বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

সবার আগে নিজকে গড়ো
নজরুল ইসলাম শান্তু

যেমন জুতা, জুতার কালি
তেমন মানুষ, মুখের গালি
ভদ্রতা আর নম্রতাতে
দাও সাজিয়ে ফুলের ডালি।

যেমন আঘাত, তেমন ক্ষতো
এক ঘুষিতেই জমের মতো
দাও জড়িয়ে দাঁতের পাটি-
মুক্ত করো দেশের মাটি।

যেমন মরদ, তাগড়া তাজা
নাপিত সাজে দেশের রাজা
মুর্খতার ঐ অভিশাপে
নির্দোষিরও হয়গো সাজা।

যেমন শিক্ষা, শিক্ষিত জন,
পিঁপড়াতে খায় কৃপণের ধন
ছাল নাই কুত্তার বাঘের ফালেও
পথের টোকাই বিগ মহাজন।

নিজকে নিজেই যাচাই করো
সভ্য সমাজ বাছাই করো
উক্তিতে নয়, যুক্তিতে সব-
মানবতার শ্লোগান ধরো।

বেড়াল ভেবে বাঘ ধরো না
হাতির পাড়ায় কেউ মরো না
দুষ্টুজনের আশকারাতে
জ্ঞানির ঘাড়ে কেউ চড়ো না।

তোমার কাজেই হাসবে গদি
হাসবে আকাশ, সাগর-নদী
চাকরি করো ব্যবসা করো-
নিজকে গড়ো শেষ অবধি।


শীতকালে
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

শীতকালে ভালো লাগে
রোদ-তাপ পেতে
উনুনের পাশে বসে
ভাঁপা পিঠা খেতে।

শীতকালে ভালো লাগে
খেজুরের রস
ফুলকপি-পাতাকপি
টমেটোর সস।

শীতকালে ভালো লাগে
সর্ষের মাঠ
দহলিজে দলবেঁধে
পুঁথিবই পাঠ।

শীতকালে ভালো লাগে
শিশিরের ‘টুপ’
গুলবাগে ফুল ফোটে
লাগে অপরূপ।

শীতকালে ভালো লাগে
পরিযায়ী পাখি
পাখিদের শোরগোল
আর ডাকাডাকি।

শীতকালে ভালো লাগে
কম্বল-লেপে
ঠাণ্ডায় চলাফেরা
করি মেপে মেপে।


রক্তজবা
আব্দুস সালাম

টকটকে লাল রং বাহারী রূপ
নানা জাতের জবা জনপ্রিয় খুব।
সারাবছর জবাফুল এই দেশে ফোটে
ভোমরা ও মৌমাছি মধু লোভে ছোটে।

কেউ লাগায় আঙিনায় কেউ বা ছাদে
টবে গাছ লাগাতেও চায় আহ্লাদে।
কেউ যদি ফুল ছেঁড়ে নেই তার নিস্তার
শাখা কলম দিয়ে হয় বংশের বিস্তার।

এ ফুলের আদিবাস জানি সবে চীনে
ঝোপ-ঝাড়েও জন্মায় পরিচর্যা বিনে।
জবাফুলে বাসাবাড়ি সাজাতে চাই
ঔষধি নানা গুণে তুলনা যে নাই।


কুঁড়েঘর
মোল্লা আল আমিন

এখানে দিনের শুরু ভোরের হাসি
সুখ আর দুঃখেরা থাকে পাশাপাশি
নরম রোদের মায়া সুখেরা হাসে
অশান্ত ঝড়ে ঠিক দুঃখেরা ভাসে।
এখানে মায়ের কোলে শান্তি ছায়া
পরম সুখ আর মমতা মায়া
জননীর বুকের ধন কতই আপন
ভাল আর বাসাতে দেখায় স্বপন।
এখানে ক্লান্ত দেহ ঘুমে খাঁটি
বিছানো থাকে তাতে শীতলপাটি
মাটির হাড়িতে থাকে উদরের দানা
মাঝ রাতে তস্কর চালায় হানা।
এখানে নুনের শেষে পানতা ফুরায়
খড়ের নিচে আহা ক্লান্তি জুড়ায়
কেটে যায় রাত আঁধার কালো
সোনালী রোদ দেয় নতুন আলো।
এখানে থাকি ভুলে ভয়-ডর
এখানে এই আমি, আমার কুঁড়েঘর।


গরিব বলে
এইচএস সরোয়ারদী

কারও বেতন দ্বিগুণ হলো
কারও আবার নেই,
এসব প্রশ্নের জবাব গুলো
কেমন করে দেই।

বড় বাবুর বাড়ল বেতন
কুলির বেলায় ফাঁকা,
আমার গাঁয়ের চাষীর বেতন
বাড়েনি এক টাকা।

গার্মেন্টসের কর্মীগুলো
বেতন ছাড়াই খাটে,
এত খেটেও পুরো মাসটা
অনাহারেই কাটে।

যাদের ঘামে কলের চাকা
চলছে অবিরাম,
গরিব বলে এই সমাজে
ওদের নেই দাম।


বাংলা মায়ের গাঁও
ফরিদ আহমদ ফরাজী

ও মাঝি ভাই ও মাঝি ভাই
একটু ফিরে চাও
পাল তোলা নায়ে একা তুমি?
আমায় নিয়ে যাও।

ও পাড়ার ঐ ছোট্ট গাঁয়
হৃদয়ের টানাটানি
নানার বাড়ির উঠোন জুড়ে
স্মৃতির জানাজানি।

টাকা-কড়ি নাই কিছু মোর
আছে খেজুর গুড়
তোমার কাছে আছে জানি
ভাটিয়ালি সুর।

ও পাড়ার ঐ ছোট্ট গাঁয়ে
আমায় নিয়ে যাও
খেজুর রসের পায়েস দিয়ে
নানু বলবে খাও।

ষড় ঋতুর গয়না পরা
বাংলা মায়ের গাঁও
নদীর তীরে কাশের বনে
হালকা শীতল বাও।

হিমালয়ের হিম বাতাসে
হিমেল সবুজ গাঁ
শীত সকালে শিশির কণা
ভিজিয়ে দেয় পা।

যাবো সেথা দেখবো ঘুরে
বাংলা রূপের রাণী
বাংলা মায়ের গলে সবুজ
গয়নার ঝনঝনানি।
শীতের নদী শান্ত জানি
ভয় করিনা তাই
ও মাঝি ভাই মিনতি মোর
নায়ে তোলো ভাই।

ও মাঝি ভাই ও মাঝি ভাই
আমায় নিয়ে যাও
হারিয়ে যাবো দূর অজানায়
স্বপ্ন পুরের গাঁও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ