শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছয় মাসের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয় রফতানি লক্ষ্যমাত্রার ৫.৫% কম

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয় এসেছে ১ হাজার ৬শ ৭৯ কোটি ডলার। যা এই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে পাঁচশ কোটি ডলার কম। সরকার নির্ধারিত এ লক্ষ্য অর্জনে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন দুই অংকের। কিন্তু রফতানিকারকরা ২০১৬ সাল শেষ করেছেন এক অংকের প্রবৃদ্ধি নিয়ে। এই প্রবৃদ্ধিতে ইপিবিও সন্তুষ্ট নয়।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে গেলো অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে সাড়ে চার শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও মোট রফতানির প্রায় ৮২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। যার পরিমাণ ১ হাজার ৩শ ৭০ কোটি ডলার।
এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে রফতানি কিছুটা বাড়লেও, ওভেন খাতে কমেছে সাড়ে নয় শতাংশ। আর দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া ও চামজাত পণ্য থেকে আয় বেড়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দশ শতাংশ।
এছাড়া রফতানি বেড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, চা, হিমায়িত খাদ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যে। চলতি অর্থবছরের মোট রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭শ কোটি ডলার। যার ৪৫ শতাংশ এলো প্রথম ছয় মাসে।
২০২১ সালে রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি (৬০ বিলিয়ন) ডলার। সরকার নির্ধারিত এ লক্ষ্য অর্জনে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন দুই অংকের। কিন্তু রফতানিকারকরা ২০১৬ সাল শেষ করেছেন এক অংকের প্রবৃদ্ধি নিয়ে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে শেষ ছয় মাসে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মতে নেমে এসেছে। ২০১৬ সালের শেষ মাসে রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমে গেছে।
ইপিবির বছরভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৬ সালের পুরো সময়ে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৩৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে বিদায়ী বছরে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ।
জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরূহা সুলতানা বলেন, বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এখনই বলতে পারছি না। তবে ছয় মাসের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি কীভাবে অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে আমরা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করছি, এর মাধ্যমে একটি দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
২০১৬ সালের শেষ ছয় মাসের রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রফতানি খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। ২০১৫ সালের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ হিসাবে গত বছরের শেষ ছয় মাসে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ইপিবির মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে দেশের আয় হয়েছে ৩১০ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ২০১৫ সালের একই মাসে আয় হয়েছিল ৩২০ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ হিসাবে আলোচ্য মাসটিতে রফতানি আয় না বেড়ে উল্টো কমেছে।
বরাবরের মতোই ২০১৬ সালেও রফতানি আয় ছিল একটি খাতনির্ভর। গত বছর মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৬ সালের পুরো সময়ে পোশাক রফতানি থেকে দেশের আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ৬০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য অনেক কমে গেছে। গত বছর আমরা ইউরোর দরপতন মোকাবেলা করেছি। রফতানি খাত এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর। এ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।
প্রাথমিক, উৎপাদনমুখী শিল্প ও কম্পিউটার সেবা এ তিন ভাগে রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তৈরি করে ইপিবি। ২০১৬ সালের শেষ ছয় মাসের তথ্যে দেখা যায়, উৎপাদনমুখী শিল্পপণ্য খাতগুলোয় রফতানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে প্রাথমিক পণ্য রফতানি থেকে আয় দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। কম্পিউটার সেবার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে এ খাত থেকে রফতানি আয় বেড়েছে ২৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
প্রাথমিক পণ্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, মাছ ও কৃষি। ২০১৬ সালের শেষার্ধে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এ খাত থেকে আলোচ্য সময়ে রফতানি আয় হয় ২৯ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে আয়ের পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। কৃষিপণ্য রফতানি থেকে আয় কমেছে ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
উৎপাদনমুখী শিল্পপণ্য খাতগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক ছাড়াও উল্লেখযোগ্য হলো প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং আসবাব।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষ ছয় মাসে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ৪৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। চামড়াজাত ফুটওয়্যার রফতানি থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এছাড়া প্রকৌশল পণ্যের রফতানি আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ফুটওয়্যার খাতের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে এ শিল্পের মূল কাঁচামাল চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা। এটি নিশ্চিত করা গেলেই দেশের রফতানি খাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে সময় লাগবে না। তাছাড়া এ খাতের উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে মানসম্পন্ন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে কারখানা গড়ে তোলা শুরু করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ