শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

ফিলিস্তিনী শিশুদের জন্য ‘দশকের সবচেয়ে রক্তাক্ত বছর ২০১৬’

৫ জানুযারি, আলজাজিরা : গত দশকের অন্য যেকোনও বছরের চেয়ে ২০১৬ সালে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরাইলী বাহিনীর হামলায় ফিলিস্তিনী শিশু নিহত হওয়ার সংখ্যাটা আরও বেশি। ওই বছর এ দুই এলাকায় ইসরাইলীদের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনী শিশুর সংখ্যা ৩২, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনী শহরগুলোতে ইসরাইলী বাহিনীর অভিযান কিংবা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরাইলী বাহিনীর সংঘর্ষে বেশিরভাগ প্রাণহানি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল (ডিসিআই) এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ডিসিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এতো ফিলিস্তিনী শিশুর মৃত্যু ২০১৬ সালকে তাদের গত দশকের সবচেয়ে রক্তাক্ত বছরে পরিণত করেছে।’ডিসিআই-প্যালেস্টাইন-এর অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আয়েদ আবু একতাইশ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরাইলী সেনারা ‘হত্যার জন্য গুলি’-নীতি বজায় রেখেছে। ফিলিস্তিনীদের হত্যার জন্য তাদের কাছে সবুজ সংকেত আছে এবং সত্যিকার অর্থে তারা দায়মুক্তি নিয়েই তা করতে পারে।’

ডিসিআই-প্যালেস্টাইন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ৩২ জন শিশুর মধ্যে ১৯ জনের বয়স ১৬ এবং ১৭ এর মধ্যে এবং ১৩ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ২০১৫ সালে অধিকৃত পশ্চিমতীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলী বাহিনীর হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা ছিল ২৮। আর ২০১৪ সালে ১৩ জন ফিলিস্তিনী শিশু এবং ২০১৩ সালে চার শিশু নিহত হয়।উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনীরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরাইল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরাইল তা মানতে চায় না। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলী বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ২৪৪ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনীদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে ইসরাইলী বাহিনীরও ৩৬ সেনা নিহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ