মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

কাশিমপুর কারাগারে ব্যাপক দুর্নীতিতে বন্দীদের জীবন দুর্বিষহ

মীর মোহাম্মদ আলী : কাশিমপুর জেলখানায় লাল ইটের নিচে চাপা পরে যাচ্ছে বন্দী নির্যাতনের চিত্র। মানবতা যেন এখানে থমকে গেছে, এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারির লোভ লালশা এবং দুর্নীতির কর্মকাণ্ডের কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এখানকার বন্দীদের স্বাভাবিক জীবন যার কারণে কিছু দিন পর পর বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। কারা অভ্যন্তরে ক্যন্টিনে বন্দীদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে নিয়ে থাকে। পণ্যের গায়ের মূল্য ঘষা মাজা করে তুলে এবং মনমত মূল্যে বিক্রি করে থাকে। নিরুপায় হয়ে সেই মূল্যেই বন্দীদের পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এখানে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, গোশত রান্না  করে বন্দীদের নিকট বিক্রয় করা হয়। বন্দীদের সরকারি খাবারের মান নিম্নমানের করা হয় যাতে পাক করা খাবার বিক্রি হয়। পাক করা খাবারের মূল্য অস্বাভাকি হারে বেশি। আলু ভাজি বা রান্না প্রতি কেজি ১‘শ’ ২০ টাকা, গরুর গোশত কেজি প্রতি ১ হাজার টাকা। মুরগী কেজি প্রতি ৫‘শ’ ৫০ টাকা। মাছ নেয়া হয় ১ হাজার থেকে ১হাজার ৮‘শ’ টাকা, বিভিন্ন সবজি রান্না বা ভাজি ১‘শ’ ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২‘শ’ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত মুনাফা অর্জন করতেই খাবারের উচ্চ মূল্য আদায় করা হয়। বন্দীদের সরকারি খাবার বাঁচিয়ে সেই বেঁচে যাওয়া চাল ডাল আটা বহি: বাজারে বিক্রি করা হয়। বন্দীদের প্রতিদিন মাছ অথবা গোশত দেয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয় সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন। এই খাত হতে উপার্জিত অর্থ চলে যাচ্ছে জেলার, সুপার, সুবেদার, সিআইডি জমাদার এর পকেটে।
সূত্র আরো জানায়, কারা অভ্যন্তরে চলছে অভিনব কায়দায় মাদক ব্যবসা। এই ধরনের কর্মকা-ের সাথে জড়িয়ে আছে কারাকর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেকে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা গাজা সহ অনেক ধরনের মাদক। কিছু দিন পর পর এর অর্থ ভাগাভাগি করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে। এই সকল সংঘাতের খবর জেলের দেয়াল পেরিয়ে জানতে দেয়া হয় না। প্রতিনিয়ত তা ধামা চাপার চেষ্টা চলে। কয়েক মাস পূর্বে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টুন্ডা রুবেল, কাটা ছিঁড়া রুবেল ভুটুকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাৎ করে। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ নিছক মারামারি বলে চালিয়ে দেয়। যে সকল বন্দীর সশ্রম কারাদণ্ড হয় তাদের কারা অভ্যন্তরে কাজ করতে হয়। এই কাজ পাশ সুবিধা মত পেতে এবং কাজ পরিবর্তন করতে প্রয়োজন হয় ৫‘শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন সুবেদার এবং সিআইডি জমাদার। অর্থ খরচেই শুধু মন মত কাজ পাওয়া যায়। নতুন বা সাধারণ বন্দীদের নিয়ে এখানে চলছে রমরমা ব্যবসা। বন্দীদের প্রথমে এমন জায়গায় থাকতে দেয়া হয় যেখানে সুস্থ মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। বন্দীগণ কষ্ট সইতে না পেরে অর্থের বিনিময়ে তুলনামূলক ভালো থাকার জন্যে জায়গা খুঁজতে বাধ্য হন। কারা অভ্যন্তরে একটি নির্ধারিত মাপের বেড়ীর কথা থাকলেও এখানে বেড়ী রয়েছে তিন ধরনের। খুব মোটা মোটা চিকন। অর্থের বিনিময়ে বন্দীদের স্বাভাবিক বেড়ী নিতে হয়। বন্দীদের স্বজনেরা জানায়, কোন বন্দী উপরে উল্লেখিত যেকোন অন্যায় এর বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে সম্মুখীন হতে হয় অবর্ণনীয় নির্যাতন। প্রথমে নেয়া হয় কেস টেবিলে তারপর হাত, পা চোখ বেধে চালানো হয় নির্যাতন।
সূত্র থেকে জানা যায়, মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বন্দীদের পুনর্বাসন না থাকায় তারা প্রতিনিয়ত তাদের জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে জড়িয়ে পরছেন আত্মহত্যার মত কর্মকাণ্ডে। মার্ডার মামলার বন্দী কাসিমুদ্দিন হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে কাশিমপুর পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক সংগ্রামকে জানান, বন্দী নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়। স্বজনদের অভিযোগ দেয়ার জন্য ফোন নম্বর সহ অভিযোগ বক্স দেয়া আছে। যা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ