বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

খুনি সন্দেহে গ্রেফতার দুই শিশুকে হাজিরের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : খুনি সন্দেহে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে আটক দুই শিশু মোহাম্মদ ইউসুফ ও জয় দাসকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে তাদের হাজির করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। একজন পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে এই আদেশ পালন করতে বলা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
গত ২৪ নবেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘লাশের পরিচয় মেলেনি, খুনি সন্দেহে ২ শিশু গ্রেফতার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে একটি রিট আবেদন করেন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম।
আইনজীবী মো.আব্দুল হালিম জানান, রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২৯ নবেম্বর ওই দুই শিশুর বয়স নির্নয় করা হয়েছে কি-না সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। আদেশ অনুসারে ৪ জানুয়ারি লালবাগের উপ কমিশনার (ডিসি) ও কামরাঙ্গীচরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদালতে প্রতিবেদন দেন। গতকাল রোববার ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত দুই শিশুকে হাজিরের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, আদালতের রুল জারির পর পুলিশ ওই দুই শিশুর বয়স নির্ণয়ে ব্যবস্থা নেন। এ কারণে ওই দুই কর্মকর্তাকে আদালতে হাজিরের আবেদন করি। আদালত তাদেরকে হাজিরের আদেশ না দিয়ে দুই শিশুকে হাজিরের নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই মাস আগে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছিল। ১০ দিন পর লাশটি নিখোঁজ এক শিশুর দাবি করে শিশুটির পরিবার খুনের মামলা করে। খুনি সন্দেহে পুলিশ দুই শিশুকে গ্রেফতার করে। বিচারিক হাকিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নিয়ে তাদের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠান।
এর আগে অভিযোগকারী পরিবার ও পুলিশ অভিযুক্ত শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের স্বীকারোক্তি নেয়। এ সবই ঘটে দুই দিনের মধ্যে। আরও পরে জিজ্ঞাসাবাদের দুটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে তুলে দেন নিখোঁজ শিশুটির এক ফুফাতো বোন।
লাশটির পরিচয় কিন্তু অজানাই আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলছে, সে পানিতে ডুবে মারা গেছে। অভিযুক্ত দুই শিশু বলছে, মারধর করে তাদের মিথ্যা দায় স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছে।
মামলাটি হয়েছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায়। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে গত ১ অক্টোবর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের কালুনগর খাল থেকে। বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম সেটা দাফন করে।
এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর লালবাগ এলাকা থেকে আলিফ নামের নয় বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা উজ্জ্বল ভূঁইয়া। ১১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে আলিফের বাবা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় শিশু দু’টির (শিশু হওয়ায় তাদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না) নামে খুনের মামলা করেন। এজাহারে তিনি লেখেন, অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি তার ছেলের। ওই দুই শিশু মিলে আলিফকে গলা টিপে হত্যা করে কালুনগর খালের পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। আলিফের বাবা তখনই এক শিশুকে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ রাত দেড়টার দিকে অপর শিশুকে গ্রেফতপ্তার করে। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, নয় বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা যাবে না (ধারা ৪৪/১)।
মামলার এজাহারে শিশু দু’টির বয়স বলা হয়েছে ১২ বছর। কিন্তু অভিভাবকেরা বলছেন, তাদের বয়স নয় বছরের কম। আদালতে জন্মসনদ দাখিল করে মামলা থেকে এক শিশুর অব্যাহতি চেয়েছেন তার আইনজীবী। ওই সনদে দেখা যায়, তার জন্ম তারিখ ২৯ জানুয়ারি, ২০০৮। আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ