বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রাশিয়ার সহযোগিতায় জয়ী ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট মনে করি না -নাগরিক আন্দোলনের পথিকৃত জন লুইস

১৫ জানুযারি, বিবিসি, ইউএসএ টুডে, সিএনএন, দ্য হিল : ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত জন লুইস। নির্বাচনে ‘রুশ হস্তক্ষেপের’ কথা উল্লেখ করে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ‘বৈধতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট নেতা জন লুইস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত এই ব্যক্তিকে আমি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে মনে করি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার সহযোগিতার কারণেই তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। আর হিলারির পরাজয় হয়েছে।’
জন লুইস বলেন, ‘যাকে ভুল বলে মনে করেন, এমন কারও সঙ্গে আপনি এক ঘরে থাকতে পারেন না।’ তিনি ‘এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে’ উল্লেখ করে, ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকারও ঘোষণা দেন।
লুইস ছিলেন মার্কিন অধিকার আন্দোলনের ‘আইকন’ মার্টিন লুথার কিং-এর অন্যতম সহযোগী। ১৯৬৫ সালে অ্যালাবামার সেলমায় যে সমাবেশে কিং পুলিশি হামলার শিকার হন, সেখানে বক্তব্য রাখা একমাত্র জীবিত ব্যক্তি তিনি।
লুইসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কংগ্রেস সদস্য জন লুইসের উচিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভিযোগ না করে তার নিজ নির্বাচনি এলাকার দিকে নজর দেয়া। শুধু কথা, কথা, কথা  না কোনও পদক্ষেপ, না ফলাফল। দুঃখজনক’। এই বিতর্কিত প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে ট্রাম্পকে। এই তালিকায় ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতাও রয়েছেন। সাবেক রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি চেয়ারম্যান মাইকেল স্টিলি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসি-কে বলেন, ‘প্রথমত, এটা টুইট করবেন না। দ্বিতীয়ত, সেখানে যাবেনও না।’ তিনি ট্রাম্পের এই আক্রমণকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নবনির্বাচিত সিনেটর কামালা হ্যারিস বলেন, ‘জন লুইস মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আইকন, যিনি ন্যায়বিচার ও সাম্যের পক্ষে নির্ভিক। তার সঙ্গে এমনটা হওয়া ঠিক হয়নি।’
এদিকে, মার্কিন নাগরিক অধিকারকর্মীরা ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষার দাবি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের সময়ে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার ওয়াশিংটনে ওই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের অন্যতম উদ্যোক্তা ও অধিকারকর্মী আল শার্পটন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের ‘শক্ত অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এই তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও এখানে সমবেত হয়েছি দেশের মানুষকে বোঝাতে যে, আমরা এতোদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যা অর্জন করেছি, তা একটি নির্বাচন জয়ের চেয়ে অনেক বেশি। আর তা আমরা হারাতে চাই না।’
প্রায় ৩০টি ট্রাম্প-বিরোধী গ্রুপ ওই সমাবেশের আয়োজন করে। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বহু বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পরদিন সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উইম্যানস মার্চ’। ওই সমাবেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও ডেমোক্রেটিক নেতা জর্জিয়ার কংগ্রেসম্যান জন লুইসকে অপমান করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। টুইটারে জন লুইসকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার মার্কিন নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মানবাধিকার কর্মী জন লুইসের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়েছে। আক্রমণ করে চলেছেন একে অপরকে। বিতর্কের জেরে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জন লুইস। এমনকি ট্রাম্পে অভিষেকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লুইস।
অন্যদিকে ট্রাম্পও পিছিয়ে নেই টুইটারে জন লুইস সম্পের্কে বাজে মন্তব্য করে বর্তমানে বির্তকের সৃষ্টি করেছেন। ট্রাম্প লুইসকে বেশি কথা না বলে নিজ অঙ্গরাজ্যের উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
লুইসকে টুইটারে ট্রাম্পের আক্রমণের কারণে ক্ষোভে ফেটে পরছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। কেননা লুইস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মানবধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সমুন্নত রাখায় তার অবদানকে অসামান্য বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তার উপর এভাবে ট্রাম্পের আক্রমণকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। তারা নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব পার্লামেন্টর মাইনোরিটি লিডার ন্যান্সি পেলসিও ট্রাম্পের টুইট বার্তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিজের টুইটারে এক বার্তায় এ নিন্দা জানান ন্যান্সি। এছাড়াও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও টুইটার  প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের সমালেচনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ