মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর সীমান্তে বিএসএফ’র নির্যাতনে এক বাংলাদেশী নিহত

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর সীমান্তে বিএসএফ’র নির্যাতনে এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে।
জানা গেছে, শনিবার ভোর ৫টার দিকে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে গরু আনতে ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৮ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরে যায় গরু ব্যবসায়ী বকুল মন্ডল (৩০)। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মালুয়াপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের ধাওয়া করে। অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বকুল ধরা পড়ে বিএসএফ’র হাতে। বিএসএফ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে মৃত ভেবে সীমান্তের শুন্যরেখায় ফেলে যায়। এক পর্যায়ে তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। নিহত বকুল চুয়াডাঙ্গার দামাুড়হুদা উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত সদর উদ্দীন মন্ডলের ছেলে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটলিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ আমির মজিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পোরশা সীমান্ত থেকে ২ বাংলাদেশী ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্যাতনে বকুল মন্ডল (৩০) নামের এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিএসএফ নওগাঁর পোরশা সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গেছে। গতকাল শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁর পোরশা সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। গতকাল শনিবার ভোরে পোরশার নিতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা হলেন জেলার পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের খোশ মোহাম্মদের ছেলে নাইমুল হক (৩৮) ও ইসলামপুর গ্রামের মৃত মহুবুর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৫)।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নাইমুল, জিয়াউরসহ ছয়-সাতজন গরু ব্যবসায়ী গরু আনতে নিতপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যান। ভোর চারটার দিকে নিতপুর সীমান্তের ২৩১ নম্বর মেইন পিলারের ২ নম্বর সাব-পিলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসছিলেন। এ সময় দক্ষিণ দিনাজপুর ক্যাদারীপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও নাইমুল ও জিয়াউর বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। আটক ওই দুই ব্যক্তিকে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর দাল্লা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির ১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আলী রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের হাতে আটক ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকেছিলেন। ভোরে গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় তারা ভারতের ক্যাদারীপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। আটক ব্যক্তিদের ফেরত চেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা  বৈঠকের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিজিবির জন্য ১৮টি প্রশিক্ষিত কুকুর
বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিজিবি’র জন্য আনা হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮টি ভারতীয় কুকুর। ছয়মাসের ডগ স্কোয়ার্ড ট্রেনিং শেষে বিজিবির সহকারী পরিচালক শাহাদৎ হোসেন গতকাল শনিবার দুপুরে কুকুরগুলো নিয়ে আসেন। ভারতের মধ্যপ্রদেশ ট্যাকেরপুর বিএসএফ ট্রেনিং সেন্টারে বিজিবি সদস্যদের এসব কুকুর নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর আগে ভারতীয় ৩২ হাজার রুপিতে এক একটি কুকুর কেনা হয়েছিলো।
যশোর ২৬ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব কুকুরকে সীমান্তে অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করার কাজে নিয়োজিত করা হবে। সীমান্তবর্তী বিভিন্নস্থানে ও যানবাহনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে এসব কুকুর পারদর্শী। অচিরেই এসব কুকুর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়োজিত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ