বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চিংড়ি চাষ ও বাজারজাতকরণে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসছে

খুলনা অফিস : বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ফসল চিংড়ি চাষ, বাজারজাত ও রফতানিতে স্বস্তি ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে আসছে। মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ সফলতা এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর নতুন বাজার, আড়ংঘাটা, পূর্ব রূপসা, আলাইপুর, শিয়ালী ও ডোবা বাজার, ফুলতলার জামিরা, ডুমুরিয়া, খর্নিয়া, শাহাপুর ও চুকনগর বাজার, পাইকগাছা, বাগেরহাটের ফকিরহাট, ফলতিতা, ফয়লা, মংলা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ডিপো ও আড়তে বাগদা-গলদা চিংড়ির দেহে বিভিন্ন কেমিকেল জাতীয় পদার্থ পুশ করা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না পুশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের পুশ নির্মূলে কোনো মাথা ব্যথা নেই বলে অভিযোগ আছে। অজ্ঞাত কারণে নিরব ভূমিকা পালন করেছেন তারা।
সূত্র জানায়, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোর অঞ্চলে ৪৩টি মাছ কোম্পানি ও ছোট-বড় এক হাজার ডিপো রয়েছে। এর মধ্যে মাছ কোম্পানি চলমান রয়েছে ২৮টি। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মৎস্য বিষয়ক আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা থাকলেও দায়সারাভাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কতিপয় ব্যবসায়ী। খুলনার বিভিন্ন মাছ কোম্পানিতে এসব পুশকৃত চিংড়ি খরিদ করা হচ্ছে। মাছ কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কারণে ব্যবসায়িরা চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ। অথচ এসব মাছ কোম্পানিগুলোতে পুশ বিরোধী কোনো অভিযান চালানো হয় না।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ১ মে কোস্টগার্ড সিজি স্টেশন রূপসার একটি অপারেশন দল রূপসা সেতু সংলগ্ন পশুর নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার কেজির অধিক পুশকৃত চিংড়ি আটক করে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা। গত ১৯ আগস্ট রূপসায় কোস্টগার্ড এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পৃথক অভিযানে অপদ্রব্য পুশ করা দুই হাজার কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়।
অপরদিকে ডুমুরিয়া থেকে রূপসা সেতুর টোলপ্লাজার দিকে আসা চিংড়ি ভর্তি একটি পিকআপ তল্লাশী করে মেসার্স আলিফ ফিসের মালিক মিঠুন চক্রবর্তীর ১২শ’ কেজি পুশকরা বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। যার দাম ১৫ লাখ টাকা। গত ২০ আগস্ট কোস্টগার্ড স্টেশন রূপসার একটি অপারেশন দল এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর যৌথভাবে পূর্ব রূপসার মেসার্স তালহা ফিসের মালিক নাজমুল হাসানের ডিপোতে অভিযান চালায়। এ সময় চিংড়িতে অপদ্রব্য (জেলি) পুশ করা সরঞ্জামসহ ৮শ’ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। এসব চিংড়ি আংশিক পুড়িয়ে ও রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। পৃথক এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী মোর্শেদ। গত ২৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে পূর্ব রূপসা এলাকায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী পৃথক দু’টি অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় মেসার্স জননী এন্টারপ্রাইজে অপদ্রব্য পুশের সরঞ্জাম আয়োজনের অপরাধে ডিপো মালিক আব্দুল হাকিমকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজে অপদ্রব্য পুশ করা জেলি পাওয়ার অপরাধে ডিপো মালিক আনিছুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আউয়াল। গত ৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব রূপসায় তিনটি ডিপোতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ৩ হাজার ১৪০ কেজি বাগদা ও গলদা চিংড়ি জব্দ ও পাঁচ জনকে দু’বছরের বিনাশ্রম কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম। অভিযানে জেলী ও পুশ করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পাওয়ায় মেসার্স চৌধুরী ফিস থেকে এক হাজার কেজি বাগদা, মেসার্স অপ্সরী জ্যোতি ফিস থেকে দেড় হাজার কেজি গলদা ও মেসার্স কালু ফিস থেকে ৬৪০ কেজি গলদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা চিংড়ির মধ্যে অপদ্রব্য পুশ করা ১৭শ’ ৪০ কেজি চিংড়ি জনসম্মুখে রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। বাকি ১৪শ’ কেজি চিংড়ি ঘটনাস্থলে প্রকাশ্যে নিলামে ৩৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার আশাশুনির মৈশাকুড়ার মেসার্স তাইফুর ফিসে পুশ বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় অপদ্রব্য পুশ করার দায়ে ২শ’ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ ও ডিপো মালিককে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে পুশকরা চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর খুলনা’র উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। গত ৩ নবেম্বর র‌্যাব-৬ ও মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর ডুুমুরিয়া বাজার এলাকার মেসার্স সাত্তার ফিসের ডিপোতে অভিযান চালায়। চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অপরাধে এ সময় চারশ’ কেজি গলদা চিংড়ি জব্দ করা হয়। ডিপো মালিক মো. সাইদুল ইসলামকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। জব্দকরা চিংড়ি রূপসা খানজাহান আলী সেতু এলাকায় এনে রূপসা নদীতে বিনষ্ট করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম ও মোঃ আমিনুল ইসলাম। গত ১৪ নবেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬’র একটি বিশেষ দল মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সহযোগিতায় দুপুর ১টার দিকে পূর্ব রূপসাস্থ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহ সড়ক সংলগ্ন মেসার্স এস এন ফিস ও মেসার্স আলভি ফিসে পুশ বিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে অপদ্রব্য পুশ করা ১০৫ কেজি বাগদা চিংড়িসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস ওয়াহিদ মেসার্স এস এন ফিসের মালিক নাসির আহমেদ ও শফিকুল ইসলামকে তিন লাখ এবং আলভি ফিসের মালিক আনছার আলীকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন। পুশকরা চিংড়ি রূপসা নদীতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরুজ্জামান, মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকতা তৌফিক মাহমুদ, মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন।
মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ খুলনা’র উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় পুশ বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ