শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যিশুর আবির্ভাব উদযাপনে গির্জায় পবিত্র কোরআন পাঠ নিয়ে বিতর্ক

১৭ জানুয়ারি, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান: গত সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের সেইন্ট ম্যারি’স এপিসকোপাল ক্যাথেড্রালে এপিফানি (যিশুর আবির্ভাব উদযাপন) উপলক্ষে এক অতিথি পবিত্র কুরআনের ১৯ নম্বর সূরা (সূরা মরিয়াম) থেকে একাংশ পড়ে শোনালে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনলাইনে আক্রমণাত্মক হুমকি দেওয়া হয় চার্চকে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে বলে স্কটল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চার্চ প্রিমাসের ডেভিড চিলিংওর্থ জানান বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সেইন্ট ম্যারি’স ক্যাথেড্রালের প্রভোস্ট এবং ক্যাথেড্রাল সম্প্রদায়। তবে এমন ভয়াবহ আক্রমণের জন্য স্কটিশ এপিসকোপাল চার্চ গভীরভাবে আহত বোধ করছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনাটির মাধ্যমে ক্যাথেড্রাল সম্প্রদায়কে যেভাবে অপদস্থ করা হলো, তার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত বলে জানান ডেভিড। ক্যাথেড্রালে যা হয়েছে, তার জন্য স্কটিশ এপিসকোপাল চার্চ আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িতদের ডেকে পাঠাবে বলেও জানান তিনি।
গত সপ্তায় যিশুর আবির্ভাব উদযাপন অনুষ্ঠানে গ্লাসগোর মুসলিম সম্প্রদায়কেও গির্জায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আর তখনি ঘটনাটি ঘটে। ১৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ মুসলিম শিক্ষার্থী মদিনা জাভেদ কোরআন-এর সূরা মরিয়াম-এ বর্ণিত যিশুর জন্ম সম্পর্কিত বক্তব্য পাঠ করেন।
মুসলিমরা যিশুকে ‘নবী’ হিসেবে শ্রদ্ধা করলেও তাকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ বলে স্বীকৃতি দেন না। আর গীর্জায় কোরআন-এর ওই বক্তব্যই জাভেদ পড়ে শোনান। দুই পৃথক বিশ্বাসের বোঝাপড়ার জন্যই তা পড়ে শোনানো হয়েছিলো বলে ক্যাথেড্রালের প্রভোস্ট কেলভিন হোল্ডওর্থ জানান।
তবে রোচেস্টারের সাবেক বিশপ মাইকেল নাজির গির্জার এমন আচরণকে ‘অসুস্থ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খ্রিস্টানরা তাদের সহ-নাগরিকদের বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে নিজেরা কোরআন বা তার অনুবাদ ব্যক্তিগতভাবে পড়তে পারেন। তবে গির্জায় জনসমক্ষে প্রার্থনার সময়ে তা পড়ে শোনানো একেবারেই আলাদা কথা।
ঘটনাটির পর অনলাইনে ক্যাথেড্রাল সম্প্রদায়কে অনেক হুমকি দেওয়া হয়। তবে এই বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। গ্লাসগোর সেইন্ট ম্যারি’স এপিসকোপাল ক্যাথেড্রালের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য সামনে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
ওই পুলিশ মুখপাত্র স্কটল্যান্ড পুলিশ কোনও রকম ঘৃণাকে সহ্য করবে না বলে জানান। আর কেউ যেন নিজেকে আতঙ্কিত বা বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেজন্য সকল সম্প্রদায়ের একসঙ্গে কাজ করাকে তারা উৎসাহিত করে বলেও তার বক্তব্যে যোগ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ