শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

রাজনীতি কি পথ হারিয়েছে?

বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় প্রশ্ন জাগে, আমাদের রাজনীতি কি পথ হারিয়ে ফেলেছে? নইলে কেন পত্রিকায় শিরোনাম হবে, ‘খুলনায় মাদক নিয়ে আওয়ামী লীগের তিন পক্ষের দ্বন্দ্ব’। ৪ জানুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে হানাহানির ঘটনা ঘটছে। এসব দ্বন্দ্ব-সংঘাতে যুক্ত আওয়ামী লীগের তিন পক্ষই স্থানীয় সংসদ সদস্যের আনুকূল্য ধরে রাখতে চায়। সংঘাতের এটাও একটা কারণ। আর এদের দ্বন্দ্বের জেরে সর্বশেষ প্রাণ গেছে পথচারী এক নারীর। এই তিনটি পক্ষ হচ্ছে পলাশ-রোহান গ্রুপ, ডন গ্রুপ ও রাসেল গ্রুপ। এর মধ্যে পলাশ-রোহান গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সৈকত রোহান  গত ৩১ আগস্ট প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ মামলার অন্যতম আসামী হলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রচারণা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ওরফে ডন। এদিকে ডন হঠাৎ সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠায় তার সঙ্গে খুলনা নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম আসাদুজ্জামান রাসেলের বিরোধ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হানাহানির যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে নগরবাসী শঙ্কিত। আর লক্ষণীয় বিষয় হলো, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে ভুল পথের যাত্রীরা বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে খুলনায় রক্তপাতের রাজনীতি আবারো ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত খবরে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের সুনজরে থাকার সুবাদে শহরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পলাশ-রোহান গ্রুপ। হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, পলাশ কারাগারে যাওয়ার পর প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন ডন ও আসাদুজ্জামান রাসেল। কিন্তু কে সংসদ সদস্যের বেশি আনুকূল্য পাবেন, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব। এদিকে ডনের ওপর হামলার পর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, মাদককে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটেছে।
আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে তার বরাত দিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে মাদকের সিন্ডিকেট। আর এর সবই হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। কিছু কিছু ওয়ার্ড কাউন্সিলরও-এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ফলে প্রশ্ন জাগে, রাজনীতির সিলেবাসে মাদক এলো কেমন করে? রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে যে আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি থাকে, সেখানে তো মাদকের কোন স্থান নেই। বরং সেখানে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি থাকে সামাজিক অজাচার, অনাচার ও নানা ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার। অতীতে রাজনীতিবিদরা তো এসব ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার পালনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ও আচরণে বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেন? পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, আদর্শের রাজনীতির বদলে ক্ষমতার রাজনীতি মুখ্য হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বলা চলে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এখন জাতির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যাদের কারণে দেশের রাজনীতি পথ হারিয়ে ফেলছে, তাদেরই দায়িত্ব রাজনীতিকে আবার যথাস্থানে প্রতিষ্ঠার। আমাদের রাজনীতিবিদরা কাক্সিক্ষত সেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বর্তমান সভ্যতায় দেশে দেশে যে প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলো, ‘রাজনীতি কি পথ হারিয়ে ফেলেছে?’ অথচ আমরা জানি, রাজনীতি ছাড়া জীবন চলে না, রাষ্ট্রও চলে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি পথ হারিয়ে ফেললে জীবন ও রাষ্ট্র হুমকির মধ্যে পড়ে যায়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় রাজনীতির নানা হালচাল লক্ষ্য করা যায়। পরাশক্তিগুলো ভুল দর্শন ও বিকৃত রাজনীতির কারণে ছোট রাষ্ট্রগুলোকে বিপর্যস্ত করে চলেছে। ফলে বিশ্ব এখন অশান্ত ও অস্থির। এর মন্দ ফল থেকে তারাও বাঁচতে পারেনি। আর মিথ্যার আবর্তে চলার কারণে বিশ্বকে তারা প্রতারণা ও চাতুর্যের জালে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। মানবতা এমন বাতাবরণে দম ফেলতে পারছে না, মানবিক ও নৈতিক অক্সিজেনের অভাবে এখন মৃত্যুদশা থেকে মুক্তির প্রহর গুণছে। পরিতাপের বিষয় হলো, পরাশক্তির প্রশ্রয়ে ছোট ছোট কিছু রাষ্ট্র ও বিভিন্ন অঞ্চলে মানবতাকে পদদলিত করে দুর্বলের ওপর জুলুম-নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণের মতো নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের কথা উল্লেখ করতে হয়।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সামরিক অভিযানসহ ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও গণহত্যা তদন্তে মিয়ানমার সফর করবেন জাতিসংঘের মানবাধিকার দূত ইয়াংহি লি। ৬ জানুয়ারি মেইল অনলাইন পরিবেশিত খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত আগামী সপ্তাহে ১২ দিনের সফরে মিয়ানমার যাচ্ছেন। সোমবার থেকে এ সফর শুরু হওয়ার কথা। ইয়াংহি লি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছাড়াও কাচিন রাজ্যও পরিদর্শনে যাবেন। কাচিনে জাতিগত বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সেখানকার জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা। উল্লেখ্য যে, গত বছরের মার্চে দেশটির নেত্রী অংসান সু চির দল সরকার গঠনের সময় দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেও সেই পথে তারা হাঁটেন নি।
উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কয়েক মাসব্যাপী সামরিক অভিযানের লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী সু চি ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবর থেকে রাখাইন অঞ্চল অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। সৈন্যদের নিষ্ঠুর নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় ৫০ হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইনের এই অবরুদ্ধ অবস্থাকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বর্মী সৈন্যদের কর্তৃক সংখ্যালঘু মুসলিমদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে লি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে রাখাইনে যা ঘটেছে তাতে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, রাখাইন ছাড়াও কাচিন ও শান অঙ্গরাজ্যে সৈন্যদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই অশান্তি সৃষ্টি করছে।
প্রসঙ্গত এখনে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ চরমপন্থীরাও রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই নিপীড়নের কথা কেউ বলুক কিংবা সমালোচনা করুক তা তাদের পছন্দ নয়। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের সমালোচনা করায় দেশটিতে এর আগের সফরের সময় মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ চরমপন্থীরা ইয়াংহি লি’কে হুমকি দেয় এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এবার মিয়ানমার সফরের সময় তার প্রতি বৌদ্ধ চরমপন্থীরা কেমন আচরণ করে তা অবশ্যই একটি পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে। প্রসঙ্গত এখানে প্রশ্ন করা যায় যে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তদন্তে জাতিসংঘ এতটা সময় নিলো কেন? রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের যে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে তাতে তো ওরা প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এতদিন পরে তদন্তে নামলে রিপোর্ট কখন প্রদান করা হবে, আর পদক্ষেপই বা নেয়া হবে কখন? এভাবে কালক্ষেপণ করলে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের কোন অস্তিত্ব থাকবে কী? ইতিহাস বলে, রোহিঙ্গা মুসলমানরা রাখাইনের ভূমিপুত্র। দেশটির ভোটার লিস্টে তাদের নাম ছিল, ছিল তাদের নাগরিক পরিচয়পত্রও। এখন দেখার বিষয় হলো, রোহিঙ্গাদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ কতটা সফল হয়। আর ইতিহাসের সত্য অবলম্বন করে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে তো জাতিসংঘের ব্যর্থ হওয়ার কথা নয়।
পরিতাপের বিষয় হলো পরাশক্তির মতো জাতিসংঘের ভূমিকাও নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলমানদের রক্ষায় জাতিসংঘ যেন অসহায় ও অক্ষম। এটা আসলে বর্তমান সভ্যতা ও বিশ্ব রাজনীতিরই যেন প্রতিফলন। এর বিরুদ্ধে কথা বলার মতো রাষ্ট্রনায়কেরও আকাল চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার জরিপে ২০১৬ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার বা সেরা ব্যক্তিত্ব মনোনীত হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। উল্লেখ্য যে, আল জাজিরা আরবি বিভাগ এ জরিপ চালায়। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটির ফেসবুক পেজের সংবাদ মাধ্যমে পরিচালিত ওই জরিপে ভোট দেয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার লোক। মোট ভোটের ৪০ শতাংশ লাভ করে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে ৫ বছর বয়সী সিরীয় শিশু ওমরান দাকনিশ। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় আহত ওমরানের ধূলোমলিন ছবি ছিল গত বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। এছাড়া ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ড্রোন পরিকল্পনার নেপথ্য নায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাওরি ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
আমরা জানি যে, বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় মুসলিম উম্মাহ নানাভাবে নিপীড়িত-বঞ্চিত, যেন পরাজয়ের এক যুগে বসবাস করছে তারা। বর্তমান সময়ে নানা ষড়যন্ত্র, প্রহসন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহসী লোক তেমন দেখা যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি বিবেচিত হচ্ছেন। মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্কের সমাজ ব্যবস্থায় ইসলামী মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে উন্নয়নের পথে চলার কারণেই তিনি স্বদেশসহ বিশ্বে একজন জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয়া এরদোগান তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নির্র্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট। এর আগে তুরস্কের সবচেয়ে প্রাচীর নগরী ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই তুরস্ক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সময়ে আদর্শিক ও নৈতিক চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আসলেই এক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে জনগণকে উজ্জীবিত করে কেউ যদি সাহসের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তবে তা যে সম্ভবপর হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এরদোগান। শুধু দেশের উন্নয়নই নয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লেও মজলুম মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যকর অবদান রাখতে চেষ্টা করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সিরিয়ার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বিধ্বস্ত আলেপ্পোর নিপীড়িত মানুষদের রক্ষায় রাশিয়ার সাথে অর্থবহ সংলাপে সক্ষম হন তিনি। সিরিয়ায় আমেরিকার প্রতারণাময় কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তিনি সত্য ভাষণে কুণ্ঠিত হননি। এসব কারণেই হয়তো আল জাজিরার বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ