শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা

২৯ ডিসেম্বর, দ্য গার্ডিয়ান : যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনায় কোনও কারচুপি বা সাইবার হামলার আলামত না মিললেও ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার হামলার সুযোগ রয়েছে। ভোট পুনর্গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এমন দাবি করেছেন। তাদের দাবি, আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। হামবার্গে অনুষ্ঠিত সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক এক সম্মেলনে তারা আশঙ্কা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভোটিং মেশিন কোম্পানিগুলোকে হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হতে পারে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের দুই শিক্ষক জে অ্যালেক্স হাল্ডারম্যান এবং ম্যাট বার্নহার্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সে দাবিকে আমলে নিয়ে গ্রিন পার্টির নেত্রী জিল স্টেইন ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত কেবল উইসকনসিনের ভোট পুনর্গণনার কাজ বাস্তবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পুনর্গণনা শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ১৩১ ভোট বেশি পেয়েছেন। মিশিগানের ৮৩টি কাউন্টির মধ্যে ২২টিতে পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে ভোট পুনর্গণনা করা হলেও পেনসিলভানিয়ায় ভোট পুনর্গণনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও গণনা শুরুর আগেই সে সম্ভাবনা মরে যায়। তবে গবেষকরা বলছেন, যেসকল কাউন্টি ও নির্বাচন কেন্দ্রের এলাকায় ভোট পুনর্গণনা হয়েছে তা থেকেই অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলে দেওয়া সম্ভব যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের সত্যিকারে বিজয়ী। হামবার্গে অনুষ্ঠিত ক্যাওয়াস কমিউনিকেশন্স কংগ্রেস সাইবার সিকিউরিটি কনভেনশনে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের শিক্ষক ম্যাট বার্নহার্ড এবং জে অ্যালেক্স হাল্ডারম্যান ভোট পুনর্গণনা নিয়ে নিজেদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। বার্নহার্ড বলেন, ‘ভোট পুনর্গণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনের ফলাফল ঠিক ছিল।’ তিনি জানান, পুনর্গণনায় প্রাপ্ত ভোট সংখ্যার ক্ষেত্রে খানিক পরিবর্তন থাকলেও এক্ষেত্রে সাইবার হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ পুনর্গণনা হাল্ডারম্যান ও বার্নহার্ড কাউকেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারেনি যে আমেরিকান গণতন্ত্র নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে তাদের বিপরীত ধারণাই তৈরি হয়েছে বলে জানান হাল্ডারম্যান। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় আমরা দেখেছি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যাকিং করাটা আমার ধারণার চেয়েও সহজ।’ হাল্ডারম্যানের আগের গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন ভোটিং মেশিনের প্রত্যেকটি মডেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সেসময় বলা হয়েছিল, একজন প্রার্থী কতগুলো ভোট পেলেন তার ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড গোপনে নতুন করে লিখতে পারেন হামলাকারীরা। কিন্তু এবারের নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো হাল্ডারম্যান ভোটিং মেশিন প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্রীয়করণের ব্যাপ্তি সম্পর্কে জানলেন। উদাহরণস্বরূপ হাল্ডারম্যান বলেন, মিশিগানের ৭৫ শতাংশ কাউন্টি মাত্র দুটি কোম্পানিকে ব্যবহার করে বলে ধরে নেওয়া হলে দেখা যাবে এ দুই কোম্পানির ২০ জন কর্মী হয়তো তাদের মেশিন লোড করার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের ভোট পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ দুটি কোম্পানির সঙ্গে আপস করাটাই যথেষ্ট।

একইরকমভাবে হাল্ডারম্যানের আগের গবেষণায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং এর জন্য অডিটেবল পেপার-ট্রায়াল এর গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। দুই ধরনের পেপার ট্রায়ালের কথা বলা হয়েছিল। একটি হলো: ব্যালট পেপার স্ক্যান করতে পারে এমন মেশিনের জন্য সরাসরি ব্যালট কিংবা পুরোপুরি ডিজিটাল সিস্টেমের জন্য গণনাযোগ্য রসিদ। তত্ত্বগতভাবে, ওই ধরনের পেপার ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোট হ্যাকিং-এর চেষ্টা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। কিন্তু প্রায়োগিকভাবে গত দুই মাসে এটি সান্ত¡না হিসেবেই সামনে এসেছে।

হাল্ডারম্যান বলেন, ‘এটি খুবই মর্মদায়ক যে অঙ্গরাজ্যগুলো এ ধরনের পেপারের দিকে তাকাতেই চায়নি এমনকি এতো বিস্ময়কর ও কাছাকাছি ব্যবধানের নির্বাচনের পরও তা হয়নি।’

এ দুই বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট পুনর্গণনার অভিজ্ঞতা থেকে তারা এ পরিবর্তনগুলোর সুপারিশ করেছেন।

 সেগুলো হল- প্রথমত, ভোটগ্রহণ প্রযুক্তিকে অভেদ্য করা, দ্বিতীয়ত, ব্যালট কিংবা ডিজিটাল রেকর্ড সরবরাহ করতে পারে এমন ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা। তৃতীয়ত, অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ঝুঁকি সীমিতকরণ নিরীক্ষা’ প্রবর্তন করা যার মধ্য দিয়ে পরিসংখ্যানগতভাবে ভোটের হিসেব তুলে ধরে প্রমাণ দেওয়া যায় যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ