মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

খুলনার খানজাহান আলী জুট ট্রেডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকায় খানজাহান আলী জুট ট্রেডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রেডিংয়ের পাশে অবস্থিত দৈনিক সময়ের খবরের দৌলতপুর প্রতিনিধি হাওলাদার মোস্তাক আহমেদ তুহিন, তার শ্যালক মামুন ও আল-আমিনের চারটি বসত বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ত্রিশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এ অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বয়রা, খালিশপুর ও দৌলতপুর ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা শেখ আকতার হোসেনের ছেলে শেখ সেলিম হোসেনের মালিকানাধীন খানজাহান আলী জুট ট্রেডিং থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পার্শ্ববর্তী হাওলাদার মোস্তাক আহমেদ তুহিন, তার শ্যালক মামুন ও আল-আমিনের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই তুহিনের তিনটি, মামুনে একটি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আর আল-আমিনের বাড়ির একটি ঘড় পুড়ে গেছে। এতে তাদের প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে তুহিন জানিয়েছে।
অপরদিকে খানজাহান আলী জুট ট্রেডিংয়ের মালিক শেখ সেলিম হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অগ্নিকাণ্ডে বিশ লক্ষাধিক টাকার ঝুট পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছে। তবে স্থানীয়রা জানান, ইন্সুরেন্স থাকায় খানজাহান আলী জুট ট্রেডিং এ অগ্নিকা-টি রহস্যজনক। সঠিক তদন্ত করলে সব কিছু বের হয়ে আসবে। তারা জানান, ইন্সুরেন্সের টাকা পেলে জুট ট্রেডিংয়ের মালিকের ক্ষতি পূরণ হয়ে যাবে। তবে পুড়ে যাওয়া পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিকরা তো নিঃস্ব হয়ে গেল, তারা এখন কোথায় যাবে। এই শীতে তাদের তো খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে। এলাকাবাসী জানায়, আবাসিক এলাকায় এ ধরণের জুট ট্রেডিং স্থাপন করার কারণেই সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তারা আরো জানান, এই জুট ট্রেডিংয়ের নামে সম্প্রতি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। এই লোনের টাকা না দেয়ার জন্য এ অগ্নিকান্ডের ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
খুলনার ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. লিয়াকত আলী জানান, বয়রা, খালিশপুর ও দৌলতপুর থেকে আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা পৌণে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও (বেলা ৫টা) ড্যাম্পিংয়ের কাজ চলছে। তদন্ত কমিটি করে ক্ষয়-ক্ষতির নিরূপন করা হবে। তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি।
আড়ংঘাটা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে জানান, আগুন গুদাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ