ঢাকা, রোববার 31 May 2020, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৭ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তালবাড়িয়ায় পাটালি গুড়ের হাট

অনলাইন ডেস্ক : খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যশোর সদরের তালবাড়িয়াতে বসেছে গুড়ের হাট। শুক্রবার ও সোমবার এ হাটে বিকিকিনি হচ্ছে হরেক নামের গুড় আর পাটালি। মাত্র এক সপ্তাহে জমে উঠেছে এ হাট। শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে সদরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের সামনে এ হাটের উদ্যোক্তা স্থানীয়রা। ৩০ ডিসেম্বর থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছে এ হাটের। 

যশোরের ঐতিহ্য খেজুর রসের গুড় আর পাটালির চাহিদা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে রয়েছে দূরদেশেও। রসনা বিলাসীদের চাহিদা পূরণে এখানকার চাষিদের ভূমিকা অনেক বেশি। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তালবাড়িয়ায় গুড় পাটালির এ হাটের যাত্রা। প্রতিহাটে ১৫ থেকে ২০ চাষী নানা নামের আর নানা স্বাদের পাটালির পসরা নিয়ে বসে। বিক্রিও হচ্ছে বেশ। আবার দামেও কম। খেজুর রসের সাথে বাদাম দিয়ে তৈরি পাটালির নাম বাদাম পাটালি আর নারকেল দিয়ে তৈরি পাটালিকে বলা হয় নারকেল পাটালি। এছাড়া আছে দানা গুড় ও ঝোলা গুড়। এক কেজি দানা পাটালির দাম ১শ ২০ থেকে ১শ ৫০ টাকা। নারকলে বাদাম পাটালির দাম সামান্য বেশি। ৮০ থেকে ১শ টাকায় এক কেজি গুড়। 

চাষী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিজের গাছ নিজেই কাটি। ৮০টি খেজুর গাছ আছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি পাটালি তৈরি হয়। স্ত্রী কন্যারা মিলে তৈরি করে এই পাটালি। নতুন এ হাটে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সব পাটালি। 

চাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, এ এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা বেশি তাই গুড় উৎপাদন হয় বেশি। চিনি বা অন্যকিছু মিশিয়ে এ এলাকায় পাটালী তৈরি হয় না। আমরা আমাদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। প্রচারণা কম হলেও এ হাটে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। 

এছাড়া কথা হয় হাটের উদ্যোক্তাদের সোহেল রানা ও হুমায়ুন কবীর তুহিনের সাথে। তারা জানান, সবে শুরু হয়েছে। মাইকে প্রচারও হচ্ছে। তারা জানান,কোন রকম ভেজাল পাটালি বা গুড় এ হাটে তুলতে দেয়া হবে না।

কথা হয় চাষী ও পাটালি বিক্রেতা আবুল হোসেন, কালাম হোসেন, কওসার আলী,হাফিজুর রহমান,ফারুক হোসেনসহ অনেকের সাথে। তারা বলেন কোন কোন এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা অল্প অথচ পাটালি হয় বেশি। তারা জানান, অল্প দামের চিনি মিশিয়ে পাটালিতে লাভ হয় বেশি কিন্তু এ হাটে ভেজাল চলবে না।  সূত্র: বাসস। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ