মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সরকার নিজে দুর্নীতি করে বলেই অন্যকে হুমকি দেয়-বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মাসেতু নির্মাণে দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ দিতে না পারলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার যে হুমকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দিয়েছেন তা গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য দেশে দলটির হুমকি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী সরকারই গণতন্ত্রকে দুমড়ে মুচড়ে মানুষের কথা বলা বন্ধ করতেই সাধারণত এ ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে। সরকার নিজে দুর্নীতি করে বলেই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। আতংক থেকেই তাদের মধ্যে হুমকি দেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, সোমবার (২ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজে দুর্নীতি হয়েছে এ ব্যাপারে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। তিনি তথ্যপ্রমাণ দিতে না পারলে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। নতুবা সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে। এ বিষয়ে রিজভী আরো বলেন, কোন সৎ গণতান্ত্রিক সরকার কোন সমালোচনাতেই হুমকির আশ্রয় নেয় না। অন্তরে সততার দ্বীপশিখা প্রজ্জ্বলিত থাকলে কোন সমালোচনাতেই বিচলিত হওয়ার কথা নয়। ডালের মধ্যে কালো পদার্থ আছে বলেই ক্রুদ্ধ হয়ে তখন হুমকি দিতে হয়। এটাই নিষ্ঠুর স্বৈরাচারদের আচরণ। এরা মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি। আমরা বলতে চাই-২০১১ সালে পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন কেনো বন্ধ করলো বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর কাজ পেতে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দিয়ে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়েছিলেন কেন? সচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল কেন? যেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো আপনাদের একটি সাফসুতরো করার একটি ধোপাখানা আছে, সুতরাং আপনারা তো নিজেদের বড়বড় দুর্নীতিবাজদের ধোপাখানার ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার করে অব্যাহতি দেন। আর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদক দিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা মামলা দায়ের করে তা টিকিয়ে রাখেন। কারণ মামলা করার, অভিযোগ দায়ের করার এবং গ্রেফতার করার সংস্থাগুলো সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের পকেটে।

তিনি বলেন, সুতরাং উক্ত সংস্থাগুলো নিরপেক্ষতাহীন একটি আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠান। এজন্যই সরকারদলীয় নেতারা তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনায় অসন্তুষ্ট হয়ে মামলা দায়ের করে এবং মামলার হুমকি দেয়। তবে তাদের মনে রাখা দরকার, তাদের হুমকি, অন্যায়-অনাচার কোন কিছুই হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে না। প্রতিটি অপকর্মেরই হিসাব রেজিস্ট্রি থাকছে। দেশবাসীকে এগুলোর হিসাব দিতেই হবে। দেশবাসী জানে যে, শেয়ার বাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা কারা হজম করেছে, ব্যাংক-বীমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কারা লুট করেছে, বড় বড় প্রকল্পের লুটের টাকা কোথায় পাচার হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করা যাবে না, জনগণের টাকা জনগণকে ফেরত দিতেই হবে একদিন।

রিজভী বলেন, কোমলমতি শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণের নামে প্রতারণা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ঘটা করে বই বিতরণের উৎসব করলেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া বই পাচ্ছে না শিশুরা, এমন অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদেরকে একটি মাত্র বই দিয়ে উৎসব করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে বই উৎসব। বই উৎসবের নামে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে প্রতারণা ও তামাশা বন্ধ করার জন্য আমি বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সমাবেশ আয়োজনে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা আশা করছি, সরকার মুখে যে গণতন্ত্রের কথা বলেন সেটি সমাবেশের অনুমতি দিয়ে প্রমাণ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ