মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বর্তমান নাৎসীবাদ সমতুল্য শাসনকালের নামই হচ্ছে হাসিনা-মার্কা গণতন্ত্র

  • বিএনপিকে ঠেকাতেই সড়কে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিকে ঠেকাতেই সড়কে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে গণতন্ত্র ক্রমাগত সংকোচনের ধারায় এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে নাৎসীবাদ সমতুল্য শাসনকালের নামই হচ্ছে হাসিনা-মার্কা গণতন্ত্র। গতকাল রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

 দেশের মানবাধিকার অবস্থা খুবই খারাপ অভিযোগ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা দমন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিরোধীদের ওপর ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে এবং এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। ব্লগার, শিক্ষাবিদ, সমকামী অধিকার কর্মী, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক হারে গ্রেফতার, নির্যাতন করছে। পুলিশী হেফাজতে তাদের গুলী করা হয় এবং পুলিশ একে আত্মরক্ষামূলক উল্লেখ করে মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিরোধী দলের সভা-সমাবেশেও বাধা দেয়া হচ্ছে। সরকারের চাপে গণমাধ্যম সেল্ফ সেন্সরশীপের পথ বেছে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে। 

এইচআরডব্লিউর ওই প্রতিবেদনের উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এতে আরো অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপরও সরকারি দমন-পীড়ন জোরালো হয়েছে। দুটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য বিশেষ আইন পাস করা হয়েছে। ওই আইনের আওতায় এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া বিদেশী তহবিল গ্রহণ নিয়ে এনজিওগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইন পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে।

রিজভী বলেন, এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে তা দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার তুলে ধরলেও বর্তমান স্বৈরশাসক তাদের জুলুম-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। মানবাধিকার কর্মীরা যত সত্য চিত্র তুলে ধরুক না কেন তাতে ভোটারবিহীন জনবিচ্ছিন্ন সরকারের কিছুই যায় আসে না। সরকারের অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকসহ বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার হতে শুরু করেছে। আর বেশি দেরী নয় নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিগগিরই তুমূল গণআন্দোলন শুরু করবে জনগণ। অনাচার ও জুলুম করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।

‘প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন-রাস্তায় আর কোনো প্রোগ্রাম করা যাবে না’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, মূলত বিএনপি’র সভা-সমাবেশ বানচাল করার জন্যই এই আদেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপির সমাবেশ করতে কীভাবে বাধা দেয়া হয়েছে বারবার। মানুষের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেয়ার জন্যই এই আদেশ। গণতন্ত্র ক্রমাগত সংকোচনের ধারায় এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি। তিনি বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা লক্ষীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১২ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আহত ও কার্যালয় ভাংচুর করে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে এই সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে জনগণের দাবি উপেক্ষা করছে। তারা চায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতোই আরেকটি নির্বাচন দিতে। এ কারণেই তারা ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা বলছেন। রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি বিএনপির পরামর্শ বিবেচনায় না নিয়ে কেবল আওয়ামী লীগের পরামর্শ বিবেচনা করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন একতরফা গ্রহণযোগ্য হবে না। তার অধীনে নির্বাচন হলে তা ‘ফলস’ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচন কমিশন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। বরং নির্বাচন কমিশনকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। রিজভী বলেন,আওয়ামী লীগ যদি রাষ্ট্রপতির কাছে কানে কানে বলে যে ‘আপনি তো আমাদের দলের লোক, আমরা যেভাবে বলবো আপনি সেভাবেই করবেন’ তাহলে এদেশে কখনও শান্তি-স্বস্তি আসবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ