শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বৈশ্বিক সহিংসতার জন্য প্রস্তুত আরো একটি বছর

৩ জানুয়ারি, সিএনএন : কেমন গেল ২০১৬ সাল? সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন ২০১৬ সাল ছিল যুদ্ধ, হত্যা আর মৃত্যুর বছর। সে তো প্রতিবছরই হয়। পৃথিবীতে একটি দিনও কি গেছে যুদ্ধ ছাড়া? এ যেন পৃথিবীর স্বাভাবিক এক নিয়ম। কিন্তু, গতবছর সমাজ-সভ্যতার চেপে রাখা ক্ষতগুলো আরো যেন স্পষ্ট হয়ে গেছে।
যুদ্ধে মানুষ মরবে। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মরবে। দেশের ভিতরেই সংখ্যাগুরুর নির্যাতনে মরবে সংখ্যালঘু। আর কিছু দেশে আত্মঘাতী হামলাকারীরা বোমা নিয়ে ট্রাক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে ব্যস্ত শপিং মলে, হোটেলে।
ধারণা করা হচ্ছে ২০১৭ সাল ২০১৬ সালের চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। এরমধ্যে বিশ্বনেতারা সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সমস্যা আরো জট পাঁকিয়ে ফেলছেন। আমেরিকার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে রাশিয়ার। রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তুরস্কের, তুরস্কের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইরানের, ইরানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে আমেরিকা-ইউরোপের।
ইউরোপের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইউরোপের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেছে ব্রিটেন। দ্বিতীয় পরবর্তী সময়ের ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান হয়ে জেগে উঠছে আরো এক উপ্তপ্ত যুদ্ধ। দেখা দিচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আলামত। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সারা বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারণকারী দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার একাই। সিরিয়ার যুদ্ধে হঠাৎ রাশিয়ার জড়ানো আমেরিকার একা মাতব্বরীর বিরুদ্ধে তীব্র আঘাত।
যাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও রাশিয়ার পুরনো যুদ্ধংদেহি মনোভাব আবার জেগে উঠছে। ওবামার সঙ্গে পুতিনের প্রায় প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্ব মোড়ল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বর্ণবাদী পাগলাটে লোক ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যে কী বলছেন আর কী করবেন তাও কেউ বুঝতে পারছে না।
পুতিনের প্রতি তার বন্ধুত্বের মনোভাব প্রকাশ পেলেও প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন চীন ও ইরানকে। চীনের এক চীন নীতির বিরুদ্ধে তিনি নাক গলিয়েছেন। তাতে চীন ক্ষুব্দ হয়েছে প্রচন্ড। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তিনি বিরাট ব্যবসায়ী। কিন্তু, ব্যবসায়ীক বুদ্ধি আর বর্ণবাদী আবেগ দিয়ে তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন কি না এই নিয়েই এখন চিন্তিত বিশ্বের বিখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সামনে ফ্রান্স আর জার্মানির নির্বাচন। দুটি দেশই সম্প্রতি হয়ে উঠেছে প্রচন্ড মুসলিম বিদ্বেষী। নিজেদের দেশে বন্ধ করে দিয়েছে মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশ। উল্টো দিকে প্রায়ই তাদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলায়।
ব্রেক্সিট পরবর্তী নির্বচান কেমন হবে, তা নিয়েও চিন্তিত তারা। তারাও এখন প্রতি মুহূর্তে ঢুকে যাচ্ছে নিজেদের খোলসে। পৃথিবীর প্রতিটা দেশের অবস্থা এখন এমন, নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি জোরদার করার পাশাপাশি তারা উঠছে অপরের প্রতি সন্দেহগ্রস্ত ও শত্রুভাবাপন্ন। ফলে যা হচ্ছে সীমান্ত প্রহরা হয়ে উঠছে আরো কড়াকড়ি।
বিশ্বায়নের ব্যবসায়ীক নীতির বিরুদ্ধে তারা ক্রমাগত গর্তে ঢুকে যাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে ভয়, শঙ্কা, আর যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো দিক থেকে আক্রমণ আসার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ