বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

দেশ সুবিধাবাদী রাজনীতির কবলে পড়েছে -বি চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার : দেশ সুবিধাবাদী রাজনীতির কবলে পড়েছে মন্তব্য করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশের বিরোধী দলগুলো প্রচুর সুবিধা ভোগ করছে। সমাবেশের ঘোষণা দিলে অনুমতি দেয়া হয় না যানজট হবে বলে। কিন্তু নিজেরা যখন সমাবেশ করেন তখন আর যানজট হয় না। এটা হলো সুবিধাবাদী পলিটিক্স। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বার বার বলেন একদিন আগেও নির্বাচন দেয়া হবে না। আবার বলেন প্রস্তুতি নিতে। ইশতেহার তৈরি করতে। আপনি সাহস করে নির্বাচনের দিনটা জানিয়ে দেন না। তাহলে সবার জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে। এ সময় তিনি ভুলে ভরা পাঠ্যবইয়ের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুসলীম লীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১০২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ মুসলীম লীগ বিএমএল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বড় বড় পন্ডিত ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষানীতি বানালেন। বড় বড় ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করলেন। এরপরও পাঠ্য পুস্তকে এত এত ভুল। এখন ফেসবুকের দোষ। সবচেয়ে বড় পন্ডিততো আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী। অন্যকোন দেশ হলেও পদত্যাগ করতেন। এমনকি ভারতের মন্ত্রী হলেও পদত্যাগ করতেন। কিন্তু পদত্যাগ করলেতো আমাদের মন্ত্রীরা পঙ্গু হয়ে যাবেন।
বি-চৌধুরী রসিকতা করে বলেন, আমাদের দেশে বিরোধী দলের প্রচুর স্বাধীনতা। সরকারি দল চাইলেই সমাবেশ করতে পারে। তখন রাস্তায় যানজট হয় না। কিন্তু বিরোধী দল সমাবেশ করলেই সমস্যা। অনুমতি লাগে। অনুমতি দেয়া হয় না।
তিনি বলেন, আমরা নিজেদের সুবিধা মত পলিটিক্স করি। এই পলিটিক্স দিয়ে দেশে শান্তি আসবে না। দরকার সঠিক গণতন্ত্র। আমরা উন্নয়নের কথা বলি। কিন্তু কেবল উন্নয়ন দিয়ে হবে না। চাই শান্তি। এখন প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে শান্তির দেশ কোনটা? নাম চলে আসে ভুটানের।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন, নির্বাচন হবে না একদিন আগেও। কিন্তু আবার বলেন প্রস্তুতি নিতে থাকুন। ইস্তেহার প্রস্তুত করতে বলেন। তাহলে নির্বাচনের তারিখটা বলে ফেলুন না। তাহলে নির্বাচনের জন্য সবার প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়।
এ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি কাশ্মির থেকে ঢাকা এসে পুরো দুস্তর ঢাকাইয়া হয়ে যান। তিনি ঢাকায় সর্বপ্রথম বিদ্যুত আনেন। ড্রেনের ব্যবস্থা করেন। তখন ঢাকায় মাত্র ১ লাখ মানুষ বসবাস করতো। বর্তমানে দেড় কোটি। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। তিনি সব সময় উদার মানসিকার পরিচয় দিতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতেন।
নবাব সলিমুল্লাহকে কেউ মনে করেন না অভিযোগ করে তিনি বলেন, সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জাগিয়ে তুলেছিলেন। সেই জাগ্রতভাবটা আর ধরে রাখা যায়নি।
বিকল্পধারার চেয়ারম্যান আরও বলেন, মুসলীম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ হয়েছে। আরও অনেক দল হয়েছে। মুসলীম লীগ করতেন বর্তমানে তারা অনেক বড় বড় পদে বসে আছেন। কিন্তু কেউ সলিমুল্লাহকে স্মরণ করে না। মৃত্যু বার্ষিকী ছাড়া মুসলীম লীগও স্যার সলিমুল্লাহকে স্মরণ করে না বলেও অভিযোগ করেন বি-চৌধুরী। মুসলীম লীগ সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ