শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মেয়র আরিফুল ও গউছের জামিন বহাল

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মেয়র জি কে গউছকে বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তাদের দেয়া হাইকোর্টের জামিন থাকলো এবং কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। মামলার আসামী হওয়ায় পরে নির্বাহী আদেশে তাদের দু’জনকে বরখাস্ত করা হয়।

জামিন স্থগিত চেয়ে সরকারের করা আবেদন খারিজ করে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার ( এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদালতে আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আবদুল হালিম কাফী ও এম মাসুদ রানা। সরকার পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

গত ২০ ডিসেম্বর সরকার পক্ষে স্থগিতাদেশ চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি নিজামুল হক তাদের দু’জনকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছিলেন। একইসঙ্গে ২ জানুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

আইনজীবী এম মাসুদ রানা বলেন, জামিন বহাল থাকায় আরিফুল হক চৌধুরীর মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই। জি কে গউছ সব মামলায় জামিনে আছেন। ফলে তারও মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।

পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তাদের দুইজনের ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। এছাড়া ১১ ডিসেম্বর দিরাই বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা আরেকটি মামলায় আরিফুল হক চৌধুরীকে জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গউছকেও ছয় মাসের জামিন দেন আদালত।

২০০৪ সালের ২১ জুন দুপুরে দিরাই বাজারে একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ বোমা হামলায় এক যুবলীগকর্মী নিহত হয় ও ২৯ জন আহত হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সে সময় এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদপরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওই হামলায় আরও নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ওই রাতেই হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করলে আরিফুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠান আদালত। এর দুই দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর একই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে জি কে গউছকেও কারাগারে পাঠায় আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ