শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

কাজের এপিঠ ওপিঠ

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের সরকার মুসলিম সরকারি কর্মচারীদের জুমার নামাজের সুবিধার্থে ৯০ মিনিট বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময়ের অভাবে মুসলিম সরকারি কর্মচারীদের শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে অসুবিধা হতো। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের মুসলিম সরকারি কর্মচারীরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ১৭ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত ক্যাবিনেট বৈঠকের পর জানান, মুসলিম সরকারি কর্মচারীদের জুমার নামাজের জন্য বিশেষ বিরতি দেওয়া হবে। শুক্রবার ১২-৩০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতির সময় ধার্য করা হয়েছে। এদিকে রাজ্যে কংগ্রসে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। তারা বলছেন, আগামী বছর নির্বাচন বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমরা উত্তরাখ- রাজ্যের সরকারকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জুমার নামাজ আদায়ে বিরতি প্রদানের সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানাই। তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গেলে বেশকিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়। ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা এতদিন ধরে ওই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন কেন? এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবি অবশ্য পূরণ হয়েছে। ফলে উপলব্ধি করা যায়, সংখ্যালঘু মুসলমানদের দাবিটি অযৌক্তিক ছিল না। তাহলে এতটা কালক্ষেপণ করা হলো কেন? ভারতের সংবিধানতো ওই ব্যাপারে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করেনি। সংখ্যাগুরুদের হিন্দুধর্মও তো ওই ব্যাপারে কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করেনি। তাহলে কী কারণে মুসলিম কর্মচারীরা এতকাল জুমা আদায়ে যৌক্তিক সময় থেকে বঞ্চিত ছিলেন? দুষ্ট রাজনীতি ও সমাজপতিরাই কি সেই জন্য দায়ী? এমনটি হলেতো সংবিধানের আলোকে ভারতের সরকার, রাজনীতিবিদ ও ধর্মগুরুদের ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কিছু করণীয় আছে।
জুমা নামাজ আদায়ে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার বিরতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন আবার বিরোধী রাজনীতিবিদরা কটাক্ষ করছেন। তারা বলছেন, সামনে নির্বাচন থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তারা বলতে চাইছেন, রাজনৈতিক কারণে ধর্মভাবনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। এমন বক্তব্যের কারণে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন যে, ধর্মচেতনার রাজনীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ব্যবহার এক জিনিস নয়।
উত্তরাখ- রাজ্যের সরকার যদি নৈতিকবোধ কিংবা ধর্মভাবনার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে অথবা মানুষের মৌলিক অধিকারকে সম্মান করে জুমা আদায়ে বিরতি দিয়ে থাকেন, তাহলে কাজটি অবশ্যই সঙ্গত হয়েছে। আর যদি নিছক ভোটের রাজনীতির কারণে কোনো চালাকি করা হয়ে থাকে, তবে তা হবে তাদের জন্য অসম্মানজনক। তবে কাজটি যে ইতিবাচক হয়েছে তা বলতেই হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ