শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ কনফেডারেশন : একটি পর্যালোচনা

গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ : ॥দুুই॥
অনিবার্য কারণবশত গত সপ্তাহে পাঠকদের সামনে হাজির হতে পারিনি বলে দুঃখিত। এর আগের সপ্তাহে আমরা অবিভক্ত ভারতে দ্বিজাতিতত্ত্ব তথা মুসলমান এবং হিন্দু এই দু’টি ধর্মীয় জনগোষ্ঠী দু’টি স্বতন্ত্র আকিদা বিশ্বাস, শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আচার আচরণে বিশ্বাসী ও অনুশীলনকারী হিসাবে দু’টি জাতি হবার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি এবং ভারত বিভক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। মুসলমানরা প্রথম অবস্থায় ভারত বিভক্তির চিন্তা করেননি, তারা হিন্দুদের সাথে অবিভক্ত ভারতবর্ষেই বসবাস করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। একই সমাজে মুসলমানদের সাথে বসবাস এবং তাদের সহ্য করার মনোবৃত্তি হিন্দুদের ছিল না। আমরা নিজেরাও দেখেছি, স্কুলে সহপাঠী হিসেবে হিন্দু ছাত্ররা মুসলিম ছাত্রদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতো না। টিউবওয়েলে যদি মুসলমান ছাত্রদের স্পর্শ লাগতো তাহলে টিউবওয়েলের পানি তারা খেতনা, ফেলে দিতো। পানি ভর্তি কলসি তারা ভেঙ্গে ফেলতো। মুসলমান বন্ধুদের বাড়ি ঘরে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আসা যাওয়া ও খেলাধূলা করতো কিন্তু কোনও হিন্দু ঘরে যদি মুসলমান ছেলে প্রবেশ করতো তাহলে তাদের জাত যেতো; খাবার দাবার অপবিত্র হয়ে যেতো এবং তা ফেলে দিতো। তাদের কাছে হিন্দু নমশূদ্ররা যেমন ছিল অচ্ছুত তার থেকে বেশি ছিল মুসলমানরা। হিন্দু জমিদার বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে দিয়ে মুসলমান কোনও ব্যক্তি (পুরুষ বা মহিলা) জুতা পায়ে, ছাতা মাথায়, সাইকেলে বা পাল্কি চড়ে কোথাও যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল বিপুল। ১৮৯২ সালে যখন বৃটিশ সরকার প্রারম্ভিকভাবে প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন পদ্ধতির প্রচলন করেন তখন থেকেই বর্ধিত হারে মুসলমানদের বঞ্চনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তারা সংখ্যালঘু হিসেবে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের নিপীড়নের শিকার হন এবং তাদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ এই অন্যায় আধিপত্যের বিরোধিতা করেন। সাধারণ মুসলমানরা অসহিষ্ণু সংখ্যাগুরু প্রতিবেশীদের অব্যাহত আধিপত্যের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ১৯৩০ সালে Indian Statutory Commisson-এর রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডের ২৫ পৃষ্ঠায় ভারত বর্ষে বিদ্যমান হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাদের একই দেশে ঐক্যবদ্ধ বসবাসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। খ্যাতিমান বৃটিশ লেখক স্যার থিওডোর মরিশন (১৮৩২-১৯৩২) তার বিখ্যাত পুস্তক ‘Political India’তে লিখেছেন, “France and Germany were to Europeans, The standard example of enemy nation and yet a young Frenchman might go to Germany for business or Study; he might take his residence with a German family, share their meals and go with them to the same place of worship. Eventually he might marry the daughter of the house and no body would find this a matter for scandal or surprise. No muslim, he concluded, can live on such terms within a hindu family and vice versa.”
অর্থাৎ ইউরোপবাসীদের কাছে ফরাসী এবং জার্মানরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু জাতির মানদণ্ড হিসেবে পরিচিতি। তবুও একজন ফরাসী যুবক ব্যবসা বাণিজ্য অথবা শিক্ষা গ্রহণের জন্য জার্মানীতে যেতে পারেন, জার্মান পরিবারে বসবাস করতে পারেন, তাদের সাথে একই খাবার খেতে পারেন, তাদের সাথে একই উপাসনালয়ে উপাসনা করতে পারেন এবং অবশেষে ঐ পরিবারের মেয়ে বিয়ে করতে পারেন। এই ঘটনাগুলোতে কেউ কোনও প্রকার কলঙ্ক দেখতে পাবেন না। এতে কেউ বিস্মিতও হবেন না। কিন্তু এই অবস্থায় কোনও মুসলমান হিন্দু পরিবারে অথবা হিন্দু মুসলিম পরিবারে থাকতে পারবেন না। হিন্দু মুসলমানের এই পার্থক্য তাদের ধর্ম সংস্কৃতি, শিক্ষা সভ্যতা ও জীবনাচারের পার্থক্য। এই পার্থক্যই শুধু তাদের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়নি বরং তাদের মুসলিম বিদ্বেষ ও বৃটিশ সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে  মুসলমানদের সব দিক পঙ্গু করে রাখা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বঞ্চিত রাখার কুটিল ষড়যন্ত্রও ঐ পথে তাদের পা বাড়াতে বাধ্য করেছিল যা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রী কুলকার্নি দ্বিজাতিতত্ত্বের মৃত্যুর কথা বলেছেন, এই তত্ত্বটিকে ভিত্তিহীন ও বিষাক্ত (Baseless and toxic) বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বাংলাদেশকে এ জন্য Case Study হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দ্বিজাতিতত্ত্বের অবসান ঘটায়নি এবং তাকে মিথ্যাও প্রতিপন্ন করেনি। এ বিষয়ে বিগত কিস্তিতে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দ্বিজাতিতত্ত্বের মৃত্যু সম্পর্কিত অপপ্রচারটি ভারতের কিছু নেতার অপপ্রচার বই আর কিছুই নয়। এর মৃত্যু প্রমাণ করতে পারলে তাদের সুবিধা অনেক। এখন তারা কনফেডারেশনের কথা বলছেন, কিছুদিন পরে বলবেন ফেডারেশনের কথা এবং এর পরে এক রাষ্ট্রের কথাই ফিরে যাবেন। এটা চাতুর্য ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দ্বিজাতিতত্ত্বকে আরো দৃঢ় করেছে। বাংলাদেশ আন্দোলনে ভারতের ভূমিকা স্বার্থহীন ছিল না। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরানুযায়ী ১৯৬৪ সাল থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলকে  আলাদা করার লক্ষ্যে একটি বিপ্লবী সংগঠনও তারা গঠন করেছিল। তখন এ মর্মে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল যে, পূর্ব পাকিস্তানে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহ সংগঠনের লক্ষ্যে ভারত অস্ত্র ও আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও তাদের ক্রীড়নকদের এই মর্মে তারা আশ্বাস প্রদান করেছে যে, নির্ধারিত সময়ে ভারত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্যে আকাশ ও সমুদ্র পথ বন্ধ করে দেবে।
১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় এয়ার লাইনের একটি বিমান হাইজ্যাককারীরা লাহোরে নিয়ে যায় এবং সেখানে তা ধ্বংস করে দেয়। এই বিমান হাইজ্যাক ও ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে পাকিস্তানের উভয় অংশের মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তখন এই অঞ্চলে এ ধরনের ধারণা-বিশ্বাস জন্ম নেয় যে, পাকিস্তানের ইতিহাসের একটি সঙ্কটময় সময়ে যখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলাপ-আলোচনা এবং দর কষাকষি চলছিল তখন বিমান হাইজ্যাকের ন্যায় একটি ঘটনা ঘটিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভারতীয় এজেন্টরাই প্রকৃতপক্ষে কাজ করেছে।
তৎকালীন সময়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের মূল কারণ ভারত কর্তৃক উপমহাদেশের বিভক্তিকে মনে প্রাণে মেনে না নেয়া। মুসলমানরা প্রথমত তা চায়নি কেননা খণ্ড রাজ্যে বিভক্ত ভারতকে তারাই একত্রিত করেছিলেন। প্রায় ৬/৭ শ’ বছরের মুসলিম শাসনামলে তারা কখনো সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, থাকলে ভারতবর্ষ হিন্দুশূন্য হয়ে যেতো। অন্যদিকে বল্লভ ভাই প্যাটেল ও পন্ডিত জওহর লাল নেহরুর ন্যায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যেই দ্বিখন্ডিত ভারত মাতার পুনরেকত্রীকরণের অনুকূলে মতামত প্রকাশ করতেন এবং তারা নিশ্চিত ছিলেন পূর্ব বাংলা অবশ্যই ভারতে চলে যাবে। তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তারা মুসলমানদের জন্য সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য আন্তর্জাতিক নদীর পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং ভারতে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে উদ্বাস্তু হিসেবে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ঠেলে দিয়েছিল। গঙ্গা নদীর উজানে ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করে ঐ সময় ভারত পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক এবং এই অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা ধ্বংস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র্য নষ্ট করার কাজেও লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।
দেশ বিদেশের পত্রিপত্রিকায় প্রকাশিত খবরানুযায়ী ভারত ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের অনেক পূর্ব থেকেই পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন শুরু করেছিল। সীমান্ত এলাকায় তারা জেট ফাইটার ও পরিবহন বিমান সমাগম ঘটিয়েছিল। এছাড়াও নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ-এর অসংখ্য ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছিল। বিএসএফ কর্তৃক ব্যবহৃত জীপ ও যানবাহনসমূহ থেকে তারা বিএসএফ-এর চিহ্ন মুছে  দিয়ে বেসামরিক রং লাগিয়েছিল। পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ সময়ে বিএসএফ-এর এই ব্যাটালিয়ানসমূহের অধিকাংশই ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই এই প্রদেশের অভ্যন্তরে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের এই তৎপরতাগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা বাহিনীর বর্ডার্স এন্ড সিকিউরিটিজ শীর্ষক রিপোর্টসমূহে বিস্তারিত তথ্য থাকতো বলে জানা যায়। এসব রিপোর্ট অনুযায়ী বিএসএফ ও ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত তথ্য থাকতো বলে জানা যায়। এসব রিপোর্ট অনুযায়ী বিএসএফ ও ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অবস্থান করত এবং সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী প্রভৃতি সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং পুল-কালভার্ট উড়িয়ে দিয়ে পুনরায় ভারত ভূখণ্ডে ফেরত যেত। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী থানা, রেলওয়ে লাইন, বৈদ্যুতিক স্টেশন এবং টেলিফোন এক্সচেঞ্জ প্রভৃতি তাদের টার্গেটে ছিল। থানায় হামলা করে তারা রাইফেল ও অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নিয়ে যেত। এই সব রিপোর্টে বিধৃত বিবরণী থেকে এও জানা যায় যে, তারা স্থাপনায় পাহারারত রাজাকারদের উপরও সশস্ত্র হামলা চালাত। ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষীদের এই তৎপরতাকে দক্ষিণপন্থী ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি। তারা এবং এমনকি আওয়ামী লীগের একটি অংশও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। বলাবাহুল্য আওয়ামী লীগকে ভারতের তরফ থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলকে স্বাধীন করার জন্য প্রদত্ত সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্যটি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। এই সময়ে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখের ভারতীয় পার্লামেন্টে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে সর্বসম্মত একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির পশ্চিম বাংলা ইউনিটের জেনারেল সেক্রেটারি শ্রী কে. কে শুক্লা বলেছিলেন, ‘Sheikh Mujibur Rahman is fighting India’s war.’ ভারতের খ্যাতনামা দৈনিক পত্রিকা এবং লেখক, সাংবাদিকরাও তাদের এই অবস্থানকে আরো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন। ৩০ মার্চ বোম্বাই থেকে প্রকাশিত Daily India Express পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় হস্তক্ষেপকে নিম্নোক্ত ভাষায় সমর্থন জানিয়েছিল : “It is a truly historic moment and the time to act is now” ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল Indian Institute of Defense Studies এর পরিচালক Mr. Subramanian পূর্ব বাংলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “What India must realize is the fact that the break-up of East Pakistan is in our our interest and we have an opportunity, the like of which will never come again.”
ভারতের আরেকটি দৈনিক ডেইলী মাদারল্যান্ড পত্রিকায় ভারতের আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মি. সুব্রামানিয়াম স্বামী তার এক নিবন্ধে পাকিস্তান ভাঙ্গার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ বিবেচনা করতে গিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, ‘The territorial integrity of Pakistan is none of our own business. That is Pakistan’s worry. All we should concern ourselves with is two questions : It is break-up of Pakistan in our long-term national interest? If so, can we do something about it? and the commentator concluded that the break-up of Pakistan is not only in our external security interest but also in our internal security interests. India should emerge as super power internationally and we have to nationally intergrate our citizens for this role. For this the dismemberment of Pakistan is an essential precondition.’
ভারত সরকার, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঐ দেশের পত্রপত্রিকা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং থিংকট্যাংকসমূহের উপরোক্ত ধারণা এবং মুসলমানদের প্রতি উপরোক্ত দৃষ্টিভঙ্গি মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমূহকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে যেমন সন্দেহ পোষণ করতেন তেমনি আওয়ামী লীগও তাদের লক্ষ্য অর্জনে এসব রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃত্বকে বিশ্বাস করতো না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বহির্ভূত দলসমূহের ওপর ভারত সরকারেরও আস্থা ছিল না। এর বহু প্রমাণ বাস্তবেও পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ বহির্ভূত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বহু রাজনৈতিক দল ২৫ মার্চের আর্মি ক্র্যাক ডাউনের পর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মকাণ্ড, সংগঠন এবং তাতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল। ভারত সরকার আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক অনুমোদিত সংগঠন ও ব্যক্তি ছাড়া কাউকেই ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্যে তৎপরতা চালানো এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য অনুমতি প্রদান করত না। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যায় খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ সেখানে গিয়ে নজরবন্দি অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। অলি আহাদ ও তার দল জাতীয় লীগের নেতৃবৃন্দ সেখানে গিয়ে ঠাঁই পাননি। আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না মুক্তিযুদ্ধ করার লক্ষ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও সেখানে গ্রহণযোগ্য হননি। বরং নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন।
(প্রথম অংশ গত ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ