সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২
Online Edition

জার্মানির মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন ফাউন্ডেশন

“কাউকে না কাউকে তো চেষ্টা করতেই হবে।” সগর্বে জানালেন ওফেনবাখ থেকে আসা ছাত্রী সিহাম ফেট-তাহি। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন তিনি৷ নাম ‘ইবনে সিনা’।
জার্মান শিক্ষামন্ত্রী ইওহানা ভাঙ্কে : ২০১৪ সালের শীতকালীন সেমিস্টারের মেধাবী মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের এই ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
প্রথমে ৫০ জনকে দেওয়া হবে এই বৃত্তি ৷ পরের বছরগুলিতে এই সংখ্যা বেড়ে ৪০০ হবে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা পাবেন মাসে ৬৭০ ইউরো। আর পিএইচডি-র ছাত্রছাত্রীরা পাবেন ১০৫০ ইউরো। এছাড়া বইপত্রের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হবে।
তিন বছরের চেষ্টা সফল হলো : তিন বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সফল হলেন সিহাম ও তাঁর বন্ধুরা। ১৬ই জুলাই বার্লিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হলো ‘ইবেনে সিনা’ ফাউন্ডেশনের জন্য আগামী চার বছরের জন্য ৭০ লাখ ইউরো মঞ্জুর করা হয়েছে।
একাদশ শতাব্দীর বিশিষ্ট মুসলিম বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ইবনে সিনার নামানুসারে ফাউন্ডেশনের নামটি রাখা হয়েছে৷ ‘ইবনে সিনা’ হলো ১৩তম ফাউন্ডেশন, যার অর্থায়নের দায়িত্ব নিল কোনো মন্ত্রণালয়। এছাড়া অন্যান্য কয়েকটি ধর্মভিত্তিক ও রাজনৈতিক দল ঘেঁষা ফাউন্ডেশন এবং কিছু নিরপেক্ষ ফাউন্ডেশনের আর্থিক দায়িত্বও রয়েছে মন্ত্রণালয়ের হাতে।
বৃত্তিভোগী মুসলমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম : জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের হার প্রায় তিন শতাংশ৷ “তবে বৃত্তিদাতা সবগুলি ফাউন্ডেশনেই মুসলমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুব কম”, বলেন অসনাব্রুক ইউনিভার্সিটির ইসলাম ধর্মশিক্ষার অধ্যাপক ব্যুলেন্ট উকার ৷ “এর কারণ অনেক মুসলিম ছাত্রছাত্রীই শিক্ষার দিক দিয়ে কিছুটা দুর্বল পরিবার থেকে আসেন৷ ছাত্রছাত্রীদের জন্য যে, শিক্ষা-বৃত্তির ব্যবস্থা আছে তা অনেকেই জানেন না৷ তাই বৃত্তির জন্য আবেদনও করেন না তারা।”
এছাড়া মুসলিমদের জন্য ধর্ম ভিত্তিক কোনো ফাউন্ডেশনও ছিল না এতদিন৷ ‘ইবনে সিনার’ পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যুলেন্ট উশার। ফাউন্ডেশনটির উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি বলেন, “জার্মানিতে বসবাসকারী ৪০ লক্ষ মুসলিমদের জন্য এক সুন্দর ও ঐতিহাসিক দিন এটি।”
সমতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ : এই রকম একটি ধর্মভিত্তিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য এই সমাজে স্বীকৃতি ও সমতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাখা হলো। জার্মান শিক্ষামন্ত্রী ইওহানা ভাঙ্কেও নতুন এই ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করে বলেন, “সম্পৃক্তির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি।”
এক মুসলিম শিক্ষার্থীর সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল : খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের মতো মুসলমানদের জন্য নিজস্ব একটি ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন ছিল কিনা - এই প্রশ্ন উঠতে পারে এখানে৷ ফেট-তাহি মনে করেন, এই ধরনের একটি ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন ছিল। মুসমানদের বিশেষ চাহিদার দিকে নজর রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে ফাউন্ডশনটি।
ইসলামি জীবনধারার দিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন সেমিনার ও গ্রীষ্মকালীন অ্যাকাডেমির আয়োজন করা হবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। বৃত্তিভোগীরা তাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে পারবেন, সংলাপে উদ্বুদ্ধ হতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ইবনে সিনা ফাউন্ডেশনটিকে সহায়তা করছে বেসরকারি ম্যার্কাটোর-ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাঁচ বছরের জন্য ১০ লাখ ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে অনেকটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছে ম্যার্কাটোর ফাউন্ডেশন। ধর্মভিত্তিক অন্যান্য ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সহায়তা দিয়ে থাকে ক্যাথলিক বা প্রটেস্ট্যান্ট গির্জা।
তবে ইবনে সিনার পরিচালনা কমিটি আশা করছে, অদূর ভবিষ্যতে জার্মানির ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও মসজিদসংগঠনগুলি এই দায়িত্ব হাতে নিতে পারবে৷ “জার্মানির ২০০০ মসজিদ কমিটি গোটা প্রক্রিয়ায় আমাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে”, বলেন ব্যুলেন্ট উকার।
কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হবে : বৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হবে। যেমন আগ্রহীদের ইসলাম ধর্মের প্রতি আস্থা থাকতে হবে ৷ তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ধর্মকর্ম পালনের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। অমুসলিমরাও এই ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পেতে পারেন, যদি তাঁদের গবেষণাকাজে জার্মানির মুসলিমদের জীবনযাত্রা বা এই ধরনের বিষয় গুরুত্ব পায়।
অন্যান্য সামাজিক তৎপরতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে এক্ষেত্রে যেমন কেউ যদি মসজিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কোর্স ও হোমটাস্কে সাহায্য করেন কিংবা দমকল বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী কর্মী হন। “মুসলমানরা তো জার্মান সমাজেরই এক অংশ”, বলেন ব্যুলেন্ট উকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ