মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন খুন

খুলনা অফিস : খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া এলাকার শহীদ শেখ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইন (৪৫) নিহত হয়েছে। মহানগরীর শেরে বাংলা রোডের আমতলা মোড় এলাকার বাসা থেকে তার লাশ হাত-পা মুখ বাধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, গ্রীলকাটা সংঘবদ্ধ চোর তাকে খুন করতে পারে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।  এদিকে এ ঘটনার পর তার স্ত্রী লাকি গোলদার ও ছোট দুই মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাদের আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। চিত্তরঞ্জন নগরীর পিটিআই মোড়ে ‘চিত্ত স্যারের ইংরেজি ব্যাচ’ নামের একটি কোচিং চালাতো। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসে ভিড় জমায় এবং গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহত চিত্তরঞ্জন পালের ভাইপো বাপী গাইন জানান, তার জ্যাঠিমা লাকী গোলদার এক সপ্তাহ আগে বাপের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝড়ভাঙ্গা গ্রামে বেড়াতে যান। এ সময় লাকী গোলদার তার দুই মেয়ে প্রমা (৮) ও ৬ মাস বয়সী মেয়ে প্রাপ্তিকেও সাথে নিয়ে যান। নগরীর ৫৯ শেরে বাংলা রোডের আমতলার মোড়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদের বাড়ির নীচ তলার ভাড়া বাসায় রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন। শনিবার দিবাগত রাতের যে কোন সময়ে দুস্কৃতকারীরা জানালার গ্রীল কেটে ঘরে ঢুকে চিত্তরঞ্জনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে হত্যার পর স্টীলের আলমারি ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। রোববার বেলা ১১টার দিকে চিত্তরঞ্জনের স্ত্রী লাকি গোলদার তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা রিসিভ হয়নি। এ ঘটনায় লাকী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তার বাবা রতন গোলদারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে রতন গোলদার সেখানে গিয়ে চিত্তরঞ্জনকে ডাকাডাকি করলে ভেতর থেকে কোন সাড়া না পেয়ে ঘরের আশেপাশে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে দেখতে পান ঘরের জানালার গ্রীল কাটা। পরে প্রতিবেশী লাইলী নামের একটি মেয়েকে কাটা জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিতে বলে। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় চিত্তরঞ্জন বাইন তার শয়নকক্ষে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে খুলনা থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি ও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক তাপস পাল বলেন, নিহত চিত্তরঞ্জনের দুই হাত, দুই পা ও মুখ বেঁধে ফেলে দুস্কৃতকারীরা। চিত্তরঞ্জনের মাথার ডান পাশে ও ডান পায়ে ভারী কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার মাথা ও পায়ে আঘাতে রক্ত জমে থাকার চিহ্ন দেখা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। এবং পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ