সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রথম টেস্টের শুরুটা ভালো করতে চাই -মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশের সামনে টার্গেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানো। তবে এ জন্য টেস্টের প্রথম সেশনেই ভালো করে এগিয়ে যেতে চান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সেই সাথে ক্রিজে লম্বা সময় টিকে থাকতে হবে বলে জানান টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক বলেন, ‘ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম বল বা ব্যাট যাই পাওয়া যাক না কেনো বাংলাদেশের লক্ষ্যটা হবে শুরুতে প্রথম সেশনটা ভালো করা এবং ক্রিজে লম্বা সময় টিকে থাকা।’ এর আগে এই মাঠে দুটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ।  দুটিতে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড বিরুদ্ধে ইনিংস এবং ৭৪ রানে জয়ী হয়। আর ২০০৮ সালের ফলাফল ছিল ইনিংস এবং ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। ২০০১ সালে নবীন টেস্ট খেলুড়ে দল বাংলাদেশের খেলাটা চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়ালেও ২০০৮ সালের খেলা শেষ হয়ে যায় তৃতীয় দিনেই। তাই ওয়েলিংটনে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই ভালো করার আশাটা চিন্তা ভাবনা করেই বলতে হচ্ছে মুশফিককে। গতকাল  ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে  প্রশ্ন  আসে ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের সর্বশেষ টেস্ট জয় নিয়ে। এ নিয়ে মুশফিক বলেন,‘আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, তাহলো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি জয় মানে এমন না যে বাংলাদেশ অনেক বড় একটা টিম। আমরা সেই খেলাটা আমাদের কন্ডিশনে খেলেছি। বিদেশের কন্ডিশন ভিন্ন। এই ভিন্ন কন্ডিশনে আমরা ভালো  খেলে সেই ধারাবাহিকতাটা দেখাতে চাই। আমাদের এখানে চ্যালেঞ্জ থাকবে আমাদের শুরুটা যেন ভালোভাবে করতে পারি।’ মুশফিক আরও বলেন,‘আমরা গত দু’বছর  দেশেই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এখন বিদেশে ভালো খেলে সে ধারবাহিকতা দেখাতে চাই। এখানে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে যেন শুরুটা ভালো থাকে। আর টেস্টে লম্বা সময় ধরে আমরা যাতে উইকেটে থাকতে পারি।’ নিউজিল্যান্ডে আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘এখানে আমাদের তামিমের ভালো রান রয়েছে। সাকিব এখানে একশ করেছে-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই একশ করেছে। এখানে আমাদের অনেক ভালো কিছু ভালো স্মৃতি আছে।
এবার আমরা আরও ভালো করতে চাই। দলগতভাবে ভালো করতে চাই।’ ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারলেও বাংলাদেশের কারও কারও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য খারাপ ছিল না। মুশফিক বলেন,‘এর আগে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমাদের কারও কারও ব্যক্তিগত প্রাপ্তি ভালো ছিল। কিন্তু যদি টিম হিসাবে কাজ করতে পারতাম তাহলে এক-দুটি ম্যাচ আমাদের পক্ষে আসতো। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।’ টেস্টে নিজেদের প্রত্যাশা নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে আমাদের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জয় অর্জন করতে পারিনি, টেস্টে তা করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে সে যোগ্যতা আমাদের আছে। আমাদের চরিত্রগুলো দেখাতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এখানে উইকেটে টিকে থেকে আমাদের সে কষ্টগুলো করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় আমরা ৫-৬ ওভার ভালো করি বা করতে পারি। কিন্তু এখানে আমাদের কাজগুলো করতে হবে সেশন বাই সেশন। এটা হয়তো অনেক কঠিন হবে। কিন্তু অসম্ভব কখনোই না।’ প্রথম সেশনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ইনিংসকেও লক্ষ্য নিয়ে মুশফিক বলেন,‘এখানে আমাদের জন্যে প্রথম ইনিংসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রথমে বল বা ব্যাট যা পাইনা  কেনও আমাদের প্রথম টার্গেট থাকবে যাতে প্রথম ইনিংসটা ভালো করতে পারি। এরজন্যে আমরা সব সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাবো।’ শুধু ঘাসের উইকেটই নয়, ওয়েলিংটনের  বেসিন রিজার্ভ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রায় সারাক্ষণ বইতে থাকা বাতাসের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে বাংলাদেশ দলকে। এ মাঠে বাতাসে বিভ্রান্ত হন বোলার-ব্যাটসম্যান-ফিল্ডাররা। বলের ধরন বদলে যায় বাতাসের ঝাপটায়! বলের বাউন্স-সুইং’ও বাড়ে। ব্যাটসম্যানও বিভ্রান্ত হন। ব্যাট এক চিন্তায় চালিয়েছেনতো বাতাস সেটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় আরেকদিকে। বাতাস বিভ্রান্ত করে ফিল্ডারকেও। এমনিতেই এখন পর্যন্ত নিউজিল্যাল্ড সফরে বাংলাদেশ দল রয়েছে কঠিন চাপে। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল  ধোলাই হওয়া দল। সেই মন খারাপ দলটিকে এখন আবার ওয়েলিংটনে টেস্ট খেলতে এসে বাতাস মেপেও খেলতে হবে। সেই অবস্থায় ওয়েলিংটনের কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে বোলিং-ব্যাটিংয়ের আলাদা কী পরিকল্পনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম বলেন,‘এই মাঠে বাংলাদেশ টিম আগেও টেস্ট খেলেছে। কাজেই এখানে খেলতে গিয়ে কী কী সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় তা আমরা অনেকে জানি। অনেক পরিকল্পনার সঙ্গে বাতাস নিয়েই অনেক ভাবতে হয়। বাতাসের কারণে এখানে অনেক সমস্যা হয় বল করার ক্ষেত্রে। কখনও বাতাসের সঙ্গে অথবা বিপক্ষে বল করতে হয়। অনেক সমস্যা হয় ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা হয়। উইকেটে বলের বাউন্স কাজ করে। সবকিছু মিলে অনুশীলনে সেটি আমরা খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যারা এ মাঠে আগে খেলেনি তাদের ধাতস্থ করার চেষ্টা করছি পরিবেশের সঙ্গে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ