বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনী আপিলের শুনানি ৮ ফেব্রুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের শুনানি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। ধার্য তারিখে আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতে সরকার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর সরকার পক্ষ স্থগিতাদেশ (সিএমপি) চেয়ে একটি আবেদন করে। আবেদনটি শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকার পক্ষ আদালতকে জানায়, গতকাল বুধবার তারা আপিল করেছে। এরপর আদালত আপিল শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি শুনানির জন্য আসলে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চার সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এটা অনেক বড় রায় প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন। এরপরই আদালত ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৮ নবেম্বর সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী।
চলতি বছরের ৫ মে ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের নিষ্পত্তি করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায় হওয়ায় ষোড়শ সংশোধনী আইনটি বাতিল হয়ে যায়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয় বলতে দ্বিধা নেই ষোড়শ সংশোধনী একটি মেকি আইন (কালারেবল লেজিসলেশন) এবং এটা রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের (নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৯৪ (৪) এবং ১৪৭(২) অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এই দুটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। এই সংশোধনী সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের (খ) দফাকে আঘাত করেছে। কেন না সংবিধানের ৭-এর ‘খ’ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক স্তম্ভ পরিবর্তন করার কোনো বিধান নেইÑ এ কারণে রুলের সারবত্তা রয়েছে এবং রুলটি সফল। রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো কোন ব্যয় ছাড়া। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ (এ্যক্ট নম্বর ১৩, ২০১৪) মেকি, বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ