মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিদেশে ঝুঁকির কাজ করলেও কম মজুরি পাচ্ছে বাংলাদেশী শ্রমিকরা

স্টাফ রিপোর্টার : বিদেশে অধিক ঝুঁকির কাজ করেও আশানুরূপ মজুরি পাচ্ছেন না বাংলাদেশী শ্রমিকরা। আগে একই কাজ করে তারা যে বেতন পেতেন এখন পাচ্ছেন তার চেয়ে অনেক কম। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে সরকারি অনুসন্ধানে জানা গেছে। সম্প্রতি প্রবাসীদের আয়ের উপর এক জরিপে দেখা গেছে বেশি হারে শ্রমিক বিদেশে গেলেও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে তার কোন প্রভাব পড়ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই প্রবাসী আয় হ্রাসের কারণ অনুসন্ধান করছে সরকার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সদ্য শেষ হওয়া ২০১৬ সালে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। আর এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন এ কথা ঠিক যে, অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্সটা নেতিবাচক। সেটারও কারণ আছে- তাদের (প্রবাসী) আর্নিং কমে গেছে। প্রবাসীদের আয় কমার বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের শ্রম পরিস্থিতির উদাহরণ দেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

তিনি বলেন, আমি খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, সেখানে (সৌদি আরবে) আগে যে কাজ আমাদের শ্রমিকরা ১০ রিয়ালে করত, তা এখন আট রিয়ালে করছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। তাদের আর্নিং কমেছে। রেমিট্যান্স কমার পেছনে অনেক দেশে বাংলাদেশীরা নাগরিকত্ব পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকেও অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী।

এছাড়া রেমিট্যান্স কমার আরও একটা কারণ আছে, অনেক দেশেই আমাদের অনেক লোক (প্রবাসী) সেটেল হয়ে গেছে (নাগরিকত্ব পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস)। তাদের আয়ের বেশিরভাগ অর্থই এখন ওখানেই খরচ করতে হচ্ছে, দেশে টাকা পাঠাতে পারছে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রতিবছর আমরা প্রায় পাঁচ লাখ লোক বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছি; প্রতিনিয়ত দেশের বাইরে মার্কেট খোঁজার চেষ্টা করছি। এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স কম আসছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৬১ কোটি (১৩.১৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। এর আগে ২০১৩ সালেও প্রবাসীরা তার আগের বছরের (২০১২ সাল) চেয়ে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্স প্রবাহে অধঃগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাসিক হিসাবে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের পর্যালোচনায় দেখা গেছে রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তেলের দাম কমায় তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। ফলে এসব দেশে শ্রমের চাহিদা কমছে, নতুন নিয়োগও বন্ধ। অনেকের বেতন কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিক কারণেই তারা এখন দেশে কম টাকা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিঙ্গিত, সিঙ্গাপুর ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার মূল্যমান কমে যাওয়ার কারণেও রেমিট্যান্স কম আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সূত্র আরো জানায়, রেমিট্রান্সে নেতিবাচক প্রবণতা শুরু হয় ২০১৩ সালে। আগের বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি ঘটলেও সে বছরে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়। ওই বছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ডলার পাঠান, যা ২০১২ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম ছিল। ২০১৪ সালে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ডলার। এরপর ২০১৫ সালেও রেমিট্যান্সে ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ