রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ইসলামী ব্যাংকিং মডেল সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ

মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ খন্দকার : ইসলামী ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী আজ এক সমুজ্জ্বল বাস্তবতার নাম। সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই নয় বরং লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, সিঙ্গাপুর, টোকিও ও টরেন্টোর মতো প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার কেন্দ্রগুলোতেও ইসলামী অর্থায়ন মডেলের উপস্থিতি বেগবান হচ্ছে। বর্তমানে ৭৫টি দেশে ছয় শতাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকিং চালু রয়েছে। সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ এই সম্পদ ৫.০০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বহু দেশেই এখন ইসলামের অর্থায়ন পদ্ধতি গুরুত্বের সাথে আলোচিত ও পঠিত হয়। নামি-দামি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এমনকি বিশ্বের ৫৫টি শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ব্যবস্থা ও পুঁজিবাজার (ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম)-এর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় লা ট্রবি ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী অর্থায়ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ডারহাম, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে পাঠ দান করা হয়।
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থা তিন দশক অতিক্রম করেছে এবং সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আইডিবি ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করে। নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও শ্রীলঙ্কাসহ বহু দেশে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অবদান রেখেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত নিবন্ধে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শরিয়াহ পরিপালনের অবস্থা ভালো বলে উল্লেখ করা হয়।
কুড়ি শতকের দ্বিতীয় ভাগে শুরু হওয়া ইসলামী ব্যাংকিং অতি অল্প সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বৈশ্বিক আর্থিক পরিম-লে নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক মন্দা ও নানা টানাপোড়েনের মাঝে চলতিধারার বহু ব্যাংক অস্তিত্ব হারালেও এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক টিকে থাকার বিশেষ শক্তি ও সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা বিশ্বের বহু আর্থিক বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 
আলকাস্ট (২০১২)-এর লেখক পাপ্পাশা, ইজ্জেলদিন ও ফুয়েরতেস্ব ১৯৯৫-২০১০ সময়ের মধ্যে ৪২১টি ইসলামী ও প্রচলিত ব্যাংকের ব্যর্থতার বিপত্তিগুলো নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা করেন। তারা দেখিয়েছেন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উন্নয়ন গবেষক দলের সদস্য বেক, কান্ট ও মেরুশে (২০১০) ‘ইসলামী বনাম প্রচলিত ব্যাংকিং: ব্যবসা মডেল, দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক গবেষণার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যসাশ্রয়ী। গবেষণার মাধ্যমে তারা ইসলামী ব্যাংকগুলোর উচ্চ ‘ক্যাপিটালাইজেশন’-এর প্রমাণ পান। এই ‘ক্যাপিটাল কুশন’ ও উচ্চতর ‘লিকুইডিটি রিজার্ভ’-এর কারণে সঙ্কটকালে ইসলামী ব্যাংকগুলো ভালো দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়।
আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহাম্মদ ‘ইসলামিক ফাইন্যান্সের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ়’ শীর্ষক এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইসলামী পদ্ধতি পৃথিবীকে কিছু দেয়ার সামর্থ্য রাখে, বিশেষ করে আর্থিক সঙ্কট, সার্বভৌম ঋণ ও আর্থিক মন্দার এই দুঃসময়ে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই শিল্প একসময় বিশ্বে দৃঢ় অবস্থান করে নেবে এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অবশ্যই এর উজ্জ্বল ভবিষৎ রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের স্থিতিশীলতা ও টেকসইযোগ্যতার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জেতি আখতার আজিজ ও তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর দুরমাস ইলমাজ। ব্যবসাসংক্রান্ত সাংবাদিকতার সাথে জড়িত আর্থিক বিশ্লেষক ইমা ভেন্ডর (Emma Vandore) ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে সঙ্কট থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে তা নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সঙ্কট থেকে ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নিরাপদ রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকিং পদ্ধতি যদি ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হত তাহলে আমরা যে সঙ্কটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি তা প্রত্যক্ষ করতে হত না।
ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নের ওপর বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব সিরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অধ্যাপক মনজের কাহ্ফ বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের অস্তিত্বের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এবং এমন এক ব্যাংকব্যবস্থার বাস্তব রূপায়ণে সাফল্য দেখিয়েছে যা নৈতিকতার বন্ধন, জমাকারীদের সাড়া আদায় এবং একই সঙ্গে উৎপাদন ও বাস্তব বাজারের প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
মানবাধিকার ও আইন-আদালত সম্পর্কিত একটি পাক্ষিক (ডিসেম্বর, ২০১৬) পত্রিকায় প্রকাশিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নান তার ‘অন্তর্নিহিত সক্ষমতা নিয়ে দেশে দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকিং’ শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামী অর্থায়ন পদ্ধতি উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারমূলক এবং নিছক লাভকে প্রাধান্য দেয়ার পরিবর্তে সমাজের সকল মানুষের চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দেয়। যা সামাজিক উন্নয়নের সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করে। জনকল্যাণমুখী লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, আর্থিক লেনদেন ও উৎপাদনশীল পুঁজিপ্রবাহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অংশীদারিত্বমূলক ও সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন কৌশল, এর সহজাত বস্তুনিষ্ঠ লেনদেন পদ্ধতি প্রভৃতি অন্তর্নিহিত সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ও ক্রমাগত উন্নতির পরও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো এরও সমালোচনা করার মতো দিক রয়েছে। খ্যাতিমান গবেষকদের দৃষ্টিতে ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনে ইসলামী ব্যাংকিংকে যেতে হবে আরো বহু দূর, সৃষ্টি করতে হবে দক্ষ ও পেশাদার ব্যাংকার, ঘটাতে হবে পণ্যবৈচিত্র্য ও মানসম্মত সেবার উন্নয়ন। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সকল স্তরে শরিয়াহর নীতিমালা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এখন এ শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু মুনাফা দ্বারা তাড়িত হয়ে শরিয়াহ পরিপালনে শৈথিল্য দেখালে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।  ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আরো চ্যালেঞ্জ আসছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক উদারীকরণ (liberalization), বিনিয়ন্ত্রণ (deregulation) ও বিশ্বায়ন (globalization) থেকে। এগুলো মোকাবেলায় শাক্তিশালী ভিত্তি, উচ্চতর দক্ষতা ও বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার শক্তি অর্জনে আগে থেকেই সচেষ্ট হতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করতে একদল শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী ব্যাংকারের প্রয়োজনীয়তা সময়ের অপরিহার্য দাবিতে পরিণত হয়েছে। এমন অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ রয়েছেন যাদের অথনীতি ও ব্যাংকিং সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই আবার অনেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ আছেন যারা ইসলামী শরিয়াহ সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখেন না। ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থাকে বিশ্বজনীন আদর্শ ও কল্যাণকর ব্যবস্থারূপে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও পেশাদার ব্যাংকারদের মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিশেষ করে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিত্য-নতুন আর্থিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের নব জাগরণ ইসলামী ব্যাংকিংকে সমৃদ্ধ করবে।
বিশ্বের অন্যতম শরিয়াহ স্কলার জাস্টিস তকি উসমানি বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়গুলো অনেকটা উপেক্ষিত। এমন অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ দেখতে পাওয়া যায়, যারা নামায-রোযা, বিবাহ-তালাকের ওপর গভীর জ্ঞান রাখলেও, তারা আর্থিক লেনদেনের মাসয়ালা সম্পর্কে তেমন পারদর্শী নন। বিশেষ করে আধুনিক যুগের জটিল ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত রীতিনীতি সম্পর্কে তারা খুব কম ধারণাই রাখেন। ফলে ব্যবসায়ীগণ তাদেরকে ব্যবসার মূল সমস্যা বোঝাতে পারছেন না। আলেমগণও নিজ থেকে এসব বিষয় জানার চেষ্টা করেন না। ফিকহের যেসব মূলনীতির ওপর এসব সমস্যার সমাধান দেয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে তারা ততটা অভিজ্ঞ নন বলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে ব্যর্থ হন। কাজেই ব্যবসায়ীরা মনে করেন আলেমদের কাছে প্রকৃত সমাধান নেই। তাই তারা যা খুশি করেন। অথচ পূর্ববতী আলেমগণ এসব বিষয়ে খুবই সচেতন ছিলেন।
হানাফি মাযহাবে অন্যতম ফকিহ  ইমাম মুহাম্মদ। তার নিয়ম ছিল বাজারে বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে ওঠাবসা করা এবং ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়া। একদিন এক ব্যক্তি তাকে বাজারে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আলেম মানুষ, কিতাব পড়া ও পড়ানো আপনার কাজ। আপনি বাজারে কেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি ব্যবসায়ীদের রীতিনীতি ও তাদের পরিভাষা সম্পর্কে জানতে এসেছি। কারণ এ ছাড়া সঠিক মাসয়ালা বের করা যায় না।
সম্প্রতি বিআইবিএম আয়োজিত ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোতে করপোরেট সুশাসন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা প্রকৃত ইসলামি ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে পরিচালকদের সদিচ্ছা, ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে আলাদা আইন, মান-নির্ধারণকারী সংস্থা বা রেটিং এজেন্সি গড়ে তোলা এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে শরিয়াহর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুসরণের তাগিদ দেন। কিন্তু তাদের বক্তব্য কোনো কোনো সংবাদপত্রে খ-িতভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধনে প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সমালোচনা। কিন্তু সমালোচনার ক্ষেত্রেও রয়েছে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা। ইসলামের দৃষ্টিতে সমাধান জানা না থাকলে শুধু সমস্যা উসকিয়ে দেয়া সমালোচকের কাজ নয়, তাকে প্রকৃত সমস্যার সমাধানও বলে দিতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন সমস্যা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই নবোদ্ভাবিত সমস্যাদির শরিয়াহসম্মত সমাধান প্রয়োজন। সময়ের পরিবর্তনে উদ্ভাবিত নতুন, কঠিন ও জটিল সমস্যাকে যদি শরিয়াহর আলোকে বাস্তবানুগ সমাধান না দেয়া হয় কিংবা সমাধান না দিয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়, তাহলে ইসলামী শরিয়াহ থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত বিষয়ের সমাধান অবশ্যই দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র.-এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, যদি কোনো সমাধান প্রত্যাশীকে কোনো জরুরি বা প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার মাসয়ালা দিতে হয় তাহলে গবেষকের উচিত হবে তার বিকল্প পথ বলে দেয়া।
আমাদের দেশে ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে অনেক সমালোচনা দেখা যায়। যাতে কোনো সারবস্তু খুঁজে পাওয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে সেখানে কুৎসা রটনাই মূল প্রতিপাদ্য হয়ে যায়। কীভাবে ইসলামী ব্যাংকিং করা যায়, কোথায় কোথায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ত্রুটি আছে, কীভাবে তা সমাধান করা যায়, তা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক কিছু তাদের আলোচনায় নেই। কোনো কোনো সমালোচক এমন আছে, যারা ইসলামী ব্যাংকার ও আর্থিক বিশ্লেষকদের আত্মসমালোচনা ও মূল্যায়নে বিবৃত ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সীমাবদ্ধতাগুলোকে এ ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করে। এসব সমালোচকের দৃষ্টান্ত ওই ব্যক্তির মতো যে কোনো ধার্মিকের প্রার্থনায় উল্লেখিত কাকুতি-মিনতি ও অনুশোচনাকে তার অপরাধ হিসেবে তুলে ধরার কসরত করে।
প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার তুলনায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বয়স একেবারেই কম। সামনে এগোতে হলে ভাঙতে হবে বহু বাধা ও প্রতিকূলতার পাহাড়। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সফলতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন কার্যকরী ও যোগ্য নেতৃত্ব, সকল পক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং গঠনমূলক দিকনির্দেশনা।
rahmatullah1066@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ