মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

কন্যা সন্তানের কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকে চারটি বছরে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে মানসিক বিপর্যস্ত গৃহবধূ সানিয়া।  মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে, স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অন্তত ১০ টাকা লাখ দিয়েছে সানিয়ার বাবা লতাচাপলীর মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ মাতুব্বর। তারপরও উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামের পাষ- স্বামী দন্ত চিকিৎসক হারুন-অর-রশীদের নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি সানিয়া। সবশেষ সোমবার সন্ধ্যায় নির্মম লাঠিপেটা, কিল-ঘুষি এবং গলা চেপে ধরে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায় অচেতন সানিয়া মারা গেছে ভেবে মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সানিয়াকে। বর্তমানে সানিয়া কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার স্বামী হারুনের অনুশোচনা তো দুরের কথা উল্টো আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে সানিয়াকে। স্বামীর সংসার করতে হলে মুচলেকা দিয়ে যেতে হবে। হুমকি দেয়া হচ্ছে সানিয়া ও ভাইদেরকে এনিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য।
সানিয়ার মা ফাতেমা বেগম জানান, তার একমাত্র মেয়ে সানিয়াকে হারুনের সঙ্গে ২০১১ সালের ৮ নবেম্বর বিয়ে দেন। বিয়ের সময় মেয়ে-জামাইকে সবকিছু দিয়ে দেন। বিয়ের পরে কিছুদিন ভালই ছিল। সানিয়ার কোলজুড়ে চার বছর আগে জন্ম নেয় কন্যা সন্তান ইসরাত জাহান জেবা। জন্মের দিন থেকেই শুরু সানিয়ার প্রতি নানান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এরপরও মেয়ে-জামাইয়ের সুখের চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকাসহ-বিভিন্ন-ধরনের-সহায়তা-করে-আসছিলেন।
 সানিয়ার ভাই প্রভাষক আরিফুল ইসলাম জানান, একমাত্র বোনের সুখের চিন্তা করে বোন এবং বোন-জামাই হারুন-অর-রশীদকে অন্তত দশ লাখ টাকা দিয়েছেন। এরপরও নানান ছল-ছুতোয় যৌতুকের অজুহাত তুলে মারধর করা রেওয়াজে পরিণত করে। এমনকি জেবার জন্মের পরে তাকে নিয়ে তার মা মিশ্রিপাড়া গ্রামের বাড়িতে লালন-পালন করেছেন। কন্যা সন্তানকে পর্যন্ত আদর-সোহাগ করত না হারুন।
সানিয়া জানান, তার স্বামীর সঙ্গে কারও পরকীয়া রয়েছে বলে তার দৃঢ় বিশ^াস। প্রায় সময় বাড়ির ছাদে উঠে মোবাইলে কথা বলত। এসব জিজ্ঞাসা করলেই তার ওপরে চরম নির্যাতন নেমে আসে। সবশেষ মারধর শেষে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ ব্যাপারে দন্ত চিকিৎসক হারুন-অর-রশীদ জানান, স্ত্রীকে কখনই তিনি মারধর করেননি। যৌতুকসহ পরকীয়ার অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। যৌতুকের জন্য কোন টাকা নেননি। উল্টো সানিয়ার বাবা-ভাইদের কাছে তিনি নয় লাখ ৯০ হাজার টাকা পাবেন বলে জানান। এর সকল প্রমাণাদি আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কলাপাড়া ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল এর প্রোগ্রাম অফিসার ইদ্রিস আলম জানান, আমরা ভিকটিমের চিকিৎসা সহায়তাসহ আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। চিকিৎসক ডাঃ কামরুজ্জামান জানান, সানিয়ার মুখে খানিকটা বিষ ছিল। খায়নি। চিকিৎসা দেয়ার পরে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ