শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সাথে মুদ্রিত হয়েছে সংবাদপত্রে। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশেই আলোচনা হচ্ছে। এমপি’র নিজ বাড়িতে ঢুকে দুর্র্বৃত্তরা যে নৃশংসভাবে হত্যাকা-টি ঘটালো তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়। মানুষ এমন নিষ্ঠুর হয় কেমন করে? আমাদের সমাজে একজন এমপির যখন এই অবস্থা তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপদ ভাববে কেমন করে? নতুন বছরে আমরা যখন অতীতের দুঃখ-বেদনা, হিংসা-বিদ্বেষ ও গ্লানি ভুলে সুন্দর জীবনের আশাবাদ ব্যক্ত করছি; তখন এমন নৃশংসা ঘটনায় আমরা হোঁচট খাই বৈকি! প্রশ্ন জাগে, কোথায় আমাদের ত্রুটি, আমরা কি এগিয়ে চলার সঠিক রোডম্যাপটি তৈরি করতে পারিনি?
আমরা নৃশংসা এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত ও সুবিচার চাই। অপরাধী যেই হোক তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। অনুরাগ কিংবা বিরাগের অপরাজনীতি যেন এ ক্ষেত্রে প্রশ্রয় না পায়। কারণ কোন সমাজে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন না হলে ওই সমাজ আর মানুষের বসবাসযোগ্য থাকে না। তাই আমরা আশা করবো আমাদের প্রশাসন এবং রাজনীতিবিদরা এমন ভূমিকা পালন করবেন যাতে আমাদের সমাজ দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য বসবাস উপযোগী থাকে। তবে প্রসঙ্গত এখানে  দুঃখের সাথে উল্লেখ করতে হয়, ঘটনার পরপরই অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই শাসকদলের নেতারা যেভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অভিযুক্ত করে চলেছেন, তাতে গুরুতর বিষয়টিকে তারা হাল্কা করে ফেলছেন। এমন কাজে মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিরাও জড়িয়ে গেছেন। তাদের জন্য বলা প্রয়োজন যে, ব্লেমগেম কখনো সত্য ও সুবিচারের সহায়ক হতে পারে না। বরং এতে প্রকৃত অপরাধীরা নিরাপদ থাকার সুযোগ পেয়ে যায়।
এমপি নিহত হওয়ার ঘাটনায় সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ হয়, হরতাল হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব ও বিজিবি। এ ঘটনায় অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকা-ের সাথে জড়িতরা উগ্রবাদী, জামায়াত নাকি দলীয়, পারিবারিক, আর্থিক না ব্যক্তিগত বিরোধের সাথে সম্পৃক্ত তা খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ এমন অবস্থায় শাসকদলের নেতারা ঘটনার জন্য দায়ী করে চলেছেন জামায়াতকে, কখনো বিএনপি-জামায়াতকে, কখনো চিহ্নিত মৌলবাদীদের। এমন প্রবণতা আইনের শাসন কিংবা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য সহায়ক হতে পারে না। এদিকে এমপি খুন হওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট থেকে জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, খুনীদের আড়াল করার হীনউদ্দেশ্যে গণগ্রেফতার চালানো হচ্ছে। তিনি ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
আমরাও মনে করি ন্যায় বিচারের স্বার্থে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ