শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শাহজালালে ফের ‘স্বর্ণমানব’ আটক

স্টাফ রিপোর্টার : অদ্ভুতভাবে হাঁটছিলেন এক যাত্রী। সন্দেহ হওয়ায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ। কিন্তু তিনি সঙ্গে করে সোনা আনার কথা মানতে নারাজ। এরপর করা হয় এক্স-রে। পায়ুপথে অস্বাভাবিক তিনটি পুঁটলি দেখা যায়। এরপরও যাত্রীর ওই এক কথা না, সঙ্গে কিছুই নেই। অস্ত্রোপচারের ভয় দেখানোর পর নরম হন তিনি। এরপর বিশেষ কায়দায় বের করে আনেন লুকোনো সোনা।
রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীর কাছ থেকে ১২টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, এসব সোনার দাম আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা।
যাত্রীর নাম শরীফ আহমেদ। বাড়ি কুমিল্লায়। মালিন্দ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপরই তাকে ঘিরে শুরু হয় নাটক।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, তাদের কাছে আগেই ওই যাত্রীর ব্যাপারে গোপন খবর ছিল। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। বারবার জিজ্ঞেস করার পরও সোনা আনার কথা স্বীকার করেননি ওই যাত্রী। দিবাগত রাত তিনটার দিকে তাকে নেয়া হয় বেসরকারি একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। করা হয় এক্স-রে। এতে পায়ুপথে তিনটি অস্বাভাবিক পুঁটলি দেখা যায়। যাত্রী শরীফকে এগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। সোনা আনার কথা অস্বীকার করে শরীফ তার আত্মীয় বড় কর্মকর্তার কথা বলে হুমকি দেন। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ‘দেখে নেব’ বলে হুমকি দেন। অস্ত্রোপচারের ভয় দেখানোর পর নরম হন শরীফ। জানান, বিশেষ কায়দায় বের করে দেবেন সোনা।
শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে লুঙ্গি নিয়ে পরেন শরীফ। এরপর কাস্টমসের টয়লেটে যান। শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে পায়ুপথে বিশেষ কায়দায় লুকানো তিনটি কনডম বের করেন। এগুলোর ভেতরে চারটি করে মোট ১২টি সোনার বার পাওয়া যায়।
শরীফ জানান, চারটি সোনার বার স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কনডমের ভেতরে ঢোকান। এরপর আবার টেপ দিয়ে প্যাঁচান। এ রকম তিনটি কনডম বিশেষ কায়দায় পায়ুপথে ঢোকান। মালয়েশিয়াতে এর ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। পেটের ভেতর স্বর্ণসহ আটক ‘ স্বর্ন মানব ’ শরীফ আহমেদের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং এলাকার ময়নামতি বাজারে। তার পাসপোর্ট নং- ইগ ০৮০৬৭৩১।
শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরীফ জানান, নজরদারির হাত থেকে বাঁচার জন্য এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও টাকার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি একজন মুদি ব্যবসায়ী, গত ৩ জানুয়ারি ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়া যান। গত বছর তিনি ১০ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান , আটক ‘স্বর্ণমানব’ শরীফ আহমেদকে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণ দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে।
এর আগেও শুল্ক গোয়েন্দা শাহজালালে স্বর্ণমানবের সন্ধান পেয়েছিলেন, যারা একই কায়দায় স্বর্ণ চোরাচালান করতো। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর এক যাত্রীর রেক্টাম থেকে ৮টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছিলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ