রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [তিন]
তাঁতী লীগ : ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটিতে সাগর-রুনি মিলনায়তনে তাঁতী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দলীয় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল হয়। তাঁতী লীগ আহ্বায়ক এনাজুর রহমান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সাধনা দাস গুপ্তার সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল হয়ে যায়।
বিএনপি : ১৩ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও পৌর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন নফরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান রউফ-উন-নবী সস্ত্রাসী হামলায় আহত হলে পুলিশ চিকিৎসার কথা বলে হাসপাতাল থেকে চাঁদাবাজী মামলায় গ্রেফতার করে। ১৮ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জে ভৈরব পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আক্তারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২২ ডিসেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় গার্মেন্টস সেক্টরে অসন্তষ সৃষ্টির অভিযোগে সাভার উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও বিএনপি আশুলিয়া থানা মহিলা দল সভানেত্রী উর্মি আক্তার মিনি, তার বড় ভাই ইসামুদ্দিন, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মীর, ইস্রাফিল আলম ও শ্রমিক নেতা তোফাজ্জেল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। ২৯ ডিসেম্বর বগুড়ার গাবতলী পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে পশ্চিম পাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ছাত্র দল : ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জয়দেব কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সিজার এবং জেলা ছাত্রদল সদস্য শফিউল আজমসহ আটচল্লিশ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
যুব দল : ৫ ডিসেম্বর নড়াইলের লোহাগড়ায় চর মল্লিকপুর এলাকা থেকে যুবদল উপজেলা সভাপতি খান মাহমুদ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫ ডিসেম্বর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মানকিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কাজীর তালুক সমিতির হাট থেকে যুবদল নেতা রফিককে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ  তা অস্বীকার করলেও ২৬ ডিসেম্বর তাকে থানায় হাজির করে।
জামায়াত : ৩ ডিসেম্বর কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি সাংগঠনিক বৈঠক থেকে উপজেলা জামায়াতের আমীরসহ বাইশ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলা আমীর ও উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান মাওলানা মিজানুর রহমান আতিকী, আলমগীর সরকার ও অধ্যাপক আব্দুল মতিনসহ বাইশ জন। ৪ ডিসেম্বর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া আলতাফনগর বাজার থেকে উপজেলা জামায়াত আমীর মুনসুর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ ডিসেম্বর নীলফামারীর জলঢাকার দক্ষিন দেশীবাই গ্রাম থেকে উপজেলা আমীর অধ্যাপক সাবের আলী, সাংবাদিক কামারুজ্জামান, রাশেদুজ্জামান, জামিয়ার রহমান ও আকবর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা আশাশুনীর মহেশ্বরকাঠি থেকে জেলা জামায়াত এ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম বকুল ও কলারোয়া উপজেলার মোচড়া গ্রামের বায়োজিত ঢালীকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ বকুলকে ৭ ডিসেম্বর সদর থানা এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার দেখায়। ৮ ডিসেম্বর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া আটুইল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গুনাহার ইউনিয়ন জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা জামাল উদ্দিনকে স্কুল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজশাহীর তাহিরপুরে উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওলানা আহমেদ উল্লাহকে আটক করে পুলিশ। ১০ ডিসেম্বর ঝলকাঠির নলছিটিতে উপজেলা জামায়াত নেতা নাছির উদ্দিন, মাওলানা সাঈদুর রহমান ও শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
১১ ডিসেম্বর যশোরের কেশবপুর পুলিশ উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পুলিশ তালোড়া পৌর জামায়াত নেতা ও তালোড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর ইসলাম নূরুলকে গ্রেফতার করে। ১৫ ডিসেম্বর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
১৭ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি সাংগঠনিক সভা চলা কালে উপজেলা জামায়াত আমীরসহ এগার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা কামাল হোসেন, সেক্রেটারি মাওলানা লুৎফর রহমান, শাল্লা উপজেলা সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও শিবির দিরাই উপজেলা সভাপতি শফিউল আলমসহ এগার জন। ১৮ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পুলিশ দুই জামায়াত কর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় আরো ত্রিশ জনকে গ্রেফতার করে। ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় দশ জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- এ্যাডঃ জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, বশির উদ্দিন, তসলিম, হারুনুর রশীদ, আব্দুস সালাম, মশিউর রহমান খান, আজহারুল ইসলাম ও আবুল হাশেম। গার্মেন্টস শিল্পে অসন্তষ সৃষ্টি অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩০ ডিসেম্বর রাজশাহীর চারঘাটে পৌর জামায়াত সেক্রেটারি হাফিজুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চাচীয়া মিরগঞ্জ গ্রাম থেকে পুলিশ জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান নয়নকে আটক করে।
ছাত্র শিবির : ১১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার দেবহাটায় সাবেক উপজেলা শিবির সেক্রেটারি শেখ মাসুদুর রহমানকে দেবহাটা বাজার থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের শোলশহর ১নং গেট এলাকা থেকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাতাশ নিরাপদ শিবির নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৭ ডিসেম্বর নড়াইল পৌর শিবির সেক্রেটারি আব্বাস আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
জেএমবি : ৪ ডিসেম্বর রংপুরের কাউনিয়ায় হলদিবাড়ী রেলগেট এলাকা থেকে জেএমবির সদস্য ইউসুফ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০ ডিসেম্বর ঢাকার পল্লবীতে লালমাটি এলাকা থেকে জেএমবির সদস্য আতিকুর রহমান মিলন ও খাদেমুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
হরকাতুল জিহাদ : ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে র‌্যাব হরকাতুল জিহাদের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট থেকে ২টি পিস্কল, ৭টি ম্যাগজিন, ১২টি হ্যান্ড গ্রেনেট, ১৬৭টি এ্যামুনেশনসহ বোমা তৈরির সারঞ্জাম উদ্ধার করে। প্রথমে দু’জন এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুসারে অন্য দিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।
যুব জনসংগতি সমিতি : ৬ ডিসেম্বর বান্দরবনে থানছি ও রোয়ারছড়ি থেকে অস্ত্রসহ পাঁচ যুব জনসংহতি সমিতির সদস্য পরাণ তঞ্চঙ্গ্যাকে রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে এবং থানছির অনিল কারবারী পাড়া থেকে মিলন চাকমা, মেন ক্রয় ম্রো, মাং ইয়াং ম্রো ও রাং হাই ম্রোকে দেশী তৈরি অস্ত্র, অস্ত্রের বাট ও চাঁদা আদায়ের রশিদসহ গ্রেফতার করে।
লাল পতাকা : ১৮ ডিসেম্বর রাজবাড়ী সদরে চরমপন্থী সংগঠন লাল পতাকার সদস্য ও হত্যা মামলার আসামী মজিবর মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৭ ডিসেম্বর রাজবাড়ী ডিবি পুলিশ ১টি শুটারগান ও ২টি কার্তুজসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন লাল পতাকার আঞ্চলিক নেতা লাল মিয়াকে গ্রেফতার করে।  [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ