বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ব্যাংক পরিচালনায় মূল দর্শনে কোনো পরিবর্তন হবে না

গতকাল রোববার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ইউনুস অডিটোরিয়ামে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বোর্ড অব ডডাইরেক্টরের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অর্থনীতির ৩২ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত এই ব্যাংক এখন সারা বিশে^ই মডেল। তার পরেও এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ভুল বুঝা হতো। ধর্ম বেচাকেনার অভিযোগ থেকে ব্যাংকটিকে বাঁচাতেই পরিবর্তনের এই উদ্যোগ। ব্যাংক পরিচালনায় মূল দর্শনের কোনো পরিবর্তন হবে না।
গতকাল রোববার বিকেলে মতিঝিলস্থ ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে সম্পতি পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় নতুন চেয়ারম্যান আরাস্ত খান এসব কথা বলেন।
এ সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. জিল্লুর রহমান, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদ, পরিচালক ড. কাজী শহীদুল আলম, ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মাহবুব-উল-আলম প্রমুখ।
আরাস্ত খান বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি ভয়ের কিছু নেই। ব্যাংকটি যে নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে তার কোন পরিবর্তন হবে না। ব্যাংকটি শরীয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। শরীয়াহ বোর্ডে কোন পরিবর্তন হবে না।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি বর্তমানে ১ কোটি ১৭ লাখ গ্রাহকের আকাউন্ট রয়েছে। আর আমানতের পরিমাণ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতির ৩২ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত এই ব্যাংক এখন সারা বিশে^ই মডেল। তার পরেও এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ভুল বুঝা হতো। তাদেরকে একটি ধারার মনে করা হতো। ধর্ম বেচাকেনার অভিযোগ থেকে ব্যাংকটিকে বাঁচাতেই পরিবর্তনের এই উদ্যোগ। ব্যাংক পরিচালনায় মূল দর্শনের কোন পরিবর্তন হবে না।
ব্যাংকটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের এসএমই বিনিয়োগের ১৬ ভাগই রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। আর স্পিনিং শিল্পে এ ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে ২৫ ভাগ। সিএসআর খাতে এই ব্যাংকটি প্রতি বছর ৮০-৮৫ কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এসব ব্যয়ের কোন অস্বচ্ছতা নেই। তার পরেও এসব ব্যয় খতিয়ে দেখা হবে।
এমডি নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মানা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএমডিকে আমরা ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দিয়েছি। এমডি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবো।
তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হবে। যারা চাকরিতে রয়েছে তাদের কোন ভয় নেই। তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে না। তবে যারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরাস্ত খান নিজেকে সফল ব্যাংকার দাবি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, অনেক ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে তাহলে সে সব ব্যাংকে কেন আপনাকে পাঠানো হয়নি। কিন্তু তিনি এ প্রশ্নের কোন জবাব দেননি।
ব্যাংকিং মূলনীতিতে কোন ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না এমন বক্তব্যে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তাহলে কেন এই পরিবর্তন আনা হলো। এই প্রশ্নেও কোন জবাব দেয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে জর্জরিত হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল আলম বলেন, আপনারা বুঝেন না কেন আল্লাহ মীর কাসেম আলীকে বেহেস্ত নসিব করুন। উনি যদি বেঁচে থাকতেন আর আমরা যদি তাকে চেয়ারম্যান করে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতাম তাহলে কি সরকার তা মানতো। বুঝতে হবে মুসার আমলে মুসা, ঈসার আমলে ঈসারাই ক্ষমতায় থাকেন। তার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন। এই কথা বলে তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন।
তিনি আরও বলেন, সিএসআরের একটি টাকাও আর চোখ বুজে ব্যয় করা হবে না। অপব্যবহার রোধে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখন থেকে দেশের কল্যাণে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে তিনি ৮ মাস আগে ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর তদন্ত করে সিএসআরের কোনও অর্থই অপব্যবহার হয়নি বলে দাবি করেন।  
আরাস্ত খান বলেন, এত দিন একটি বিশেষ দলের লোকদের কেবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা হবে। দেশের সব শ্রেণির মেধাবীরা যেন এই ব্যাংকে নিয়োগ পেতে পারেন সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখন থেকে নারী ও হিন্দুরাও ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাবেন। এছাড়া সিএসআরের অর্থ-অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনও অর্থই ছাড় করা হবে না। তিনি বলেন, তবে ব্যাংকের দর্শন বা মৌলিকনীতির কোনও পরিবর্তন হবে না।  আগের মতোই শরিয়াহ অনুযায়ী এই ব্যাংক পরিচালিত হবে।
নতুন নেতৃত্ব আসায় ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হলেও ব্যাংক আগের নিয়মেই পরিচালিত হবে জানিয়ে আরাস্ত খান বলেন,  এই ব্যাংকে যারা নিচের পদে কর্মরত রয়েছেন তাদের কারও চাকরি যাবে না। এ কারণে এই ব্যাংকের প্রতি দেশের জনগণের আস্থাও অটুট থাকবে। আমরা বছরে ৫টি বোনাস ঠিক রেখেছি। ২০ ভাগ বেতন বাড়ানো হয়েছে।
তিনি যে আরমাডা স্পিনিং মিলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন তার মূলধন কত বা তার অবস্থা কি। কিন্তু তিনি এর কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। আমরা সকলের সহায়তা পেলে আগামীতে ব্যাংকটি আরও এগিয়ে যাবে। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি বিশেষ শিল্প গ্রুপের (এস. আলম) প্রভাব রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
দেশের মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলে চূড়ান্ত করা হবে। পাবলিক প্রাইভেট পাটর্নারশিপে (পিপিপি) বিনিয়োগ করবে এই ব্যাংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ