মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনা ও হুরাসাগর নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : হুরাসাগর নদীর চরপোরজনা পয়েন্টে বালু উত্তোলনের ড্রেজার বসানো হচ্ছে

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : অবৈধ বালু উত্তোলনের কবলে পড়েছে শাহজাদপুরের যুমনা ও হুরাসাগর নদী। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে সরকারি বিধি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন চলছে। সরেজমিনে ঘুরে বালু উত্তোলনের ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। যমুনা নদীর জগতলা, ভাটপাড়া, গুধিবাড়ী হুরাসাগর নদীর বাচড়া, পোরজনা, চরপোরজনা পয়েন্টে বেশ কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রমরমা বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে একটি মহল। বিভিন্ন খাল, রাস্তা-ঘাট ভড়াটের কাজে এই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মেশিন মালিকদের সাথে কথা বললে জানা যায়, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দায় এড়ালেও প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। চরপোরজনা পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উল্টাডাব গ্রামে রাস্তা তৈরি করছে একটি গ্রুপ। তারা গ্রামবাসীর নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বাচড়া গ্রামের নুর ইসলাম হুরাসাগর নদী থেকে বালু উত্তোলন করে কয়েকটি বাড়ি ভড়াট করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাহার আলী। অপরদিকে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে রমরমা ব্যবসা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী তীরের বসবাসকারী পরিবারগুলো। তাঁরা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় পাড় ভাঙ্গছে। যার ফলে ফসলী জমি, আর বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই নদী বাঁচাও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনকারীরা বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব জানান, বালু উত্তোলন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বন্যায় স্রোতে ভেসে আসা বালু হুরাসাগর ও যমুনা নদীর গভীরে আস্তরণে ঢাকা পড়ে। আর এ সুযোগে খাল, ভড়াট ও বাসাবাড়ি নির্মাণে বালু ব্যবসায়ীরা পাইপের মাধ্যমে দূরে দূরে বালু সরবরাহ করছে আর হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ