মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

গণতন্ত্র ফেরাতে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে -গয়েশ্বর

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘কলঙ্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণতন্ত্র ফেরাতে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন নয়। নাসিক নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল’ আয়োজিত ‘কলঙ্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি এম এ হালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতউল্লাহ,এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, এ দাবি করে গত রোববার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই সময়ে ‘সহায়ক সরকারের’ গুরুত্ব তুলে ধরার পর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও তা সমর্থন করে বক্তব্য দিলেন।

যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দশম জাতীয় সংষদ নির্বাচনের মতো একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে হবে।

সরকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অবিলম্বে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না, হবে না। ভিনদেশীদের শক্তি নিয়ে যত কথাই বলুন, এ দেশে গণতন্ত্রের বসন্ত আসবেই। গণতন্ত্র ছাড়া এ রাষ্ট্র কখনো বেশি দিন চলতে পারেনি।

খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিতে সরকার তাড়াহুড়ো করছে, এ দাবি করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অনেক আগে এরশাদের মামলার রায় হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। অথচ খালেদা জিয়ার রায় দিতে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। সরকার খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে নির্বাচন দেবে।

ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার জন্য আওয়ামী লীগ আবারো ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে পারে বলেও সংশয় প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।

সরকার আদালতকে ব্যবহার করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরশাদ বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে না গেলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। তার এ কথার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, সরকার আদালতকে ব্যবহার করে তার সাথে প্রতারণা করছে। তার ২০ বছর আগের মামলার রায় ঝুলিয়ে রেখে তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে, মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম, সরকার নাসিকে নতুন কৌশল অবলম্বন করবে। সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। নাসিকে ভোট ডাকাতি হয়নি, চুরি হয়েছে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করা ছিল বিএনপির শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। ভোটারবিহীন ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে উপহাস করা হয়েছে, যা আমাদের প্রতারক জাতিতে পরিণত করেছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কর্মসূচি পালনে বিএনপিকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যেরও সমালোচনা করে দুদু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ