শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আওয়ামী লীগের সমাবেশ ॥ বাধার মুখে বিএনপির কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রশ্নবিদ্ধ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকীতে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। এদিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যাদিবস’ হিসেবে পালন করে। আওয়ামী লীগ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশ, র‌্যালি ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করতে পারলেও বিএনপি পড়ে পুলিশী বাঁধা ও ক্ষমতাসীনদের হামলার মুখে। ঢাকায় বিএনপি কালো পাতাক মিছিল করেছে এবং ৭ জানুয়ারি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় গণতন্ত্র হত্যাদিবস পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলীয়দের ও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। অনেক জেলায় পুলিশি বাধার মুখে কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি সম্পন্ন করে বিএনপি। এর মধ্যে বরিশালে বিএনপির মিছিলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন ১০ জন। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলগুলো গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করেছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৩০টি রাজনৈতিক দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে সরকার গঠন করে দলটি। এরপর থেকে এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ বলে আখ্যা দিয়ে কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
গত দুই বছর অনুমতি না পেয়ে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই ধারাবাহিকতায় এ বছরও রাজধানীতে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করার জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়ে পায়নি বিএনপি। তবে জেলায় জেলায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশি বাধায় অনেক জায়গায় তা প- হয়ে যায়।
বরিশালে মিছিলে হামলা,  আহত অর্ধশতাধিক
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদর রোডে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে শুরু হয় মারামারি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ইট পাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে। পরে বিএনপি,  ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাদের কার্যালয় থেকে বের করে ব্যাপক মারধর করা হয়। এ সময় মারধরের শিকার হন বরিশাল বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন,  সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহীন,  মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুখ,  সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের ওপরেও হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হতাহতরা জানান,  বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালায় নীরব হোসেন টুটুলের অনুসারীরা। এতে চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরাপারসন আরিফ,  এনটিভির ক্যামেরাপারসন গোবিন্দ সাহা,  স্থানীয় বরিশালের কথার ক্যামেরাপারসন নাদিম মাহামুদ,  স্থানীয় শাহনামা পত্রিকার ক্যামেরাপারসন সুমন,  কলমের কণ্ঠ পত্রিকার ক্যামেরাপারসন মাসুদ সিকদারসহ সাত সংবাদকর্মী আহত হন।
বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিনের অভিযোগ,  ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় তাদের ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেছেন তিনি।
টাঙ্গাইলে বাধার মুখে কর্মসূচি
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম তোফার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কালো পতাকা মিছিল করার জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিল।
পরে নেতাকর্মীদের আটক করতে পুলিশ দলীয় কার্যালয় ও এর আশপাশ ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি চালায়। নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালানোর সময় সেখান থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক ভূঁইয়া জানান,  আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করা ঘোষণা দেয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে বিএনপিকে এ কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। তবে,  এ সময় কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের লাঠিচার্জ,  আহত ১০
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ডিআইটি এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের লক্ষ্যে মিছিল বের করলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। পুলিশ মিছিলের ব্যানার কেড়ে নিয়ে যুবদল নেতাসহ চারজনকে আটক করা  হয়। এদিন বিকালে নগরীর মন্ডলপাড়াপুল এলাকা থেকে মহানগর যুবদলের নেতারা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আসার পথে পুলিশ বাধা দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠিচার্জে ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ,  যুগ্ম-আহ্বায়ক রানা মুজিব,  যুবদলকর্মী আলামিন খান ও বাদশা মিয়াকে আটক করে।
একই সময়ে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রঙ্গ করে দেয়। সেখানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম মুছা গুরুতর আহত হন। তাকে নগরীর নিতাইগঞ্জে অবস্থিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট (ভিক্টোরিয়া) নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জমান জানান,  পূর্বানুমতি নিয়ে মিছিল করে যানচলালে বিঘœ সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মেহেরপুর পুলিশি বাধায় মিছিল প-
মেহেরপুরের গাংনীতে জেলা বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’র মিছিল ও আলোচনা সভা পুলিশের বাধায় অফিস কক্ষে গৃহবন্দী হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিল শেষে আলোচনা সভা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পযর্ন্ত মিছিলটি পুলিশের বাধায় ব্যর্থ হয়ে যায়। পরে অফিস কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মেঘলার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলা আরজুমান বানুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতারা।
এদিকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, নওগাঁ,  জয়পুরহাট,  নাটোর,  নোয়াখালী,  ময়মনসিংহসহ আরও অনেক জেলায় গণতন্ত্র হত্যাদিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচি পালন করার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ এবং অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ
সন্ত্রাস-নাশকতার পথে গেলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে  বলে মন্তব্য  করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলেন, বিএনপি বার বার ষড়যন্ত্র করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনি। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইউনিফর্ম পরা কেউ সাঁজোয়া যান নিয়ে এসে আপনাকে (খালেদা জিয়) ক্ষমতার সিংহাসনে বসাবে না। এটা কখনও হবে না, কোথাও হয়নি।
দুপুরে রাজধানীর  বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন। ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র বিজয় দিবস নামে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষ উদযাপনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে আব্দুর রাজ্জাক  বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বিএনপি সন্ত্রাস-নাশকতার পথে যাবে না। তারা সন্ত্রাস নাশকতার পথে গেলে চরম মূল্য দিতে হবে। অতীতের মতো আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, সম্পাদকম-লীর সদস্য আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি বার বার ষড়যন্ত্র করছে। আজকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বিএনপি জঙ্গিদের দিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে জনগণ বিএনপিকে গণতন্ত্রের চরম শিক্ষা দিবে।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে আমির হোসেন আমু বলেন, আবার তারা পানি ঘোলা করতে চায়। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করতে চায়। দু’দুবার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। যদি শিক্ষা না পেয়ে থাকে, তাহলে ২০১৯ সালের নির্বাচনে বাংলার মানুষ তাদের চিরদিনের মতো গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়ে দেবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সব ইস্যু হারিয়ে খালেদা জিয়া এখন মিথ্যা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে চাইছেন। কিন্তু কোথাও তাদের নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি।
এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইউনিফর্ম পরা কেউ সাঁজোয়া যান নিয়ে এসে আপনাকে ক্ষমতার সিংহাসনে বসাবে না।
ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও এডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মুনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 সৈয়দ আশরাফ বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে নির্বাচন। সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখলে নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাবাহিনীর দরকার হয় না।

সিলেটে পুলিশী বাধায় বিএনপির কর্মসূচি পন্ড
সিলেট ব্যুরো : গতকাল বৃহস্পতিবার গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল নগরীতে কালো পতাকা মিছিল করলেও পুলিশের বাধায় প- হয়ে যায় বিএনপির কালো পতাকা মিছিল। গতকাল সকাল ১১টায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধায় মুখে পড়েন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। এ সময় মিছিল করতে না পেরে আম্বরখানার দিকে চলে যান নেতাকর্মীরা। সেখানে গিয়ে পুনরায় মিছিলের চেষ্টা করলেও আবারও পুলিশের বাধায় পড়েন। ফলে মিছিল না করেই ছত্রভঙ্গ হয়ে ফিরে যান তারা।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার সহকারি কমিশনার (এসি) নুরুল হুদা আশরাফী জানান, ‘বিএনপি প্রশাসনের অনুমতি নেননি। ফলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তাদের মিছিল করতে দেয়া হয়নি।’
এদিকে, সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের ব্যানারে আম্বরখানা এলাকায় অনুষ্ঠিত মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান, মামুন আহমদ মিন্টু, কাজি মেরাজ, মহানগরের সহ সভাপতি বেলাল আহমদ, দেওয়ান আরাফাত জাকির চৌধুরী, সবুর আহমদ, জেহিন আহমদ। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি লিটন আহমদ, জামাল আহমদ খান,  সাজন আহমদ তালুকদার, জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল  করিম জোনাক, মহানগরের সহ-সাংগঠনিক রিয়াদুল হাসান রুয়েল, আনোয়ার হোসেন খান, আবুল মুনতাসের চৌধুরী সাববি, মহানগরের সদস্য  রুমান আহমদ রাজু , জাবেদুর রহমান জাবেদ,  রুবেল আহমদ,  রিয়াজ আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মুমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান মুন্নার নেতৃতে চৌহাট্টায় কালো পতাকা মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সূচিত্র চৌধুরী বাবলু, জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান, জেলা ছাত্রদল নেতা সাইদুল ইসলাম হৃদয়, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাসরুর রাসেল, কোকো স্মৃতি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজ মুন্না, জেলার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলার কার্যকরী সদস্য রানা আহমদ রস্তুম, মহানগর ছাত্রদলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক  সৈয়দ সেলিম প্রমুখ। অন্যদিকে, জিন্দাবাজার এলাকায়ও মিছিল করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা আবু আহমদ, আনছারী, আব্দুর রউফ, রুনু আহমদ, সিহাব খান, শাহ আকাব আহমদ পলাশ, সাইদুর রহমান সাইদ, আফজল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ