শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এমপি লিটন হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর আগাম বক্তব্য এমপি লিটন হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস না করলেও সরকার তাদেরকে এই পথে ঠেলে দিচ্ছে। তার দল ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার তাদেরকে সহিংসতায় ঠেলে দিচ্ছে। ৭ জানুয়ারি বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে জানিয়ে তিনি জানান, সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। যদিও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে সমাবেশে অনুমতি দেয়া হয়নি। শেষ সময়ে হলেও অনুমতি পাওয়া যাবে বলে আশা করেন বিএনপি মহাসচিব।
দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল একথা বলেন। বিএনপি এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। এই দিন জেলায় জেলায় বিএনপি এবার কালোপতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিলেও রাজধানীতে কোনো কর্মসূচি রাখেনি। তবে ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। এই সমাবেশের অনুমতি এখনও পায়নি। তবে সফল করার সব প্রস্তুতিই নিচ্ছে তারা। এই লক্ষ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করে বিএনপি। আর এই সভা শেষেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন ফখরুল।
‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’-এ জেলায় জেলায় বিএনপির কালোপতাকা মিছিলের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ বেশ কিছু এলাকায়। কোথাও পুলিশের বাঁধায় প- হয়েছে কর্মসূচি। বরিশালে আবার হামলা করেছে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। এই হামলায় বিএনপি ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারা দেশে তাদের কর্মসূচি বানচাল করেছে পুলিশ ও সরকারি দলের বাহিনী। তিনি বলেন, আগে থেকেই আওয়ামী লীগ যে হুমকি দিয়ে রেখেছিল, তাই বাস্তবায়ন করেছে।
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, আজ (বৃহস্পতিবার) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রজন্ম লীগ নামের একটি সংগঠনের কিছু লোকজন এসে বিএনপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং একজন কর্মীকে মারধর করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব আওয়ামী লীগের উস্কানি। তারা বিএনপিকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফেলতে চায়।
৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি এখনও পাওয়া যায়নি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাই। সরকার হয়তো অনুমতি দেবে, হয়ত দেবে না। তবে আমরা আশা করি যথাসময়ে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের আইন প্রণয়নের নৈতিক অধিকার নেই, এই সরকারের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার নেই।
 তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক। তখন থেকে ফ্যাসিবাদী সরকার প্রবর্তিত হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন হত্যাকা-ের ঘটনায় সরকার বিএনপিকে দোষারোপ করে প্রকৃত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার পর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এমপি লিটন হত্যাকা-কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এসব বক্তব্য দিয়ে মূলত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে নির্দেশনা দিয়ে দেন। যাতে তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাকে সেদিকে নিয়ে যান।
গত শনিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিজ ঘরে ঢুকে লিটনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। আওয়ামী লীগ এই ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সংসদ সদস্য লিটনের জামায়াতবিরোধী অবস্থানের কারণেই তাকে খুন হতে হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা আবদুল আওয়াল মিন্টু, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এম এ মালেক, অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ