শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্ষমতাবানদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে ইসরাইলী নারীরা

১৮ জানুয়ারি, ডয়চেভেলে : ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাবান কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে৷ নারীরাও এখন এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনায় উৎসাহী হচ্ছেন।
গত ডিসেম্বরে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশে কাতসাভকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়৷ ধর্ষণের দায়ে তার সাত বছরের কারাদ- হয়৷ এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ বছর জেলে কাটিয়েছেন৷ তবে তারপরও নিজের অপরাধ নিয়ে তাকে কোনো অনুশোচনা করতে দেখা যায়নি।
তার আগে গত বছরের জুলাইতে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওফেক বুখরিস ৷ তার বিরুদ্ধে তরুণ এক নারী সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে অনুমতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা ও আরেক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল৷ তিনি এসব অভিযোগ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগের হাত থেকে রেহাই পান।
কিন্তু বুখরিসকে এভাবে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন ইসরাইলি নারীরা। সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের আয়োজক নোগা শাহার বার্তা সংস্থা এএফপিকে একজন বিচারকের শাস্তির উদাহরণ দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ের প্রতিবাদ হওয়া উচিত। নোগা শাহার যে বিচারকের কথা বলেছেন তার নাম ইতঝাক কোহেন। আদালতের এক নারী কর্মীকে জোর করে নিজের কোলে বসানো ও অনুমতি না নিয়ে তার ব্লাউজের নীচে স্পর্শ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল কোহেনের বিরুদ্ধে। ঐ অভিযোগের পর কোহেন তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন৷ এরপর তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করায় তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে কমিউনিটি সার্ভিসে অংশগ্রহণ ও ভুক্তভোগীকে ৬০০ ইউরো (প্রায় ৫০ হাজার টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হতে পারে।
মুখ খুলছেন নারীরা
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন সাংসদসহ আরও কয়েকজন ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। নোগা শাহার বলছেন, ‘এমন না যে হঠাৎ করে এ সব অপরাধ বেড়ে গেছে৷ আসলে যেটা হয়েছে, মেয়েরা এখন আর এ সব বিষয় লুকিয়ে রাখছে না৷ তারা এসব সবাইকে জানাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’
‘অ্যাসোসিয়েশন অফ রেপ ক্রাইসিস সেন্টার্স ইন ইসরাইল’ বা এআরসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক ওরিট সুলিতজেনু বলেন, তাদের মতো সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ২০১৫ সালে তারা ৯,১৯৭টি অভিযোগ পেয়েছেন। ২০১০ সালে সেটি ছিল ৭,৮৫৮।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ