বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মংলা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম -অর্থমন্ত্রী

খুলনা অফিস : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মংলা সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এ বন্দরের উন্নয়নের দিকে সরকারের নজর রয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে মংলা বন্দর পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী দুপুর সাড়ে ১২টায় বন্দরে পৌছান এবং কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। সভায় বন্দরের উন্নয়ন অগ্রগতি ও বিরাজমান সমস্যা তুলে ধরেন বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময় অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খোঁজ খবর নেন। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় তুলনামূলক বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গাড়ি যোগে মংলা বন্দরের জেটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেকসহ বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী রামপাল তাপবিদুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, মংলা বন্দর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ বন্দরের আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এখনই বড় ধরনের কোন পরিকল্পনা নেই। রামপাল তাপবিদুৎ প্রকল্প নিয়ে অর্থ মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প নিয়ে বেশ হই চই হয়েছে। তাই প্রথমবারের মতো পরিদর্শনে আসা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রামপাল তাপবিদুৎ কেন্দ্র ২০১৮ সালে পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারবে। এ দিকে অর্থমন্ত্রীর এ সফর কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন্দর কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন, মংলা বন্দরের বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। আর অর্থমন্ত্রীর সফরে এ সব সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা। তবে অর্থমন্ত্রীর মংলা বন্দর সফর নিয়ে যেমন উন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিস্টরা। আর তেমনই এ বন্দরের আধুনিকায়ন ও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে অপরিসীম।
রোববার বিকেলে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাগেরহাট জেলা এখন একটি ‘বিগ আরবান এরিয়া’ হয়ে গেছে। এ জেলা অনেক বেশি পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে পর্যটন জোনের জন্য কিছু করা যেতে পারে। অচল হয়ে পড়া মংলা বন্দর বর্তমান সরকারই উন্নয়ন করেছে। মংলা বন্দর আমাদের অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মংলায় ইপিজেড রয়েছে। তাছাড়া মংলাতে অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষি নির্ভর জাতীয় অর্থনীতিতে বাগেরহাট একটা ভূমিকা পালন করছে। আর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান হয়ে গেলে এই এলাকাটি একটা ‘পাওয়ার হাব’ হয়ে যাবে। বাগেরহাটে এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে রয়েছে খানজাহান (রহঃ) এর মাজার। তিনি একদিকে যেমন ছিলেন একজন জেনারেল শাসক, অন্যদিকে ছিলেন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। দ্যাস্ট এ বেটার অফ প্রাইট ফর বাগেরহাট। তার নির্মিত ষাটগম্বুজ তো ওয়ান ওফ দ্যা ফাইনেস্ট মস্ক (মসজিদ) ইন দ্যা ওয়ার্ড। এতবড় গম্বুজ ওয়ালা সুন্দর মসজিদ আর কোথায় পাওয়া যাবে? অর্থমন্ত্রী পরে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ, নাগেরবাড়ি ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন (তিনি এসডিও থাকাকালিন সময়ের বাসভবন) পরিদশর্ন করেন। এছাড়া বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়ায় তার বোনের প্রয়াত স্বামী ড. হুমায়ুন কবিরের কবর জিয়ারত করেন। এর আগে সকালে তিনি মংলা বন্দর ও রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ