বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বীমার বড় অংক চলে যাচ্ছে বিদেশী প্রতিষ্ঠানে

স্টাফ রিপোর্টার : আইনী জটিলতা আর দেশী প্রতিষ্ঠানে আস্থা না থাকায় বড় বড় প্রকল্পের বীমার অর্থ চলে যাচ্ছে বিদেশী প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আর এ অবস্থায় বিদেশে বীমা করার দিকেই ঝুঁকছে সরকারি বেশ কিছু বড় প্রকল্প। ফলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদের বীমা কাভারেজ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এখন বেশ কয়েকটি বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বড় প্রকল্পের বীমা কাভারেজ দেয়ার সক্ষমতা রাখে। কিন্তু আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে সরকারি বড় প্রকল্পের বীমা করার সুযোগ পাচ্ছে না এসব প্রতিষ্ঠান। আবার রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা কোম্পানি সাধারণ বীমা করপোরেশনেও (এসবিসি) আস্থা পাচ্ছেন না এসব প্রকল্পের ঠিকাদাররা। 

জানা গেছে, সম্প্রতি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী নদীতে জাইকার অর্থায়নে তিনটি সেতু নির্মাণসহ বেশকিছু বড় প্রকল্পের বীমা বিদেশে করার সুযোগ চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে। এর আগে মেট্রোরেল প্রকল্প এবং কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পগুলোর বীমা বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানি গ্রীন ডেল্টা থেকে নেয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

একই ধরনের আবেদন আছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের জন্য। কিন্তু আইনি বাধা থাকার কারণে তা নাকচ করে দিয়েছে এসবিসি ও আইডিআরএ। সেই সঙ্গে সরকারি সম্পদের বীমা কাভারেজে আইন অনুসরণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে। তবে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ৫ হাজার কোটি টাকার বীমা কাভারেজ বেসকারি খাতে ছেড়ে দেয়া না হলে তা বিদেশ থেকে নেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবাইয়াশি করপোরেশন।

একইভাবে বেসরকারি খাতে না হলে বিদেশ থেকেই বীমা পলিসি নিতে চায় মেট্রোরেল প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তয়ো কনস্ট্রাকশন। কারণ তাদের চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্পের বীমা কাভারেজ বিদেশ থেকে নিতে কোনো বাধা নেই। এতে প্রকল্পটির ৫১২ কোটি টাকার বীমা কাভারেজ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বীমা বিদেশে করার সুযোগ পেয়েছে থেলিস অ্যালেনিয়া স্পেস। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে থেলিসের চুক্তিতে এমন সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বীমা কাভারেজ চলে যাবে বিদেশী প্রতিষ্ঠানে। যদিও প্রকল্পটির বীমা বিদেশে করার সুযোগ নিয়ে এসবিসি ও আইডিআরএর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক বলেন, সাধারণ বীমা করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। থেলিস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে আমাদের এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদের ৫০ শতাংশ ঝুঁকির বীমা এসবিসিতে করার বাধ্যবাধকতা আছে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসবিসিতে বীমা করতে চান না সরকারি বড় প্রকল্পের ঠিকাদাররা। যদিও বেসরকারি খাতের গ্রীন ডেল্টা, পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, ফিনিক্স ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মতো বড় কোম্পানিগুলো থেকে বীমা পলিসি নিতে তাদের আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে আইডিআরএ সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, আমরা আইনকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আইনে সরকারি সম্পদের মোট ঝুঁকির ৫০ শতাংশ এসবিসিতে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি এর পরও বেসরকারি কোম্পানি বা বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি সম্পদের বীমা কাভারেজ নেয়া হয়, তাহলে এতে আইন লঙ্ঘন হবে।

এদিকে কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট সিরাজগঞ্জ ইউনিট-৪-এর বীমা বিদেশে করার আবেদনও নাকচ করে দিয়েছে এসবিসি। এসবিসি বলছে, ১৯৮৪ বীমা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি খাতের সব সম্পদের বীমা ঝুঁকির ৫০ শতাংশ সাধারণ বীমা করপোরেশন থেকে নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অনুযায়ী কোনো সরকারি সম্পদের বীমা কাভারেজ বেসরকারি খাত বা বিদেশ থেকে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোকে এসবিসির আয় থেকে ৫০ শতাংশ প্রতি বছরই দিতে হচ্ছে। তাই আর নতুন করে সরকারি ব্যবসা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয় এসবিসি কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ