রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শীতের সঙ্গে বাড়ছে রোগী

রাজশাহী অফিস : পৌষের শেষে রাজশাহীতে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত। এর ওপর গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে দ্বিগুণ।
আকাশে মেঘ থাকায় দুপুর ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে নগরজীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ছন্দপতন ঘটে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুরসহ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়ায় সকালে স্কুলগামী শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের বেগ পেতে হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, রাজশাহীতে গত সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা নামতে থাকে। তবে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্য ওঠানামা করছে। এর মধ্যে কেবল গত ৮ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। তিনি জানান, ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা বেশি নিচে নামেনি। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সকাল ৬টায় রাজশাহীতে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং দুপুর ১২টায় ৯৯ শতাংশ। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্র আরো জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকে দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদিনই এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির পর আকাশে মেঘ কেটে গেলে মাঝারি কুয়াশা পড়বে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। এদিকে, বৃষ্টির কারণে শীতের দাপট বাড়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। ঠাণ্ডা, জ্বর-সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ নিয়ে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন বেশিরভাগ রোগী। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ঠাণ্ডা বাড়লে রোগী বাড়ে এটাই স্বাভাবিক। তবে এসময় শিশু রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে।
লালমনিরহাটে শীতে ৩ জনের মৃত্যু
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের মানুষের জনজীবন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কৃষক, শ্রমজীবি মানুষ ঘর হতে বাইরে যেতে পারছেন না। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে পুরনো কাপড় আগুনে গরম করে শীত নিবারণ করছেন। সরেজমিনে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। চরম বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি, ছিন্নমুল ও তিস্তা-ধরলা পাড়ের হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। কনকনে ঠাণ্ডা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে শ্রমজীবি, ছিন্নমুল মানুষের পাশাপাশি সীমাহীন কষ্টে রয়েছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার হত দরিদ্র মানুষ। ঠাণ্ডা নিবারনে শীতবন্ত্র নেই তাদের। প্রচণ্ড শীতের ঠাণ্ডায় থরথর করে কাঁপছেন তারা। আগুনে শরীর গরম করে অনেকে কাজে বের হচ্ছেন। প্রচণ্ড শীতে দিশেহারা এসব মানুষ। অনেকের ভাগ্যে এখনো জোটেনি শীতবস্ত্র। তিস্তা নদী বেষ্টিত সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের ওয়াজেদ আলী, মহুবার রহমান, হাজেরা বেগম, আব্দুস সামাদ ও লিয়াকত আলী জানালেন, প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল বাতাসের কারনে তারা ঘর হতে বের হয়ে কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারনের জন্য ঘরে গরম কাপড় না থাকায় তাদের জীবন-যাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারন করছেন। কালমাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী শাপলা আক্তার জানান, শীতের কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন তাদের বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তাই তাদের লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। এদিকে গত এক সপ্তাহে শীত সহ্য করতে না পেরে সদর উপজেলার কালমাটি মাষ্টারপাড়া গ্রামের পঁচা মাহমুদ (৭০) কোল্ড স্ট্রোকে মৃত্যু বরন করেন এছাড়া শীত নিবারনে আগুন পোয়াতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মোগলহাট ইউনিয়নের জারী ধরলা গ্রামের অমিতন বেওয়া (৬৫), কালিগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শিয়ালখোয়া গ্রামের তরনী কান্ত (৬৩) মারা গেছেন। এদিকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের খারুভাঁজ গ্রামে আগুন পোয়াতে গিয়ে শিশু আর্জিনা আক্তার (১১) এর পরনের কাপড়ে আগুন লেগে শরীরের পঞ্চাশ শতাংশ পুড়ে গেছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে শীত জনিত নানা রোগও দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশুই সর্দি, কাশি জ্বরসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগামী কয়েকদিনে লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, শীতার্থ মানুষের পাশে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শীতার্থ মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭শ’এক পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ