শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : ডিসেম্বর ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তাপহীন মাস। এ মাসটি নাসিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা ছিল তৎপর। ডিসেম্বরে ১০২টি রাজনৈতিক সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট তথ্যে নিহতের সংখ্যা ৭। এই ৭ জনের ৫ জনই আওয়ামী লীগের হাতে এবং যুবলীগের হাতে ২ জন খুন হয়। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ১৯৮ এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ২৩৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন, এই ১২ জনের সবাই ছাত্রলীগের। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ডিসেম্বর মাসে নিহত হয়- (১) চট্টগ্রামে কোতোয়ালী থানাধীন দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতার হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইব্রাহিম মানিক খুন, (২) নাটোরের নলডাঙ্গায় সরকারি জমি দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুস সামাদ মোল্লা নিহত, (৩) ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক আবুল কালাম (৪) সফর আলী নিহত হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার নামে মামলা, (৫) ফেনী সদরে দলীয় কোন্দল ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন হয়েছে যুবলীগ নেতা সোহেল, (৬) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হয় বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং (৭) খুলনা শহরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ নেতাকে লক্ষ্য করে গুলী করলে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে পথচারী শিপ্রা রাণী কুন্ডু নিহত হয়।
আওয়ামী লীগ : ১ ডিসেম্বর পিরোজপুর জেলা পরিষদের পদত্যাগী প্রশাসক ও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম জেলা পরিষদে পুরোদমে অফিস করে যাচ্ছে। এ দিন রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে জেলা পরিষদে এসে কর্মীদের নিয়ে মধ্যহ্ন ভোজে মিলিত হয় এবং আগের তারিখে কিছু ফাইলে স্বাক্ষর করে। প্রতিপক্ষ এটাকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন বলে অভিযোগ করে। ২ ডিসেম্বর নড়াইলের কালিয়ার পুরুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনূর রশীদ এবং অপর নেতা মিহির মোল্লার মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ সংঘর্ষে সুজাত মোল্লা, আমিনুল, বনি, সনি, মিলন ও তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন গুলীবিদ্ধ হয়। ৩ ডিসেম্বর খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী অজয় সরকারের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ। অজয় সরকার বাছাইকালে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অজয় অভিযোগ করেন, তিনি নিরাপত্তার মধ্যে থেকে বের হয়ে আসার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডঃ শেখ হারুনুর রশীদের লোক যুবলীগ খুলনা জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান জামাল ও তার লোকেরা অজয়ের উপর হামলা করে। অজয়কে খুর ও রাম দা দিয়ে কোপায় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে গাড়িতে হামলা করে তার গাড়ি ভাংচুর করে।
৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেফতার হওয়া যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দী প্রদানকালে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ও হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও মন্দির ভাংচুর করতে ট্রাক ও ট্রাক্টর ভাড়া করতে দশ হাজার টাকা দেন, পাঁচ হাজার টাকা জাহাঙ্গীর নিজে এবং বাকী টাকা দেন তার বন্ধুরা। ১২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বরফকল মাঠসংলগ্ন লাটিম প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী ওমর খৈয়াম চঞ্চলের ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে হামলা, ভাংচুর, প্রার্থীকে মারধর, সেখানে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেছে আওয়ামী লীগ নেতা শাহজালাল, মালু, জসিম, জাহাঙ্গীর, তপু, মাহ্বুব, লিংকন ও জাবেদসহ বেশ কয়েকজন। ১৬ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িকে বিএনপির বিজয় দিবস র‌্যালিতে আওয়ামী লীগের হামলায় আহত দশজন। হামলায় জেলা বিএনপির নেতা এম.এন আফসার, মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত ও নাসির আহমেদ তালুকদারসহ আহত দশজন। পুলিশ সেখান থেকে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদল সভাপতি আনিসুর রহমানসহ দশ জনকে আটক করে। ১৭ ডিসেম্বর নাটোরের নলডাঙ্গায় কুচকুড়ি গ্রামে ১১ একর খাস জমি দখল নিয়ে খাজুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মৃধা এবং সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুস সামাদ মোল্লা নিহত এবং অপর আটজন আহত হয়। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে কাপ-পিরিচ সমর্থক আব্দুল জলিল ও আল-আমিনকে মারধর করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নূরের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী। নওগাঁ জেলার মান্দার প্রসাদপুর মহল্লায় কলেজ পড়ুয়া সংখ্যালঘু ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লার ছেলে মহিদুল হক বাদশার নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী বৃষ্টি নামে সংখ্যালঘু ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে, বাধা দেয়ায় তারা সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ভাংচুর করে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মহিদুল হক বাদশাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে।
১৮ ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় নীলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। তাদের সংঘর্ষে দশজন আহত হওয়া ছাড়াও তাজুল ইসলামের সমর্থকদের শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ এনে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে আওয়ামী লীগ। মতিহার থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ হাঙ্গামা করে এই পরীক্ষা বন্ধ করে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলনকালে কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল কালাম ও ফজর আলী নিহত যাওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি মোসলেম উদ্দিন এবং তার ছেলে ইমদাদুল হক সেলিমসহ অন্যদের নামে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করে এক কলেজ শিক্ষক আবুল হোসেন। উল্লেখ্য, গত ২৭ নবেম্বর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, বিলম্বে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হওয়ায় ঘটনাটি ডিসেম্বরে প্রকাশিত হলো। ২২ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমানের চশমা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি। এ নিয়ে বচসায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মেছবাহ উদ্দিন হার্ট স্ট্রোক করে।
২৪ ডিসেম্বর ফরিদপুরের শালথায় মদনদিয়া গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ত্রিশজন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল ও আওয়ামী লীগ নেতা ইশারত হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে। ২৫ ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় নীলক্ষা ইউপি নির্বাচনী দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল হক সরকার ও তাজুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সংঘর্ষে আহত পনের জন। সংঘর্ষের সময় গোপীনাথপুর, বীরগাঁও ও দড়িগাঁও গ্রামে তাজুল ইসলাম গ্রুপের অর্ধ শতাধিক বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ২৭ ডিসেম্বর বরিশালে বিজয় দিবসের আলোচনার নামে আবুল হাসানাত আব্দুল্লার আগৈলঝাড়ার বাড়িতে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধি লংঘন করে তিন এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্্, জেলা সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ তালুকদার মোঃ ইউনুস ও জেবুন্নেছা আফরোজাসহ অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মাইদুল ইসলামসহ  জনপ্রতিনিধিদের সেখানে দাওয়াত দিয়ে ভোট চাওয়ার পর অনুষ্ঠান শেষে বিরিয়ানী খাওয়ায়। জেলা পরিষদ নির্বাচনকালে এমপিদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগে নির্বাচন কমিশনের চিঠি স্পিকারকে দেয়ার পরও এলাকায় থেকে তারা এই অনুষ্ঠান করে। পিরোজপুরের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ.কে.এম.এ আউয়ালের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে চেয়ারম্যান মেম্বারদের ডেকে ভোট চাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ আলম। এ ছাড়া তিনি আরো অভিযোগ করেছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ প্রতিদিন তার বাড়ি এলাকায় একটি পার্কে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের গান-বাজনার নামে ডেকে ভুরিভোজ ও উপঢৌকন দিচ্ছে। এ ব্যাপারে শাহ আলম রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সাবেক উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফেনী জেলার সোনাগাজীর চরডুবা গ্রাম থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলী এবং ৩ রাউন্ড শুটার গানের গুলীসহ এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা গাজী রহিমুল্লাহর ভাগ্নে আলাউদ্দিন আলোকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।
২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন ওয়ার্কশপের ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার এমদাদুল হককে টেন্ডার না পাওয়ায় নিজ অফিসে মারধর করে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইলিয়াস। পাবনার সাঁথিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে জেলা পরিষদ নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের হামলায় আহত দু’জন। সৈকত ও পার্থর হামলায় আহত হয় ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও পরে প্রতিপক্ষের অপর হামলায় থানার সামনে আহত হয় যুবলীগ কর্মী সোহেল রানা খোকন। টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে হেরে গিয়ে মির্জাপুরে ভাবখন্ড গ্রামে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করেছে বানাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান, তার ভাই মুনির হোসেন, নজরুল ইসলাম, কবিনুর রহমান, কাজল ও জাকিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। তাদের হামলায় লেলিন আহমেদ, দিপু আক্তার, মর্জিনা বেগম ও রিফাতসহ পাঁচজন আহত হয়। ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হয়। গত বছর ২ অক্টোবর সৌরভ নামে এক শিশুকে লিটন গুলী করায় তখন দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়। তবে এ ব্যাপারে আঠারজনকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের দিকে ইঙ্গিত দিলেও নিহতের ন্ত্রী ও তার ভাই জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করছে না। খুলনা শহরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে জেড.এ.মাহমুদ ডনকে লক্ষ্য করে গুলী ছুঁড়লে গুলীটি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য ও বিডিবিএল খুলনার ডিজিএম চিত্যরঞ্জন কুন্ডুর স্ত্রী শিপ্র রাণী কুন্ডু গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
ছাত্রলীগ : ২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ডাঃ ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রদল কর্মীদের মারধরের পর বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মামলায় হাজিরা দিতে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাওয়ার সময় শো-ডাউনে অংশ নেয়ায় ঢামেক ছাত্রলীগ সভাপতি রায়হান রাত ১২টায় ক্যান্টিনে ছাত্রদল কর্মীদের ডেকে পাঠায়। তারা সাড়া না দেয়ায় ছাত্রদল কর্মী গোলাম মোর্শেদ সজীব, মাকসুদুর রহমান শাহীন, শিপন, তারেক, আব্দুল্লাহ আল-কাফি, রবি, রাসেল ও ইসমাইলকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে শেখ হাসিনার সুস্বস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়ার অনুষ্ঠানে মতবিরোধ নিয়ে পদ বঞ্চিত পাঁচ নেতা-কর্র্মীকে রাতভর নির্যাতন করে ছাত্রলীগ। মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আকিকুর রহমান তুষার, ডাঃ মেহেদী হাসান কবীর, সহ-সভাপতি সম্পদ দত্ত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিপেন সিং, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসান ও আব্দুল জলিলসহ আরো কয়েকজন বাঘমারা হোস্টেলে ডেকে নিয়ে মহিদুল, হাফিজ, ওয়াকিল, সুমন ও স্বপনকে নির্যাতন করে। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ শংকর নারায়ণ তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ৪ ডিসেম্বর রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চাশ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ডঃ ওয়াজেদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ভবন ও শেখ হাসিনা ছাত্রী নিবাসের ৫৪ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা এ.কে প্রামাণিক পার্থ, আল-আমিন ও সোহেল রানা সবুজের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ