শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Online Edition

পাঁচ মাসে রফতানি আয় কমেছে ৬ ভাগ


স্টাফ রিপোর্টার :  ব্যাংকগুলোর অনিহার কারণে কৃষি খাতের আশানুরূপ উন্নয়ণ হচেছ না। বিশেষ করে কৃষি ব্যাংকের ঋণদান পরিকল্পনাতেও রয়েছে বড় ধরনের গলদ। খোদ অর্থমন্ত্রী নিজেই কৃষি ব্যাংকের সব শাখাকে কৃষি ছাড়া অন্যসব ধরনের বাণিজ্যিক ঋণদান বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে গুরুত্ব না থাকায় কৃষি খাতের রফতানি আয়ও চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে শতকরা ৬ ভাগ কমে গেছে। সম্প্রতি রফতানি উন্নয়ণ  ব্যুরো এই তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা; যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ কম। একইসঙ্গে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায়ও এই খাতের রপ্তানি আয় ২ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইপিবি তাদের দেয়া তথ্যে আরও জানানো হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চা রপ্তানিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে এ খাতে আয় হয়েছে ৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। জুলাই-অক্টোবর মাসে সবজি রপ্তানিতে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে আগের অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে তামাকজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার; যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে আগের অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের চেয়ে এই খাতের আয় ২৩ দশমিক ০৬ শতাংশ কমেছে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে ফল রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। আলোচ্য সময়ে মসলা জাতীয় পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এই সময়ের মধ্যে এই খাতে আয় হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। তবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসের মসলা জাতীয় পণ্য রপ্তানি আয়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসের আয় ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে শুকনো খাবার রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের আয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ