ঢাকা, মঙ্গলবার 14 July 2020, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলের কারণে শান্তিপ্রক্রিয়া বিপদের মুখে: জন কেরি

অনলাইন ডেস্ক: ইস্রায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।জন কেরি বলেছেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্র ধারনার ভিত্তিতে অগ্রসর না হওয়ার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া চরম বিপদের মুখে রয়েছে।এজন্য তিনি ইসরাইলের কট্টরপন্থী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরাইলের এক রাষ্ট্রের ধারণাই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করছে, হুমকির মুখে ফেলছে।তিনি বলছেন, সেই হুমকি রুখতেই শুক্রবারের প্রস্তাবনায় ভেটো দেয়া থেকে বিরত ছিলো যুক্তরাষ্ট্র।যাতে করে প্রস্তাবনাটি পাশ হওয়ার সুযোগ পায়। মি কেরি বলছেন, দুই রাষ্ট্র ধারনার ভিত্তিতে না এগুলে ইসরাইল বা ফিলিস্তিন কারোরই লাভ হবে না।

শীর্ষ ইসরায়েলি ও মার্কিন নীতি নির্ধারকদের বার্ষিক বৈঠক সাবান ফোরামে দেওয়া ভাষণে জন কেরি ইরাইলের কঠোর সমালোচনা করে এসব মন্তব্য করেছেন।

কেরি জানান,  ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রী বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। কেরি বলেন, ইসরায়েল সরকারের অর্ধেকেরও বেশি মন্ত্রী প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে অস্বীকার করছেন।

কেরির বক্তব্যের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের বসতি স্থাপন শান্তিবিরোধী নয়।এছাড়া আরব রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ারও আহ্বান জানান।

মি কেরি বলেছেন, "যদি এক রাষ্ট্র ধারনা বেছে নেয়া হয়, ইসরাইলকে হয় ইহুদি রাষ্ট্র হতে হবে নতুবা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দুটো একসাথে হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তা চেষ্টা করলে ইসরাইল রাষ্ট্র হিসেবে শান্তি পাবে না। অন্যদিকে যদি ফিলিস্তিনকে একক রাষ্ট্র করা হয় তবে সেও তার নিজের অপার সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে পারবে না"

এই বক্তব্যের সূত্র শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে পাশ হওয়া একটি প্রস্তাবনা।প্রস্তাবনায় দখলকৃত ভূমিতে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধের আহবান জানানো হয়।এসব বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ধরণের ভোটাভুটিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ভেটো বা আপত্তি দিয়ে থাকে। আর তাতে ইসরাইল বিরোধী কোন প্রস্তাবনা সাধারণত পাশ হয়না।কিন্তু এই প্রস্তাবে ভেটো না দিয়ে বরং যুক্তরাষ্ট্র ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলো।

আর সে কারণেই প্রস্তাবনাটি পাশ হয়। যা ছিলো মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।

অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানইয়াহু জন কেরির বক্তব্যের পর মার্কিন নীতির এমন রাতারাতি পরিবর্তনকে হতাশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন।

মি. নেতানইয়াহু অভিযোগ করে বলেছেন, "নিরাপত্তা পরিষদে ভোট উত্থাপন, তার অগ্রগতি ও সবকিছু সংগঠিত করা পুরোটাই মার্কিন কারসাজি।" এমন প্রমাণ তাদের কাছে আছে।মি নেতানইয়াহু আরো বলেছেন, ফিলিস্তিন যে ইসরাইলের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না সেটাই সকল সমস্যা মুল।

এসব বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যে ওবামা প্রশাসনের সাথে নেতানইয়াহু প্রশাসনের যে দ্বন্দ্ব সেটা এই এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহে আরো যেনো পরিষ্কার হলও।

কিন্তু সামনের মাসের ২০ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন নতুন রাষ্ট্রনায়ক ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি এক টুইট বার্তায় অবশ্য লিখেছেন ইসরাইলের অসম্মান তিনি সহ্য করবেন না।

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ